জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তীব্র ভোগান্তি সৃষ্টি করেছে। নিত্যপণ্যের বাজার থেকে শুরু করে পরিবহন, কৃষি, মৎস্য ও শিল্পÑপ্রতিটি খাতে এর প্রভাব পড়েছে সরাসরি। কৃষকরাও সেচের খরচ নিয়ে আতঙ্কিত। ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নি¤œ আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে। বৈশ্বিক বাজার এবং আশপাশের দেশেও জ্বালানির দাম বেশি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকালও বলেছেন, দাম বাড়ানোর পরও সরকার জ্বালানি খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি দিচ্ছে। কিন্তু এই মূল্যবৃদ্ধি দেশের খেটে খাওয়া মানুষের ওপর প্রচ- চাপ পড়ে গেছে। কাঁচাবাজারে সবজি, চাল, ডাল, ডিম ও মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার বাজার করতেই হিমশিম খাচ্ছে। এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় গতকাল পরিবহন ভাড়া বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। পরিবহনের ভাড়া আদায়ে বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে, যার ফল ভোগ করছে সরাসরি ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীরা। জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দেয়ায় সারাদেশের জনমনে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এক অভূতপূর্ব বক্তব্য দিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি যদি সরকারে না থেকে অ্যাক্টিভিস্ট হতেন, তাহলে এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতেন; হাসিনার সময় হলে শুধু প্রতিবাদ নয়, হাসিনার পদত্যাগ চাইতেন।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির খবর এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। সর্বত্রই এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা-বিতর্ক এবং অসন্তোষ। বাস-ট্রেন এবং অফিস-আদালতে সবার মুখে একই বক্তব্য হঠাৎ করে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি করে সরকার জনগণকে কি বার্তা দিচ্ছে? সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করার নেতিবাচক প্রভাব বাজারে পড়েছে। তার মধ্যেই জ্বালানির দাম বৃদ্ধি যেন ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’। রাজনৈতিক অঙ্গন জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে সরব। জামায়াতে ইসলামী, নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যেই জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে এবং নতুন করে কর্মসূচি দিয়েছে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ইতোমধ্যেই পরিবহন খাতে এর প্রভাব সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ও দৃশ্যমান। বাস, লেগুনা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশায় সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অনেক বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে। স্টেশন ও বাসের ভেতরে চালক-সহকারী ও যাত্রীদের মধ্যে মারমুখী বাগি¦ত-া নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক চালক তেলের খরচ পোষাতে না পেরে গাড়ি নামানো বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে অফিস ও স্কুল-কলেজের সময়ে স্ট্যান্ডগুলোতে হাজার হাজার মানুষকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। দূরপাল্লার পথে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কন্টেনার মুভারের ভাড়া একেক ট্রিপে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। চট্টগ্রাম বন্দরের বার্থ অপারেটররা বিদ্যমান চুক্তির দর পুনর্নির্ধারণের দাবি জানিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছেন। পরিবহন মালিকদের মতে, আমদানি-রফতানি পণ্যের পরিমাণ কম থাকায় একদিকে খালি গাড়ি ফিরছে, অন্যদিকে জ্বালানি ব্যয় বেড়েছেÑ দুই দিকের চাপ সামলাতে বর্তমান বাড়তি ভাড়াও যথেষ্ট নয়। ফলে সামনে ভাড়া আরো বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
কৃষি ও মৎস্য খাতে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বগুড়ার কৃষক করিম মিয়া বলেন, ক্ষেতে সেচ দিতে শ্যালো মেশিনে ডিজেল লাগে; একলাফে ডিজেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ায় এবার সেচ খরচ অনেক বেড়ে যাবে। সার-কীটনাশকের দাম এমনিতেই চড়া। ফসল ফলিয়ে যদি বেচতে গিয়ে আসল টাকাই না ওঠে, তবে তাদের অবস্থা কী হবে তা নিয়ে তিনি গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন। উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে সুখ রঞ্জন দাসের কণ্ঠেও একই আকুতি। তিনি বলেন, গভীর সাগরে মাছ ধরতে গেলে ট্রলারে কয়েকশ’ লিটার ডিজেল লাগে; তেলের নতুন দামে ট্রলার ভাসানোর মতো পুঁজি তাদের নেই। তারা এখন পরিবার নিয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। পটুয়াখালীর ট্রলার মাঝি সুলতান বলেন, বছরের শুরু থেকেই নদীতে ইলিশের আকাল, ধার-দেনায় তারা জর্জরিত; তার ওপর হঠাৎ করে ২০ টাকা তেলের দাম বাড়ানো তাদের ‘মরার ওপর খাঁড়ার ঘা’-এর মতো। এই খরচ দিয়ে ট্রলার চালানো আর তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
রাজধানীর কাঁচাবাজারে এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি পড়েছে। উত্তরবঙ্গ ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ট্রাকে করে ঢাকায় সবজি, চাল ও ডাল আনার খরচ এক ধাক্কায় ২০%-৩০% পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ থেকে শুরু করে ডিম ও মুরগির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে এসে অনেকেই খরচের হিসাব মেলাতে না পেরে ব্যাগে অর্ধেক বাজার নিয়ে মলিন মুখে বাড়ি ফিরছেন। স্কুলশিক্ষিকা রাবেয়া খাতুন বলেন, সংসারের বাজেট পুরোপুরি ভেঙে গেছে। তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে কাঁচাবাজারে সবকিছুর দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এখন আর মাছ-মাংস কেনার কথা ভাবতেই পারেন না; ডিম আর ডাল দিয়ে কোনোমতে দিন পার করছেন। তিনি সরকারের কাছে প্রশ্ন রেখেছেন, তারা কি বাঁচতে দেবে না? মানিকগঞ্জ থেকে সবজি আনা পাইকারি ব্যবসায়ী সাইদুর রহমান বলেন, তার একটি পরিবহনের ভাড়া ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ টাকা হয়েছে। বাড়তি ব্যয় নিজের পকেট থেকে বহন করা সম্ভব নয়; ফলে এই ব্যয় ক্রেতার কাছ থেকে আদায় করতে হবে। তার হিসাবে কিছু সবজির দাম কেজিতে প্রায় ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
