Image description

সৌদি আরবের মক্কায় ড্রোন হামলা চালানোর অভিযোগ বুধবার অস্বীকার করেছে হুতি গোষ্ঠী। এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছিল, পবিত্র শহরটির দক্ষিণে একটি ড্রোন বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। সেটি নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করা হয়।

হুতিদের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ বলেছেন, ইয়েমেন মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে—এমন দাবি ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং এর সত্যতার কোনো ভিত্তি নেই’। হুতিদের পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সাবা প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ বক্তব্য।

তিনি বললেন, ‘যারা মক্কা ও পবিত্র স্থানগুলোকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে, তাদের চেয়ে এসব স্থান নিয়ে আমরা বেশি উদ্বিগ্ন।’ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এই অভিযোগকে ‘ইয়েমেনে তারা যে সংকটের মুখে পড়েছে, সেখান থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর’ চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

আল-ফারাহর মতে, ইয়েমেনে সৌদি আরব এখন ‘বাস্তব সংকটে’ রয়েছে। তার ভাষ্য, যুদ্ধ, অবরোধ ও দখলদারত্বের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েও দেশটি তাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।

 

তিনি বলেছেন, সৌদি আরব ‘সমস্যার মূল কারণ থেকে দৃষ্টি সরাতে এবং তাদের নীতির পরিণতি মোকাবিলায় ব্যর্থ হওয়ার পর ইয়েমেনের বিরুদ্ধে মুসলমানদের উসকে দিতে চাইছে’।

তিনি যুদ্ধ বন্ধ, অবরোধ প্রত্যাহার এবং বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য ইয়েমেনিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানান।

তার ভাষ্য, ‘সমাধান পরিষ্কার: আগ্রাসন বন্ধ করুন, অবরোধ তুলে নিন, ইয়েমেনকে একা থাকতে দিন এবং বছরের পর বছর ধরে চলা যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য ইয়েমেনিদের ক্ষতিপূরণ দিন। কেবল তখনই সৌদি আরব নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা করতে পারে।’

আল-ফারাহ সতর্ক করেন, তিনি যাকে ‘আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেছেন, তা অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

তিনি বললেন, ‘যে ব্যক্তি সংঘাতের দরজা খুলবে, তাকে এর পরিণতি বহন করতে হবে।’

তার মতে, সংঘাত অব্যাহত রাখার অর্থ হলো ‘সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ও তেল স্থাপনাগুলোকে নিয়ে জুয়া খেলা।’

 

সূত্র: মিডলইস্ট মনিটর