Image description

আগামী শনিবারের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তীতে এটি নিম্নচাপে রূপ নিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সম্ভাব্য এই লঘুচাপের গতিপথ, শক্তি ও প্রভাব সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারছে না আবহাওয়া অধিদপ্তর।

এ প্রসঙ্গে বুধবার সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বরের দিকে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। পরবর্তীতে এটি নিম্নচাপে রূপ নিয়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কিনা তা এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। লঘুচাপটি সৃষ্টি হওয়ার পর এর গতিবিধি দেখে পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা যাবে ।

 

এর আগে ড. ওমর ফারুক আমার দেশকে বলেন, আগামী শনিবারের দিকে বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। পরে তা নিম্নচাপে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হলেও বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানবে কি না, তা লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার পর এর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে বলা যাবে। 

জাতীয়খবর

 

 

আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক আমার দেশকে বলেন, বর্তমানে থাইল্যান্ডের ভূপৃষ্ঠে তাপীয় লঘুচাপ আকারে সিস্টেমটি জন্ম হয়েছে; তা যেকোনো সময় আন্দামান সাগরে আঁচড়ে পড়ে লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। লঘুচাপটি সৃষ্টি হওয়ার পর এর গতিবিধি দেখে এর পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে বলা যাবে ।

 

এদিকে পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে বৃহস্পতিবার ও আগামী শুক্রবার দেশে কমবেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এরপর ২-৩ দিন বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমতে পারে। এসময় দেশের বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হলেও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি বজায় থাকতে পারে।

 

বুধবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে রাঙামাটিতে। তবে এ দিন রাজধানী ঢাকার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও এক ফোঁটাও বৃষ্টি হয়নি । এদিন দেশের সর্বোচ্চ ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে। ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা আগের কয়েকদিনের তুলনায় তাপমাত্রা বেড়ে সারাদেশে ভ্যাপসা গরম দেখা দিয়েছে। এছাড়া আশ্বিনের প্রথম দিনে সারাদেশে বৃষ্টির প্রবণতা কমে ঢাকা, ফরিদপুর, রংপুর, যশোর ও খুলনা জেলাসমূহের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। 

ট্রাভেলগাইড পড়ুন

 

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুধবার সন্ধ্যা ছয়টার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী শনিবারের মধ্যে উত্তর আন্দামান সাগর ও তৎসংলগ্ন পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

 

এতে বৃহস্পতিবার রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

 

এছাড়া ঢাকা, ফরিদপুর, রংপুর, যশোর ও খুলনা জেলাসমূহের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা প্রশমিত হতে পারে। এ দিন সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

 

আগামী শুক্রবার একই পরিস্থিতি থাকতে পারে। তবে আগামী পাঁচ দিনে আবহাওয়ার বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।

 

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সেপ্টেম্বর-নভেম্বর মৌসুমি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে বঙ্গোপসাগরে চার থেকে ছয়টি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সময়ে দেশে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত কম এবং তাপমাত্রা বেশি থাকতে পারে। ফলে বৃষ্টি ও গরম—দুই ধরনের আবহাওয়াই পাল্লা দিয়ে চলতে পারে।

 

তবে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় নিয়ে এখনই আতঙ্কিত না হয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত সতর্কবার্তা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।