Image description

ইরানের তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ফরাসি ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র বিচারিক আদেশের পর রবিবার বন্ধ করে দিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলে দেশটির ঘাঁটি ও স্বার্থে ধারাবাহিক হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী।

কর্তৃপক্ষ বলেছে, লাইসেন্স নেওয়ার জন্য বারবার সতর্ক করা হলেও কেন্দ্রটি বছরের পর বছর বিদেশি ভাষা শিক্ষাদানের আড়ালে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। ইরানি সংস্কৃতি ও জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডের অভিযোগও করা হয়েছে কেন্দ্রটির বিরুদ্ধে। এর মধ্যে নেটওয়ার্ক শনাক্ত ও গড়ে তোলা এবং দক্ষ ইরানিদের দেশ ছাড়তে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সতর্ক করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আবার সামরিক অভিযান শুরু করলে দেশটির ঘাঁটি ও স্বার্থে ধারাবাহিক হামলা চালানো হবে।

ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র আবারও সামরিক অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন তথ্য তেহরান পেয়েছে।

বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলার জবাবে দেশটির ঘাঁটি ও স্বার্থে ধারাবাহিক হামলা চালানো হবে।’

এর আগে রবিবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের কালিবাফ বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে তেহরানের শর্তগুলো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনকে জানানো হয়েছে।

কালিবাফের বক্তব্য, ‘এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত, ইরানি জনগণের বৈধ অধিকার স্বীকৃত না হওয়া পর্যন্ত এবং মার্কিন প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আগের আলোচনার পরিস্থিতিতে ফেরার বা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকবে না।’

তিনি আরও বললেন, ‘বার্তাগুলো পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের কাছে আমাদের শর্তগুলো স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে।’

এর আগে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাইও বলেছিলেন, তেহরানের সাতটি শর্ত বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা পুনরায় শুরু করা সম্ভব নয়।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে ইরানের দেওয়া হুমকির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং দেশটির বন্দরগুলোর ওপর চাপ বজায় রেখেছে।

সূত্র: রয়টার্স, আল-আরাবিয়া