Image description
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, ‘বোয়িং কেনা হয়েছে একটি উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বোয়িং কিনেছি। এখানে কোনো হিডেন (গোপন) এজেন্ডা নেই।’
 
আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে হুমায়ুন কবির এ কথা বলেন।
 
বাইরের চাপের মুখে বোয়িংয়ের উ‌ড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, এমন ধারণা নাকচ করে দিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, যাত্রীচাহিদা এবং জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করেই সরকার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরের প্রয়োজনীয়তা যাচাই-বাছাই করছে।
Advertisement
 
 
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, ‘একটি উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই বোয়িং কেনা হয়েছে। যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প–হোয়াইট হাউসের নির্দেশে চারজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। আমাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বোয়িং কিনেছি। ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ বোয়িংয়ের ভারী বিমান ব্যবহার করে আসছে। তবে আমাদের মিশ্র বহরের প্রয়োজন আছে।’
 
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের মধ্যে ২২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। এর আগে গত এপ্রিলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়েছিল। ওই ১৪টি উড়োজাহাজের বাজারমূল্য প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। নতুন করে চুক্তি হওয়া ১১টি উড়োজাহাজের দাম সম্পর্কে জানা যায়নি।
 
সংবাদ সম্মেলনে হুমায়ুন কবির ব‌লেন, ‘এই একবিংশ শতাব্দীতে রুট বাড়াতে হলে এবং এভিয়েশন হাব হতে হলে আমাদের মিশ্র বহর লাগবে। বাংলাদেশের প্রাপ্ত বিমানের বহর আরও অনেক বাড়ানো দরকার। এখানে কোনো লুকায়িত এজেন্ডা নেই। এটি সম্পূর্ণ আমাদের প্রয়োজনের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং খোলামেলাভাবেই আপনাদের জানানো হয়েছে।’
 
প্রয়োজনে বাংলাদেশ আরও বো‌য়িং কিনবে উল্লেখ করে এই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, ‘যাত্রীসেবার মান বাড়ানো এবং একটি ক্রমবর্ধমান এভিয়েশন হাব হওয়ার জন্য আমাদের বহর সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন।’
 
বিমানের ঢাকা-নিউইয়র্ক ফ্লাইট আবার চালু নি‌য়ে এক প্রশ্নের জবা‌বে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ব‌লেন, এ বিষয়ে একটি কারিগরি মূল্যায়ন বা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া চলছে। কারিগরি সমস্যার কারণে ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছিল এবং সরকার এখন এটি আবার চালুর জন্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পর্যালোচনা করছে।