Image description

কুড়িগ্রামে যেন সার সংকট কাটছেই না। একের পর এক ঘটনা ঘটে চলছে জেলাটিতে। কৃষি কর্মকর্তাকে ধাওয়া, সড়ক অবরোধ ও ‘সার লুটের’ পর এবার সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশ কৃষক।

অভিযোগ উঠেছে, উলিপুরে কৃষকের ভিড় দেখে সার বিতরণ না করেই সরে গেছেন সার ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে বাঁশ ফেলে ও সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। বিক্ষোভে কুড়িগ্রাম-চিলমারী আঞ্চলিক সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন অনন্তপুর এলাকায় ঘটেছে এ ঘটনা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। প্রশাসনের উপস্থিতিতে ২১৫ বস্তা সার প্রায় ৫০০ কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

কৃষকরা জানান, মঙ্গলবার সকাল থেকে নতুন অনন্তপুর এলাকায় মেসার্স সুফিয়া এন্টারপ্রাইজের সামনে সার নিতে কৃষকরা জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে সেখানে কয়েকশ কৃষকের উপস্থিতি দেখা দেয়। সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উমর ফারুক ও নকুল কুমার এবং সার ডিলার প্রতিষ্ঠানটি না খুলেই সেখান থেকে চলে যান।

সার নিতে এসে ডিলার ও কৃষি কর্মকর্তাদের না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন কৃষকরা। একপর্যায়ে তারা ডিলারের দোকানের সামনে বাঁশ ফেলে এবং সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করেন। এতে সড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি পড়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে যান চলাচল।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর প্রশাসনের উপস্থিতিতে সার বিতরণ শুরু করা হয়।

কৃষক আব্দুল আজিজ, আজিজার রহমান, আব্দুর রহিমসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, কয়েক দিন ধরে ডিলারের কাছে ঘুরেও তারা সার পাচ্ছেন না। মঙ্গলবার সার দেওয়ার কথা থাকায় সকাল থেকেই তারা অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু ডিলারের লোকজন না আসায় বাধ্য হয়ে সড়ক অবরোধ করেছেন।

সার ডিলার মেসার্স সুফিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী সামছুল আলম বললেন, ‘সার বিতরণে কিছুটা দেরি হওয়ায় কৃষকরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে সুন্দরভাবে সার বিতরণ করা হয়েছে।’

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উমর ফারুকের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কথা বলার জন্য তার কার্যালয়ে দেখা করতে বলেন। এরপর ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অপর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নকুল কুমারের মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার জানান, সার বিতরণের আগেই কিছু লোক সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে কোনো সমস্যা নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম বললেন, ‘ডিলার ও সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের ম্যানেজ করতে না পারায় কিছুটা সমস্যা হয়েছিল। পরে সবার উপস্থিতিতে সার বিতরণ করা হয়েছে। তেমন কোনো সমস্যা হয়নি।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, ‘কৃষকের উপস্থিতি দেখে সার ডিলার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কিছুটা ভয় পেয়েছিলেন। পরে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসে।’

এর আগে জেলার ভূরুঙ্গামারী, রৌমারী, রাজিবপুর ও নাগেশ্বরীতেও সার না পেয়ে কৃষকদের বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।