Image description

সয়াবিন তেলের বাজারে আবারো অস্থিরতার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সরবরাহ কমায় বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেল কম 
পাওয়া যাচ্ছে। তেলের দাম আরেক দফা বাড়ানোর জন্য মিলগেট থেকে সরবরাহ কৌশলে কমিয়ে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগ উঠেছে অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় ডিলার পর্যায়ে সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী সয়াবিন তেল না পাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকরা।

চলতি মাসের শুরুতেই বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়েছিল ভোজ্য তেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন। মূল্যবৃদ্ধির পর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম হয় ২০৪ টাকা। এর আগে প্রায় দুই মাস ধরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কম ছিল। মূল্যবৃদ্ধির পর বাজারে বোতলের সয়াবিন তেলের সরবরাহ বেশ কিছুদিন ঠিক ছিল। এখন আবার তা কমেছে।

এদিকে বাজারে খোলা সয়াবিন তেল খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকায়। যা নির্ধারিত দামের চেয়ে ১৫ টাকা বেশি। অর্থাৎ সরকার নতুন করে মূল্য নির্ধারণ না করলেও অসাধু চক্র বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি করছে। রাজধানীর বাজারে কিছু মুদি দোকানে এক ও দুই লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া গেলেও বেশির ভাগ দোকানে কম পাওয়া যাচ্ছে না। মুদি ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে এক ও দুই লিটারের সয়াবিনের চাহিদা বেশি। ২০ কার্টন অর্ডার দিলে ডিলাররা ২-৪ কার্টন দেয়। কৌশলে তারা আগের মতো দাম বাড়ানোর জন্য সরবরাহ কমিয়ে দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। বিক্রেতারা বলেন, বাজারে কম পরিমাণে তেল সরবরাহ করছে কোম্পানিগুলো। তারা সয়াবিন তেলের দাম আরও কিছুটা বাড়াতে চায় বলে ডিলাররা তাদের জানিয়েছেন।

অন্যদিকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে দাম সমন্বয়ের কারণ দেখিয়ে ১১ই জুলাই ভোজ্য তেল লিটারে ৮-১০ টাকা বাড়াতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় ভোজ্য তেল পরিশোধন ও উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলো। তখন প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম খুচরা বাজারে ১০ টাকা বাড়িয়ে ২০৯ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া লিটারপ্রতি ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫ লিটারের বোতল এক হাজার ১৫ টাকা এবং খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ৮ টাকা বাড়িয়ে ১৮৮ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছিল। একইভাবে খোলা পাম তেলের দামও লিটারে ১৩ টাকা বাড়িয়ে ১৮৩ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। তখন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি সরকার। চিঠি দেয়ার সপ্তাহ পর একদফা বৈঠকও হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে। তবে কোনো মীমাংসা ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক। এরপর ২রা সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ীদের দাবি মেনে বোতলজাত এক লিটারের সয়াবিন তেলে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা ও খোলা সয়াবিন তেলে ৪ টাকা বাড়িয়ে ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে দাবি মোতাবেক লিটারে ১০ টাকা না বাড়ায় ব্যবসায়ীরা সরবরাহ কমিয়ে ফের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

কাওরান বাজারের একজন সয়াবিন তেলের ডিলার জানান, ফের তেলের দাম বাড়াতে চায় কোম্পানিগুলো। এজন্য ডিলার পর্যায়ে সরবরাহ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। কোম্পানি তেল না দিলে আমরা খুচরায় দিবো কীভাবে?
বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন সূত্র জানায়, বিশ্ববাজারে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি আমদানি পর্যায়ে সব খরচ বেড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বেড়েছে পরিবহন খরচও। এসব কারণে বর্তমান বাজারদরের তুলনায় লিটারে ১৮ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ব্যয় গুনতে হচ্ছে। এতে লোকসান হচ্ছে।

কনজ্যুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এসএম নাজের হোসাইন বলেন, দেশের ৪ থেকে ৫টি বড় কোম্পানি সয়াবিন তেলের বাজারের ৮৫-৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। বাকি ১০-১৫ শতাংশ অন্য ছোট কোম্পানি সরবরাহ করে। ওইসব বড় কোম্পানি দেশের চাহিদামতো তেল আমদানির পর রিফাইন করে বাজারে ছাড়ে। বাড়তি মুনাফা করতে তারা বছরের একেক সময় তাদের ডিলারদের মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে দেয়। সরকারকে চাপে ফেলে সাধারণ ভোক্তাকে জিম্মি করে মূল্য বাড়িয়ে নেয়। গত কয়েক বছর একই পন্থায় ওই চক্র সরকারকে চাপে ফেলে মূল্য বাড়িয়ে নিয়েছে। তবুও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বাজারে ৫-১০ টাকা বেশি দামে ভোজ্যতেল বিক্রি করে। এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

২রা সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেছিলেন, বাজারে বর্তমানে ভোজ্য তেলের কোনো সংকট নেই। পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।