ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন এবং তা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাবেক শিক্ষার্থীর ভেঙে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বাংলা ভাষার বিরুদ্ধে জিন্নাহর ঐতিহাসিক অবস্থান ফুটিয়ে তুলতে ছবিটি রাখা হয়েছিল বলে জানিয়েছে ডাকসু কর্তৃপক্ষ। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করতে চাওয়া সেই মুহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতার সমাধিসৌধে খোদাই করা রয়েছে বাংলায় লেখা জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ।

করাচিতে অবস্থিত পাকিস্তানের জনক ও তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর সমাধিস্থল বা মাজার-ই-কায়েদ দেশটির অন্যতম প্রধান দর্শনীয় স্থান। ইতালিয়ান শ্বেত মার্বেলে তৈরি এই সমাধিসৌধে উর্দুর পাশাপাশি বাংলা হরফেও তার জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ খোদাই করা রয়েছে, যা ইতিহাস সচেতন যেকোনো বাংলা ভাষাভাষীকে বিস্মিত ও গর্বিত করে।

জানা যায়, শুধু মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ নন, আরও বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি নেতার কবরেও বাংলা বর্ণমালার ব্যবহার রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন জিন্নাহর ছোট বোন ফাতেমা জিন্নাহ, পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নুরুল আমিন এবং দেশটির সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সরদার আবদুর রব নিশতার। এদের প্রত্যেকের কবরে নাম, জন্ম ও মৃত্যুর তারিখগুলো বাংলা বর্ণমালায় খোদাই করে লেখা রয়েছে।

করাচি শহরের মধ্যস্থলে প্রায় ৬১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই মাজার কমপ্লেক্সটি দেশটির অন্যতম প্রধান জাতীয় প্রতীক। সবার জন্য উন্মুক্ত এই সমাধিস্থলে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। নিয়ম অনুযায়ী, এখানে ২৪ ঘণ্টাই গার্ড অব অনার দেওয়া হয় এবং প্রতি চার মাস পর পর দেশটির সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী পালাক্রমে এ দায়িত্ব পালন করে।