Image description

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম (ইউএনজিএ৮১) উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক যাবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার। তিনি জাতিসংঘ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়া ছাড়াও বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তার সম্মানে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের উদ্যোগে আয়োজিত হবে নাগরিক সংবর্ধনা। এক সপ্তাহের বেশি সময় প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর হওয়ার কথা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী তার আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনে সানফ্রান্সিসকো সফর আপাতত বাতিল করা হয়েছে। কেননা, একটানা বেশিদিন দেশের বাইরে থাকতে আগ্রহী নন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে সরকারি খরচে কোনো ধরনের নাগরিক সংবর্ধনা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ৮ থেকে ১০ দিনের হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ধারণা দিয়েছিল। তবে সফরসূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকনভ্যালিখ্যাত প্রযুক্তিহাব ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিকো যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। তা বাতিল করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিদল হিসেবে ৪ থেকে ৫ জন মন্ত্রী সেখানে যাবেন বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি সূত্র জানিয়েছে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তকে রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক সময় ব্যবস্থাপনা জোরদারের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট নীতি-নির্ধারকরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ফলে দীর্ঘ চল্লিশ বছর পর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের মিলনায়তনে একই সঙ্গে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান ও সভাপতির আসন যেন সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতিতে বিরল এক কূটনৈতিক দৃশ্যপট প্রত্যক্ষ করতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বিশ্ব। সরকারপ্রধানের সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সফরসূচি ও অন্যান্য কর্মসূচি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বলে জানা গেছে।

সফরসূচিতে বড় পরিবর্তন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রীয় কাজের ব্যস্ততা ও সময় সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি কাটছাঁট করা হয়েছে। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সানফ্রান্সিসকোতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একাধিক অনুষ্ঠান ও প্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা থাকলেও তা আপাতত বাতিল করা হয়েছে। সানফ্রান্সিসকো সফর বাতিল হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফর মূলত ‘ওয়াশিংটন ডিসি’ এবং নিউইয়র্ককেন্দ্রিক সভা-সমাবেশ ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকেই সীমাবদ্ধ থাকছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরসূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বরং কাটছাঁট করা হচ্ছে। সফরসঙ্গী কারা হচ্ছেন, কতজন হচ্ছেন কতদিন থাকবেন—এসব নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। তবে প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন এটা মোটামুটিভাবে নিশ্চিত। এরপর নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরপর প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এরপর দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীরা। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র বলছে- সব মিলিয়ে হয়তো ২০ জনের মতো ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হতে পারেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী গতকাল কালবেলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাচ্ছেন এটা নিশ্চিত। তবে তিনি কয়দিন থাকবেন, কী কী সভায় অংশ নেবেন এবং সফরসঙ্গী কারা হচ্ছেন তা ঠিক করা হচ্ছে। সূচি চূড়ান্ত করা হলে জানানো সম্ভব। সানফ্রান্সিসকো না যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাশা। তিনি রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক সময় ব্যবস্থাপনার বিষয়ে খুবই সতর্ক।

বিএনপি চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ও ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু কালবেলাকে বলেন, প্রায় ২০ বছর পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্র আসবেন, এটি আমাদের জন্য খুশির খবর। তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ করে সানফ্রান্সিসকো সফরের ইচ্ছাপোষণ করেছিলেন মর্মে আমরাও প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম; কিন্তু পরবর্তীতে সরকারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হয়েছে। তবে আমরা নিউইয়র্কে যাব এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে, যা করা দরকার তাই করা হবে ইনশাআল্লাহ।

সরকারি খরচে সংবর্ধনা বর্জন সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকারপ্রধানদের বিদেশ সফরে প্রবাসী নাগরিকদের উদ্যোগে বড় পরিসরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়, যার একটি বড় অংশ সরকারি বা দলীয় ব্যবস্থাপনায় বাস্তবায়িত হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি তহবিল বা রাষ্ট্রীয় খরচে তার জন্য কোনো সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা যাবে না। প্রবাসীরা নিজস্ব উদ্যোগে বা ব্যক্তি অর্থায়নে কোনো নাগরিক সৌজন্য সাক্ষাতের আয়োজন করলে তাতে তিনি অংশ নিতে পারেন, তবে তা হবে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও আড়ম্বরহীন।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নেতা গিয়াস আহমেদ। তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। গিয়াস আহমেদ কালবেলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদানের জন্য নিউইয়র্কে আসবেন। তাকে বরণ করতে আমরা বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফর ফলপ্রসূ হবে। তিনি প্রস্তুতি ও নাগরিক সংবর্ধনা প্রসঙ্গে বলেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট কর্তৃক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দেওয়ার কথা ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী আমাকে সরাসরি বলেছেন সরকারি টাকা খরচ করে তিনি সংবর্ধনা নেবেন না। তখন আমি প্রস্তাব দিয়েছি যে, আমাদের টাকা খরচ করে আমরা আপনাকে সংবর্ধনা দেব। কেননা, বিগত দিনেও আমরা নিজের টাকা খরচ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বহুবার সংবর্ধনা দিয়েছি।

