Image description

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। গত ২৩ ও ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে পৃথক পৃথকভাবে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ কর্তৃক গত ২৩ সেপ্টেম্বর এক আদেশে বলা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। সরকারের নির্ধারিত অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি অফিসগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ বিভাগ অন-গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

এর অংশ হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব উপযোগী স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করা যাবে। বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে ‘ওপেক্স’ মডেলে অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অর্থায়নে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা যাবে। সব হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। 

গত ২৪ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় দেশের সব উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে এ ব্যবস্থা চালু করতে হবে। পাশাপাশি উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে। নির্দেশনা অনুযায়ী, হাট ও বাজারের ইজারালব্ধ আয় থেকে নির্ধারিত অর্থ ব্যবহার করা যাবে। 

সংশ্লিষ্ট হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত ইজারালব্ধ আয়ের ১০ শতাংশ এবং উপজেলার অন্তর্গত হাট ও বাজারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত আরও ১০ শতাংশ অর্থ থেকে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী কোম্পানির সঙ্গে পরবর্তী ২০ বছর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করতে বলা হয়েছে। 

নির্দেশনা দুটিতে বলা হয়েছে, বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থ বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় অন্যান্য সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।