Image description

পরিচিত একজনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলছিলেন রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসান। তাদের কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তোলপাড় চলছে। টেলিফোনে ওসি রাকিবুল স্পর্শকাতর বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। তার এই অডিও প্রকাশের পর পুলিশের অভ্যন্তরীণ নানা বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অডিওটি প্রকাশের পর প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে ওসি রাকিবুল হাসানকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তাকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন গতকাল। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্‌ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে গতকাল রাকিবুল হাসানকে ডিএমপি’র কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরের সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্‌ উদ্দিন আহমদ বলেন, প্রশাসনিক কারণে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করে সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। এই বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপটি ওসি রাকিবুল হাসানের কণ্ঠ বলে পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

অডিওতে শোনা যায়, ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসান কোনো এক ব্যক্তির সঙ্গে খোশগল্পে মেতেছেন। সেখানে তিনি বলছেন, ‘জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কতো দুর্বল। ভয়ানক দুর্বল। আসা উচিত। ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে। এই মাসে আসা উচিত ছিল। চলে আসলে এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না। সিনিয়র অফিসাররা সব বিএনপি করছে। আমরা তো বিএনপি করছি না। এই করার জন্য তো আমরা ডিপার্টমেন্টে আসি নাই। তোমরা খাবা-দাবা, .... (গালি) নিয়ে থাকবা, আর আমরা এখানে বসে বসে কাজ করবো, তা তো হবে না।

আইজি’র ড্রাইভার থানার ওসি পদায়ন করছে। আইজি’র ড্রাইভার মনির, এগুলো সহ্য করা যায়? আর কি বলবো? যারা পোস্টিং পাচ্ছে, তার (মনির) কাছে টাকা দিচ্ছে, সকাল বেলা পোস্টিং হয়ে যাচ্ছে। তার (কাকে উদ্দেশ্য করে স্পষ্ট নয়) লজ্জা থাকা উচিত। তার চাকরি ছিল না। এখন যে পদে আছেন, এখানে যে ভালো কাজ করবে, সম্মানজনকভাবে কাজ করবে। সেখানে এক বছর থাকতে পারলে ২শ’, ১শ’ কোটি টাকা এমনি হয়ে যাবে। অডিওতে ওসি রাকিবুলকে পুলিশের বিভিন্ন ফান্ডের জমা টাকার কথা উল্লেখ করতে শোনা যায়।

ওসি পদায়ন নিয়ে অডিওতে ওসি রাকিবুলকে বলতে শোনা যায়, ‘আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) কমিশনার যারা ছিল, তারা ওসি পোস্টিংয়ে টাকা নেয় নাই। যত ওসি বেনজীরের আমলে ছিল, টাকায় কোনো সময় বদলি হয় নাই।’

তিনি বলেন, ‘ডিএমপি, ঢাকা, বাংলাদেশের রাজধানী, ক্যাপিটাল সিটি। এখানকার ওসিরা টাকা দিতে যাবে কেন? এখানে ওসিরা এমনিই যাবে। তোমাদের কাজ করে নিয়ে তোমরা টাকা উঠিয়ে নিবা।’
তিনি বলেন, ‘আমি ভাটারায় একটা কাজ করে দিছি এক স্যারকে। স্যার এক কোটি টাকা নিছে। আমি তো জানতাম না।... (অস্পষ্ট কথা) আমার সঙ্গে শুধু সম্পর্কটা আছে। এই হলো অবস্থা! এইভাবে চাকরি করা যাবে নাকি? অযোগ্য লোকগুলোরে কোন জায়গা ঢুকায় (পদায়ন দেয়) আর যোগ্য লোকগুলোকে চিপাচাপায় রাখছে।’

অডিওতে সেনাবাহিনী নিয়েও কিছু কথা বলেন রাকিবুল। তার ওই কথা অডিওতে স্পষ্ট নয়।
ওদিকে গতকাল রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপি’র গুলশান বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ক্যান্টনমেন্ট জোন) মো. নাজমুল হক মানবজমিনকে বলেন, এখনো ক্যান্টনমেন্ট থানায় নতুন কোনো ওসিকে দায়িত্ব দেয়া হয়নি। নতুন কে আসবে সে বিষয়েও আমাদের জানা নেই। এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে বর্তমানে ওসি তদন্তই থানার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

উল্লেখ্য, এর আগে রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের মিছিলের ঘটনায় গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ এবং গুলশান মডেল থানার ওসি মো. দাউদ হোসেনকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। ওসি রাকিবুল হাসান ক্যান্টনমেন্ট থানায় আসার আগে গুলশান মডেল থানার ওসি’র দায়িত্বে ছিলেন।