গিয়াস আহমেদ বলেন, যদিও বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারি টাকা খরচ করে সংবর্ধনা নিয়েছেন। ড. ইউনূস সাহেবও সরকারি টাকা খরচ করে সংবর্ধনা নিয়েছেন। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী এ ধরনের সংবর্ধনা প্রত্যাখ্যান করেছেন। কেননা, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা খুবই খারাপ। সে কারণেই তিনি সরকারি খরচে সংবর্ধনা নেবেন না বলে জানিয়েছেন। তবে আমরা নিজেদের টাকায় প্রধানমন্ত্রীকে ২৫ সেপ্টেম্বর সংবর্ধনা দেব। সেখানে বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। তার আগে প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। আমরা যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সব নেতাকর্মী তাকে স্বাগত জানাব। সেখানে হাজারো মানুষের সমাগম ঘটবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টায় জাতিসংঘে ঐতিহাসিক ভাষণ দেবেন। আমরাও সেখানে থাকব।

প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরের মূল উদ্দেশ্য জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর সংক্ষিপ্ত করা হলেও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়া এবং মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন রাষ্ট্রের প্রধানদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলো পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে। জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, শ্রম অধিকার এবং প্রযুক্তি খাতে সহায়তার মতো বিষয়গুলো এসব বৈঠকে প্রাধান্য পাবে।

ব্যাপক প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাদের জানা যায়, প্রায় ২০ বছর পর দলীয় চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুক্তরাষ্ট্র আগমন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বেশ কিছুদিন ধরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিএনপি, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি সভা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছাবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। ২৫ সেপ্টেম্বর তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এরপর তিনি বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন কালবেলাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীরা অতীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দীর্ঘদিন পর যুক্তরাষ্ট্র আসবেন এটা আমাদের জন্য খুশির খবর। আশা করি তাকে ঘিরে সব কর্মসূচি সফল হবে এবং আমরা তাকে সংবর্ধনা দেব।

ফ্লোরিডা স্টেট বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইমরানুল হক চাকলাদার বলেন, দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফর ঘিরে আমরা আনন্দিত এবং আশাবাদী। ইনশাআল্লাহ তাকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

যুবদলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি আবু সাঈদ আহমেদ বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর সফল করতে যাবতীয় প্রস্তুতি এরই মধ্যে সম্পন্ন করেছি। আশা করছি প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল হবে ইনশাআল্লাহ।

এদিকে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কোনো কমিটি না থাকায় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা-ক্ষোভ ও বিভাজন তৈরি হয়েছে। পদপদবি না পেয়ে অনেক নেতাকর্মী ক্ষুব্ধ এবং কমিটি না থাকায় অনেকেই পৃথকভাবে কর্মসূচি পালন করেছেন। অথচ আড়াই বছর আগেও শেখ হাসিনার পতনের দাবিতে সক্রিয় এবং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো। সর্বশেষ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হয়ে যুক্তরাষ্ট্র গিয়েছিলেন বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির শীর্ষ নেতারা। সে সময় নিউইয়র্কে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে হেনস্তার ঘটনায় বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা ও প্রশ্ন তৈরি হয়।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতা জানান, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে হামলা-মামলা ও নির্যাতনের শিকার হলেও আজ তাদের কোনো দলীয় পরিচয় নেই। অথচ শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনে বহির্বিশ্বে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভূমিকা ছিল নজিরবিহীন। গত ১৫ বছর অনেকেই বাংলাদেশে আসতে পারেননি। অনেকের পরিবার মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কমিটি গঠনের দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। সর্বশেষ ২০০৫ ও ২০১১ সালে আব্দুল লতিফ (সম্রাট) ও জিল্লুর রহমানের নেতৃত্বে কমিটি দেওয়া হয়, যা ২০১১ সালে ভেঙে দেওয়া হয়। ২০১৫ সালের পর তারেক রহমান কয়েকবার কমিটি গঠনের ব্যাপারে আলোচনা ও লন্ডনে বৈঠক করলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। এমন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক গেলে তার কাছে দ্রুত কমিটি গঠনসহ অন্যান্য সাংগঠনিক বিষয়ে দাবি-দাওয়া জানাবেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।