বরিশাল বিভাগের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশ ভবন জরাজীর্ণ। যে কোনো সময় কোনো না কোনো ভবন ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন ক্লাসে যায় কয়েক লাখ শিক্ষার্থী। সাম্প্রতিককালে জরাজীর্ণ স্কুলভবনে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি যেন চরমে উঠেছে। বেশির ভাগ জরাজীর্ণ ভবনের ছাদের প্লাস্টার খসে আহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক বিদ্যালয় ভবনের দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। এগুলোর ছাদ ঝুঁকিপূর্ণ, দরজা-জানালা ভাঙা। শ্রেণিকক্ষ সংকট তো আছেই। এভাবেই চলছে পাঠদান।
স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের অভিযোগ, বছরের পর বছর সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে। পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অনেক বিদ্যালয় ভবনের পলেস্তারা খসে পড়ছে। কোথাও কোথাও ছাদের রড বের হয়ে গেছে, আবার কোনো কোনো বিদ্যালয়ে সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি ঢুকছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের শেষ নেই অভিভাবকদের। এসব ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস নিতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষকরা।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ে সন্তান পাঠানোর সময় তারা সব সময় আতঙ্কে থাকেন। যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। অনেক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত বেঞ্চ ও আসবাবপত্র না থাকায় শিক্ষার্থীদের মেঝেতে বসে পাঠগ্রহণ করতে হচ্ছে। বাবুগঞ্জ উপজেলার ছানিকেদারপুর স্কুলে গিয়ে দেখা যায় আরও বেহাল। স্কুলটি ১৯৯৭ সালে নির্মাণের পর আর উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। যে কারণে বর্তমানে পাঠদানের অবস্থা নেই স্কুলটিতে। একই অবস্থা উপজেলার ডজনখানেক স্কুলের। উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহজাহান হাওলাদার বলেন, ছানিকেদারপুর স্কুলসহ বেশ কয়েকটি স্কুল ভবন বেহাল। দ্রুত এসব স্কুলে উন্নয়নমূলক কাজ না করলে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
বরিশাল বিভাগে সর্বমোট প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬ হাজার ২৪৩টি। এর মধ্যে ৮৭১টি স্কুলভবন ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করেছে বিভাগীয় শিক্ষা অফিস। বরিশাল বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা দপ্তর থেকে জানা যায়, এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলের তালিকা করে মন্ত্রাণলয়ে পাঠানো হয়েছে বিভাগের ছয়টি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল বরিশালে। বিভাগের ৮৭১টি ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলের ভেতর বরিশাল জেলায় রয়েছে ৩২০টি। বাকি ৫৫১টি বিভাগের অন্য পাঁচ জেলায়।
এর মধ্যে ঝালকাঠি জেলায় ৮৫. ভোলা জেলায় ১১৫, পটুয়াখালী জেলায় ২২, পিরোজপুর জেলায় ১৯৯ ও বরগুনা জেলায় রয়েছে ১৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল। একাধিক শিক্ষক জানান, ভবনের অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে বর্ষাকালে পাঠদান ব্যাহত হয়। ঝড়-বৃষ্টির সময় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হয়। বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের ভবন ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত ঘোষণা করার উপযোগী হলেও নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় পুরনো ভবনেই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, জেলার ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলের তালিকা করে শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। দ্রুত বাস্তবায়ন হলে ভোগান্তি কমবে শিক্ষার্থীদের। ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনের বিষয়ে বরিশাল জেলা শিক্ষা প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, যেসব স্কুলভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ, সেগুলো চারটি ক্যাটাগরিতে তালিকা করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সব স্কুলের সংস্কার ও নতুন ভবনের কাজ অচিরেই শুরু হওয়ার কথা জানান তিনি।