মৌসুমি নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তাল হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। প্রবল ঢেউ ও ঝড়ো বাতাসে টিকতে না পেরে মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে গভীর সাগর ছেড়ে কূলে ফিরতে শুরু করেছেন জেলেরা। ইতোমধ্যে শত শত ট্রলার সুন্দরবনসহ উপকূলের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে।
বাগেরহাটের শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন ঘাটে অর্ধশতাধিক ট্রলার নোঙর করে থাকতে দেখা গেছে। এসব ট্রলার দুই দিন আগে সাগর থেকে মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরেছিল। আহরিত মাছ বিক্রি শেষে ফের সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন জেলেরা। এর মধ্যেই হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় তারা আর সাগরে যেতে পারেননি। ফলে ঘাটে অলস সময় কাটাচ্ছেন জেলেরা।
শরণখোলার রাজৈর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়ৎদার মো. কবির হাওলাদার বললেন, ‘দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সাগরে নামার উপায় নেই। সাগর থেকে মাছ নিয়ে ফিরে আসার পর আর যেতে পারেনি জেলেরা। দুই দিন ধরে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাট এবং রায়েন্দা খালসহ বিভিন্ন মৎস্য ঘাটে ট্রলারগুলো নোঙর করে আছে। এতে জেলেরা বসে বসে খাওয়ার ফলে লোকসান গুণতে হচ্ছে মহাজনদের।’
শরণখোলা উপজেলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন জানান, ঝড়ো বাতাস আর উত্তাল ঢেউয়ে টিকতে না পেরে গভীর সাগর থেকে সব ফিশিং ট্রলার কূলে ফিরে এসেছে। কয়েকশ ট্রলার শরণখোলাসহ উপকূলের মহিপুর, খেপুপাড়া, নিদ্রাসখিনা ও পাথরঘাটায় এবং পূর্ব সুন্দরবনের মেহেরআলী ও ভেদাখালী এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে।
মৎস্যজীবী নেতা আবুল হোসেন আরও বললেন, ‘একে তো তেলের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হওয়ায় দিশেহারা মহাজনরা। অন্যদিকে একের পর এক দুর্যোগের কবলে পড়ে মৌসুমের প্রায় অর্ধেক সময় মাছ ধরা বন্ধ থাকে। ফলে ঋণের চাপে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে আমাদের।’
সাগরসংলগ্ন দুবলার চরের মেহেরআলী লাইট হাউসের কর্মী সবুজ হাওলাদার জানান, সাগর খুবই উত্তাল। ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। সাগরে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে। শত শত ফিশিং ট্রলার উপকূলে ফিরে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। বেশ কয়েকটি ট্রলার সুন্দরবনের মেহেরআলী ও ভেদাখালী খালে নিরাপদে অবস্থান করছে।
পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের দুবলা জেলে পল্লীর বিশেষ টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ফরেস্ট রেঞ্জার মিলটন রায় জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগরে কোনো ফিশিং ট্রলার নেই। সুন্দরবনে আশ্রয় নেওয়া ট্রলার ও জেলেদের নিরাপত্তায় টহল জোরদার করা হয়েছে।