Image description

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, ‘এই সরকারের জেনে-বুঝে জনগণকে অসন্তুষ্ট করার তো কোনো কারণ নেই। এই সরকার হাসিনার মতো লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনে প্যাকেজ ধরে ওর কাছ থেকে এত টাকা নিলাম, ওকে জিতিয়ে দিলাম—এটা করবে না। একটা নির্বাচন হবে, একটা ঝুঁকি আছে। ঝুঁকি নেই তা বলছি না, কিন্তু আবারও বলছি—জনগণের একটু কাইন্ড হওয়া দরকার। কারণ সরকারের তো আসলে কত ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব?’

আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ের সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘বিশ্ববাজারে যেখানে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে কমেছে, মাঝখানে এই মাসেই ১৫ তারিখে ১০৯ ডলার পর্যন্ত হয়েছিল। এখন কিন্তু সেটা আরো খানিকটা কমেছে। সেই বাস্তবতায় ২০ টাকা বাড়ানো, এটা আসলে সাধারণ মানুষ—তাদের জন্য মরার উপর খাঁড়ার ঘা হবে কিনা?’

প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, আমি দেখেছি গতকাল বা জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সময় অনেকে এরকম হেডলাইন করেছেন যে—জ্বালানি তেলের মূল্য কমার সময় দাম বাড়ানো হয়েছে। একটু যদি বলি, আমাদের জ্বালানির সময়টা সামনে খুব ভালো না। গত দুই-তিন দিনে কিছু টাকা, সামান্য ২-৩ পার্সেন্ট কমেছে, এখনো ১০০ ডলারের বেশি। ক্রুড অয়েলের দাম কিছুটা কমেছে, কিন্তু এটা আসলে সাস্টেইন করার সম্ভাবনা নেই। আরো যদি কমে, যেই জায়গায় আছে তারপরও অনেক—প্রায় ৯০ টাকা ভর্তুকি দিতে হয় প্রতি লিটারে ডিজেলের ক্ষেত্রে। ৩০ টাকা বাড়ানোর পরও এখনো একটা বড় ভর্তুকি আছে। আমরা ধরে নিলাম কাগজে-কলমে যদি কিছুটা কমেও, ঘুরেফিরে আসলে পরিস্থিতি একই থাকবে।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু আমরা যদি গ্লোবাল পরিস্থিতি নিয়ে একটু আলোচনা করি—মিডল ইস্ট ক্রাইসিস তো আছেই, আমাদের স্ট্রেইট অব হরমুজের কথা আমরা জানি, এখন স্ট্রেইট অব বাব-এল-মানদেবের কথা জানি। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, সৌদি আরব তার যথেষ্ট অয়েল এখন এক্সপোর্ট করতে পেরে উঠছে না। ওদের একটা ইস্ট-টু-ওয়েস্ট পাইপলাইন আছে, যেটা দিয়ে তারা চেষ্টা করে। যেহেতু স্ট্রেইট অব হরমুজে ক্রাইসিস হচ্ছে, তারা এদিক দিয়ে এক্সপোর্ট করবে। সেটাও অ্যাটাক হয়েছে বা সেটাও এখনো নিশ্চিত না এবং হুতিদের সাথে সৌদিদের ক্রাইসিসটা ভালো পর্যায়ে এখনো পৌঁছেনি, নানানভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অয়েল এস্টাবলিশমেন্টের ওপরে ইউক্রেন অ্যাটাক করছে। আপনারা যে কেউ অনলাইনে সার্চ করলে দেখবেন, রাশিয়ার মতো এত সমৃদ্ধ দেশ—রপ্তানি দূরে থাক, তার নিজের দেশেই তেলের ক্রাইসিস হয়েছে জুলাইতে, আগস্টে। কিছুদিন আগে আবার যখন অ্যাটাক হয়েছে। রাশিয়ার ইতিমধ্যে এক ধরণের ক্রাইসিস তৈরি হয়েছে যে—কোনো গ্যাস স্টেশন বা পেট্রোল স্টেশনে আপনি সহজে তেল নাও পেতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চাইছেন ইউক্রেন যেন রাশিয়ার অয়েল এস্টাবলিশমেন্টে অ্যাটাক না করে। কিন্তু ইলেকট্রনের দিন চার-পাঁচ দিন আগেও দেড় হাজারের বেশি ড্রোন দিয়ে মস্কো এবং অয়েল রিফাইনারিগুলোতে অ্যাটাক করা হয়েছে। সামনে তেলের ভবিষ্যৎ যদি আপাতত দেখি যে দুডলার কমেছে, এই অবস্থা আসলে থাকবে এটা মনে করা ঠিক হবে না। এটা আরো বেশি খারাপ পরিস্থিতিতে যাওয়ার ঝুঁকি আছে। সে বিবেচনায় আমরা মনে করি বাড়ানো ঠিক আছে।

সরকারের জনপ্রিয়তার বিষেয়ে তিনি বলেন, আমরা কাইন্ডনেস জনগণের কাছে চাইব। জনগণের কষ্ট হচ্ছে। আমরা আগেও যখন অয়েল নিয়ে কথা বলছি, এটা কোথায় হচ্ছে না? রীতিমতো আমেরিকাতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা যেটা বলছি, প্রেসিডেন্ট বারবার চাইছেন তেলের দামটা যাতে ঠিক রাখা যায়। কারণ উনার মিডটার্ম ইলেকশনে পরাজিত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে।

ধরুন আমাদের মিডটার্ম ইলেকশন নেই, কিন্তু আমাদের তো একটা লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশন আছে। এই সরকার জেনে-বুঝে জনগণকে অসন্তুষ্ট করার তো কোনো কারণ নেই। কারণ এই সরকার হাসিনার মতো লোকাল গভর্নমেন্ট ইলেকশনে প্যাকেজ ধরে ‘ওর কাছ থেকে এত টাকা নিলাম, ওকে জিতিয়ে দিলাম’—এটা করবে না। এটা নির্বাচন হবে, একটা ঝুঁকি আছে। ঝুঁকি নেই তা বলছি না, কিন্তু আবারও বলছি—জনগণের একটু কাইন্ড হওয়া দরকার। কারণ সরকারের তো আসলে কত ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব?