সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন হতে যাচ্ছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত তৃতীয় টার্মিনাল। এটি চালুর সঙ্গে আরো একটি সুখবর নিয়ে এসেছে সরকার। মার্কিন বিমান প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়ের চুক্তিও এই সপ্তাহেই চূড়ান্ত করা হবে। বাংলাদেশ বিমান মার্কিন বোয়িং কোম্পানির সাথে প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার অধীনে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি ৭৮৭-৯ এবং ৪টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্সসহ মোট ১৪টি আধুনিক উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে ঢাকা ছাড়বেন। পাশাপাশি আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে নিউইয়র্ক থেকে ঢাকার ফিরবেন। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও বৈঠক হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। অধিবেশন চলাকালে ১১টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে একটি চুক্তি হতে পারে। অবশ্য ইতোমধ্যে গত ৩১ আগস্ট পাঠানো এক চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এয়ারবাস উড়োজাহাজ যোগ করতে চুক্তি সইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্সের বহরে আরো ২১টি বোয়িং যুক্ত হচ্ছে। বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ইতোমধ্যে অনেকেই বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অনেক প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগের সুযোগ নিতে পাইপলাইনে আছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এক পূর্বাভাসে জানিয়েছে, বর্তমান ধারা অনুযায়ী-২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি ৬৭৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বিশ্বের ৩২তম বৃহৎ অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে।
এই সময়ের মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারে মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোর অর্থনীতিকেও ছাড়িয়ে যাবে। তাই তৃতীয় টার্মিনাল চালু আইএমএফের পূর্বাভাসকে আরো শক্তিশালী করবে বলে মত দিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এদিকে বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের দ্বিতীয় যাত্রী হ্যান্ডলিং অপারেটর হিসেবে কাজের সুযোগ চেয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাভিয়েশন সেবা প্রতিষ্ঠান মেনজিস অ্যাভিয়েশন। প্রতিষ্ঠানটি বিশে^র ৩৪৯টি বিমানবন্দরে সেবা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি কাজ পেলে প্রথম বছরেই এক কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, এ বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রথম বছরেই এক হাজারের বেশি মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান হবে।
পাশাপাশি সরবরাহ শৃঙ্খল ও স্থানীয় অর্থনীতিতে আরো সাড়ে চার হাজারের বেশি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অবশ্য নতুন এই টার্মিনালে যাত্রীসেবা পরিচালনার দায়িত্ব নিতে আগ্রহী আরো একাধিক প্রতিষ্ঠান। যেমনÑ তুরস্কের প্রতিষ্ঠান চেলেবি। বিশে^র ৬০টি বিমানবন্দরের ৭০টি স্টেশনে কাজ করে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠান ডনাটাও আগ্রহী। এটি বিশে^র ৩৫টি দেশের ১৪৬টিরও বেশি বিমানবন্দরে সেবা দিচ্ছে। এছাড়া সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বিমানসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সুইসপোর্টও আগ্রহী। বিশ্বজুড়ে বিমানসেবা খাতে এটি অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। বিশে^র ৪৯টি দেশের ৩১২টিরও বেশি বিমানবন্দরে সুইসপোর্ট তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। একই সঙ্গে বহুজাতিক বিমান পরিবহন ও প্রযুক্তি সেবা সংস্থা এসএটি-এ দ্বিতীয় যাত্রী হ্যান্ডলিং কাজের জন্য আগ্রহী।
অবশ্য দ্বিতীয় যাত্রী হ্যান্ডেলিং অপারেটর হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে আগ্রহ প্রকাশ করলেও এখনো ‘তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রথম পার্টি জাপানি কনসোর্টিয়ামের (চার কোম্পানির জোট) মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারেনি সরকার। যদিও বলা হচ্ছে যেকোনো সময়ে হতে পারে। চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, নিপ্পন কোয়েই ও নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট করপোরেশন সমন্বয়ে গঠিত একটি জাপানি কনসোর্টিয়াম হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃতীয় টার্মিনাল দেশের অ্যাভিয়েশন খাতকে আমূল বদলে দেবে। শুধু যাত্রী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাই বাড়বে না, বরং যাত্রীদের জন্য আরো আধুনিক, নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বার্ষিক যাত্রী হ্যান্ডলিং ক্ষমতা বর্তমানের আট মিলিয়ন থেকে বেড়ে প্রায় ২০ মিলিয়নে পৌঁছাবে। পাশাপাশি উন্নত ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা, দ্রুত ব্যাগ হ্যান্ডলিং (১৫ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে) এবং আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা যুক্ত হবে। একই সঙ্গে রফতানি ও আমদানি বাণিজ্যে কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের প্রশস্ত সুযোগ তৈরি হবে, যা তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য খাতের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করবে, যা বিশে^র কাছে বাংলাদেশের ভাব-মর্যাদা বাড়াবে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে উৎসাহিত হবে এবং আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাবে পরিণত হবে বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের সংযোগস্থলে হওয়ায় দেশকে আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তোলার বড় সুযোগ রয়েছে। এ জন্যই বিমানবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষক প্রফেসর আবু আহমেদ ইনকিলাবকে বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর তৃতীয় টার্মিনালের উদ্বোধন ও বিমানের বহরে ২১ বোয়িং যুক্ত হওয়া বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে একটি বড় ধরনের গতির সঞ্চার করবে। তিনি বলেন, এই টার্মিনাল চালু হলে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, রাজস্ব আয়, কর্মসংস্থান এবং পর্যটন খাতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে এটি দেশের দীর্ঘদিনের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে নতুন করে গতি ও প্রাণ সঞ্চার করবে।
তবে এতদিনেও জাপানের মত বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিংয়ের কাজ প্রদানের চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়ায় কিছুটা হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। প্রফেসর আবু আহমেদ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা ও প্রস্তাব মূল্যায়ন নিয়ে সময় ক্ষেপণ না করে দ্রুত তাদের দেয়ার তাগিদ দেন। প্রফেসর আবু আহমেদ বলেন, অনুমোদনে দেড়ি হলে সমস্যা। দ্রুত করে ফেলতে হবে। করে ফেলেছি বিশে^র কাছে বার্তা দিতে হবে। এতে আন্তর্জাতিক পরিম-লে দেশের ভাব-মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে, কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং নতুন নতুন বিদেশি বিনিয়োগের পথ সুগম হবে বলে উল্লেখ করেন বিশিষ্ট এই অর্থনীতিবিদ।
সূত্রমতে, বর্তমানে টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২-এর মোট আয়তন প্রায় এক লাখ বর্গমিটার। তৃতীয় টার্মিনাল যুক্ত হলে এর সঙ্গে আরো প্রায় দুই লাখ তিন হাজার বর্গমিটার নতুন অবকাঠামো যুক্ত হবে। ফলে তিনটি টার্মিনাল মিলিয়ে মোট আয়তন দাঁড়াবে প্রায় তিন লাখ তিন হাজার বর্গমিটার। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরের কার্গো ব্যবস্থাপনাতেও বড় পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে আমদানি কার্গো ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা ৮৪ হাজার টন। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে তা বেড়ে প্রায় তিন লাখ ৫৭ হাজার টনে উন্নীত হবে। রফতানি কার্গো ব্যবস্থাপনার সক্ষমতাও বেড়ে প্রায় সাত লাখ ৪৭ হাজার টনে উন্নীত হবে।
সূত্র জানায়, যাত্রীসেবার ক্ষেত্রেও বাড়বে সক্ষমতা। বর্তমানে বিমানবন্দরে ৬২টি চেক-ইন কাউন্টার রয়েছে। তৃতীয় টার্মিনাল যুক্ত হলে এ সংখ্যা বেড়ে ১৮৯টিতে দাঁড়াবে। পাসপোর্ট নিয়ন্ত্রণ কাউন্টার থেকে বেড়ে ২৩৬টি হবে। ভবিষ্যতে বোর্ডিং গেটের সংখ্যা ৩৪টিতে উন্নীত করার সুযোগ থাকবে। কার পার্কিং সুবিধাও বর্তমানে ৮০০টি গাড়ি থেকে বেড়ে প্রায় দুই হাজার ৩০টি গাড়িতে উন্নীত হবে।
একই সঙ্গে তৃতীয় টার্মিনাল চালু করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করা গেলে আন্তর্জাতিক পরিম-লে বাংলাদেশের ভাব-মর্যাদা আরো উজ্জ্বল হবে। ইতোমধ্যে ১২টির বেশি বিদেশি এয়ারলাইন্স ঢাকায় নতুন ফ্লাইট পরিচালনা বা তাদের পরিসর বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন্সগুলো (বিমান, ইউএস-বাংলা, এয়ার এস্ট্রা ও নভোএয়ার) তাদের বহরে নতুন বিমান যুক্ত করার ও বহর বড় করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