শেয়ারবাজারে এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রভাব দেখা গেছে। দাম বাড়ানোর ঠিক পরদিনই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স প্রায় ৪১.৭ পয়েন্ট (০.৭৪%) হারিয়ে ৫,৫৫০ পয়েন্টে নেমে আসে। ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০ কমে যায় ১৫ পয়েন্ট। লেনদেন হওয়া ৩৯৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৫২টি বা তার বেশি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম কমে গেছে, বেড়েছে মাত্র ৯৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৪টি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত খাতের মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল (২% পতন), পেপার (১.৯% পতন) এবং ট্রাভেল খাত। ওয়ালটন, ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো ফার্মা ও সিটি ব্যাংকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের মূল্য সংশোধন বাজারকে নিচের দিকে টেনে নিয়েছে।
বিআইসিডিএ মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার জানান, সরকারিভাবে লিটারে ২০ টাকা করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে; সে হিসেবে ডিজেলের দাম বেড়েছে ১৭.৪ শতাংশ, অর্থাৎ ১১৫ টাকা থেকে তা বেড়ে ১৩৫ টাকা হয়েছে। কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের দাম রয়েছে; তারা সবগুলোতে গড়ে ৯.৮৫ শতাংশ করে বাড়িয়েছেন, যা ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে যাতে কোনো পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি না হয়, সেজন্য বাজারে কঠোর মনিটরিং করবে সরকার। তবে দাম বাড়ার এক দিনের মধ্যেই বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সরকারের কোনো তদারকি চোখে পড়েনি।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এম শামসুল আলমও মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেলে সরকার জ্বালানি খাত থেকে যে রাজস্ব বা ভর্তুকি-সংক্রান্ত সুবিধা পাওয়ার আশা করছে, তার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব শুধু পণ্যের বাজারে সীমাবদ্ধ থাকবে না। পরিবহন, কৃষি, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় বাড়লে পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয়ও বাড়বে। আয় একই থাকলে মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সীমিত আয়ের পরিবারগুলোতে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিত্বদের প্রতিক্রিয়াও তীব্র। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বলেছেন, ৭ মাসে তিন দফায় জ্বালানির দাম বাড়াতে হলো; এভাবে বাড়তে থাকলে আপনারা ৫ বছর ক্ষমতায় থাকবেন কিভাবে? জনগণ কি আপনাদের ক্ষমতায় রাখবে? ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, হঠাৎ করে জ্বালানির দাম একলাফে এত টাকা বাড়িয়ে সাধারণ জনগণকে চরম বিপদে ফেলে দেয়া হয়েছে। তেলের দাম বৃদ্ধি করে জনগণকে এভাবে কষ্টের মধ্যে ফেলা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির আগে সরকারের উচিত ছিল এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অভিঘাতের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় প্রতিটি খাতে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে কৃষিকাজের খরচ বাড়লে তা সরাসরি খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেবে এবং দৈনিক মজুরিভিত্তিক ও বেসরকারি খাতের সাধারণ শ্রমিকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমরা উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের মতো একটি চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।
এদিকে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশে তেল পাচারের ঝুঁকির কারণেও এই দাম বাড়ানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সিপিডির গবেষক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ইনকিলাবকে বলেন, পাচারের ঝুঁকি অমূলক নয়, তবে এটি মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ নয়। তাই প্রতিবেশীদের দিকে আঙুল না তুলে নিজস্ব জ্বালানি নীতির দুর্বলতা দূর করাই এখন জরুরি।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসা ও শিল্পÑসবাইকে আঘাত করবে। এটি মূল্যস্ফীতি বাড়াবে, উৎপাদন ও পরিবহন খরচ বাড়াবে এবং অনেক ব্যবসায়ীকে তাদের ব্যবসা ছোট করতে বা কর্মী ছাঁটাই করতে বাধ্য করতে পারে। বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার বা যুদ্ধের অজুহাত দিয়ে সরকার মূলত বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়ন করছে এবং এর পুরো দায় চাপিয়ে দিচ্ছে সাধারণ জনগণের ওপর। অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি পারভেজ আহমেদ তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে জিনিসপত্রের দাম অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়বে। মানুষ চাকরি হারাবে, অন্যদিকে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবে। সরকার যে কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল, এমন পরিস্থিতিতে তা আর কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব হবে না।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশজুড়ে জেলাভিত্তিক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, ময়মনসিংহ, রংপুর, কুমিল্লা ও বরিশালে বড় ধরনের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করা না হলে আরো কঠোর ও বৃহত্তর গণআন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
জনগণের ভোগান্তির মধ্যে সৃষ্ট এই সংকটে ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের সুপারিশÑবাজারভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর নজরদারিÑঅত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। অন্যথায় উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস ও সামাজিক অসন্তোষ আরো গভীর রূপ নিতে পারে।