সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েও নিয়োগপত্র পাননি বলে অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী। এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
আজ শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল রবিবার সকালে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন নিয়োগবঞ্চিতরা। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হবেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকরা জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। ওই তালিকায় বিভিন্ন জেলার প্রায় ২ হাজার প্রার্থীর নাম বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
তাদের দাবি, আগামীকাল রবিবারের মধ্যে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করে ১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের নিজ জেলায় যোগদানের সুযোগ দিতে হবে।
এদিকে, শনিবার এ বিষয়ে সংবাদমাধ্যমে একটি বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপ্তি বলা হয়েছে, ‘১ অক্টোবর পর্যন্ত উত্তীর্ণ প্রার্থীদের কেউ নিয়োগপত্র না পেয়ে থাকলে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে তাদের নিয়োগপত্র পাঠানো হবে।’
মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আসিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভেরিফিকেশন/ভেটিং একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এ কারণে নিয়োগপত্র প্রদানে সময়ের পার্থক্য হতে পারে। এ নিয়ে প্রার্থীদের ‘বিভ্রান্ত’ না হওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর অংশ হিসেবে গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় (পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া) একযোগে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত করা হয়।
পরবর্তীকালে গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয় এবং জেলাভিত্তিক ফল প্রকাশ করা হয়।
চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র প্রদান ও ১ অক্টোবর যোগদানের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে বিভিন্ন জেলার কিছু চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থী নির্ধারিত সময়ে নিয়োগপত্র না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।