এদিকে তৃতীয় টার্মিনালের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রী হ্যান্ডলিংয়ের সুযোগ পেলে তাদের বিনিয়োগ শুধু বিমানবন্দর কেন্দ্রিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ থাকবে না বলে উল্লেখ করেছে মেনজিস। বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন খাতের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে ঢাকায় একটি ‘মেনজিস ট্রেনিং একাডেমি’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এই একাডেমির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের অ্যাভিয়েশন প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বেবিচক সূত্র জানিয়েছে, তৃতীয় টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হলে ঢাকা বিমানবন্দর একটি প্রধান আঞ্চলিক অ্যাভিয়েশন হাবে পরিণত হবে, যা যাত্রী ধারণক্ষমতা বার্ষিক ৮ মিলিয়ন থেকে বাড়িয়ে ২৪ মিলিয়নে উন্নীত হবে। আধুনিক কার্গো ভিলেজ ও লজিস্টিকস সুবিধার কারণে কার্গো ও বাণিজ্যের প্রসার হবে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রফতানি পণ্য দ্রুত ও সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্ববাজারে পৌঁছানো সম্ভব হবে। এছাড়া নতুন বোয়িং বিমানগুলোর মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে দীর্ঘদিনের আকাক্সিক্ষত ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বিশাল সুবিধা বয়ে আনবে।
এর মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর বাজার অংশীদারত্ব পুনরুদ্ধার হবে। বর্তমানে ঢাকা থেকে উড্ডয়ন করা আন্তর্জাতিক যাত্রীদের সিংহভাগই বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো বহন করে। নতুন বিমান যুক্ত হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তার যাত্রী বহনের সক্ষমতা বাড়িয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশেই ধরে রাখতে পারবে। অপরদিকে তৃতীয় টার্মিনাল অ্যাভিয়েশন খাতের আধুনিকায়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের এক্সপোর্ট-ইম্পোর্ট ব্যাংকের অর্থায়ন সুবিধা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াবে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা মুডিস বাংলাদেশের অর্থনৈতিক আউটলুক ‘স্থিতিশীল’ হিসেবে উন্নীত করেছে। এটাকে আরো এগিয়ে নিতে উন্নত বিমান যোগাযোগব্যবস্থার দরকার।
এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত সহজ করবে, যা হোটেল, রেস্তোরাঁ ও পর্যটন খাতে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (এটিএম) এয়ার কমডোর মো. নূর-ই-আলম বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরটির যাত্রী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা দুই কোটির বেশি হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে টার্মিনাল-১ ও টার্মিনাল-২ দিয়ে বছরে প্রায় ৮০ লাখ যাত্রীকে সেবা দেয়ার সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে এই দুই টার্মিনাল দিয়ে এক কোটি ২৬ লাখের বেশি যাত্রীসেবা নিচ্ছেন। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে অতিরিক্ত এক কোটি ২০ লাখ যাত্রী ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা তৈরি হবে।
তবে তৃতীয় টার্মিনালের সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে রানওয়ে ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন মো. নূর-ই-আলম। তিনি বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের সঙ্গে কয়েকটি হাইস্পিড ট্যাক্সিওয়ে যুক্ত হওয়ায় রানওয়ে অকুপেন্সি টাইম অনেকাংশে কমেছে। বর্তমানে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ২০ থেকে ২২টি ফ্লাইট হ্যান্ডেল করার সক্ষমতা রয়েছে। ভবিষ্যতে তা সর্বোচ্চ ২৪ থেকে ২৬টি ফ্লাইটে উন্নীত করা সম্ভব হবে।
বেবিচকের এই সদস্য বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরে দ্বিতীয় একটি রানওয়ে ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। কিন্তু ঢাকার বিমানবন্দর চারদিক থেকে আবাসিক এলাকা দিয়ে ঘিরে যাওয়ায় জায়গার সংকট রয়েছে। আরেকটি রানওয়ে তৈরি করলেও সেটিকে ইমার্জেন্সি রানওয়ে হিসেবে ব্যবহার করতে ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেমসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা স্থাপনের জন্য অতিরিক্ত জায়গার প্রয়োজন হবে। রানওয়ের ভবিষ্যৎ নিয়েও পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। বর্তমান রানওয়ের তৃতীয় ওভারলের পর যতটুকু সময় হাতে থাকবে, তার মধ্যে রানওয়ে সংকটের স্থায়ী সমাধান নিয়ে চিন্তা করতে হবে। প্রয়োজনে ভবিষ্যতে অন্য কোনো জায়গায় নতুন বিমানবন্দর চালুর বিষয়েও সরকার পদক্ষেপ নিতে পারে।