Image description

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্প-২০২৬-এর উদ্বোধনী নামফলকে জাকসু সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের নাম থাকায় ছাত্রদলের ক্ষোভের মুখে সেটি সরিয়ে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নামফলক প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ক্যাম্পাসের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন স্থাপনার উদ্বোধনী নামফলক বা ভিত্তিপ্রস্তরে কেবল প্রধান অতিথি বা যিনি উদ্বোধন করেন তার নামই উল্লেখ করা হয়। তবে 'জাবি মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্প-২০২৬'-এর উদ্বোধন-সংক্রান্ত নামফলকে উপাচার্যের নামের পাশাপাশি জাকসু জিএসের নাম উল্লেখ ছিল, যা প্রচলিত প্রশাসনিক রীতির ব্যত্যয়। এ কারণে প্রশাসন নামফলকটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে পরে অবহিত করা হবে।

জানতে চাইলে জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, ছাত্রদলের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল আধুনিকায়নের নামফলক ভেঙেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন! লজ্জা! বছরের পর বছর ধরে ধুঁকতে থাকা ‘নাপা সেন্টার’ সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই, আধুনিকায়নও নেই। অথচ শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে যখন আমরা ২৫ লাখ টাকার উন্নয়ন কাজ এনে আধুনিকায়নের চেষ্টা করলাম—সকালে ইট, বালু, সিমেন্ট এনে কাজ শুরু করতেই প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে বলা হলো, মাজহার, কাজ আপাতত স্থগিত রাখতে হবে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, কিন্তু কেন?? কোনো সদুত্তর না পেলেও আমরা জানি, আসল কারণ নামফলকে জাকসু জিএসের নাম থাকা। নাম থাকা বা না-থাকা আমাদের কাছে কোনো বিষয় না, নামধামের জন্য আমরা কাজ করিও না। কিন্তু একটি ছাত্রসংগঠনের গাত্রদাহ আমলে নিয়ে প্রশাসন আজ তাদের সাথে নিয়ে যা করলো, তা চরম সংকীর্ণ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি!

পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণবিষয়ক সম্পাদক শাফায়েত মীর বলেন, জাবি মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্প-২০২৬ বাস্তবায়নে মূলত মুখ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন জাকসু সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। তার প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক উদ্যোগেই প্রকল্পটি অর্জিত ও সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছিল। তবে বাস্তবায়নে তার মূল অবদান থাকলেও প্রশাসনিক রীতিনীতি ও রাজনৈতিক কারণে উদ্বোধনী নামফলক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে নাম। তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি!