Image description

চট্টগ্রাম নগরে অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ৬৩ বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত দুই দিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন । তবে ভাষাগত কারণে শিগগির তাঁদের হেফাজতে নিতে পারছে না মামলাটির তদন্ত সংস্থা কাউন্টার টেররিজম ইউনিট । তদন্ত সংস্থা বলছে , গ্রেপ্তার বিদেশিরা চীন , লাওস , ভিয়েতনাম , পাকিস্তান ও নেপাল — এই পাঁচ দেশের নাগরিক । তাঁদের মধ্যে দু - তিনজন ছাড়া কেউই ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে পারেন না । চক্রটির অপরাধমূলক তৎপরতার তথ্য সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে হলে তাঁদের নিজ ভাষায় কথা বলতে হবে , যাতে তাঁরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কথা বলতে পারেন । এ জন্য দোভাষী নিয়োগসহ দুটি পদ্ধতির কথা ভাবলেও এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি । গতকাল মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট

চট্টগ্রাম নগরী » তাঁদের দুই দিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত । » ডিভাইস বা দোভাষী নিয়োগের মাধ্যমে হতে পারে জিজ্ঞাসাবাদ । » তাঁরা চীন , লাওস , ভিয়েতনাম , পাকিস্তান ও নেপালের নাগরিক ।

মো . মহিদুল ইসলামের আদালত পুলিশের সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ৬৩ বিদেশি নাগরিককে দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন । রিমান্ড নিয়ে জটিলতার বিষয়ে জানতে সিএমপি কাউন্টার টেররিজম

ইউনিটের উপকমিশনার মো . শামীম হোসেন এবং মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা রাসেল মাহমুদের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাঁরা ফোন ধরেননি । সংস্থার অতিরিক্ত উপকমিশনার পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আজকের পত্রিকাকে বলেন , “ আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রাথমিকভাবে দুটি পদ্ধতি বেছে নেওয়া হয়েছে । একটি হচ্ছে ডিভাইসের মাধ্যমে । ডিভাইস দিয়ে এআই বা গুগলের সহায়তায় ভাষা ট্রান্সলেট করে আসামিদের নিজ ভাষায় জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে ।

অন্যটি হচ্ছে দোভাষী নিয়োগের মাধ্যমে । তবে দোভাষী নিয়োগপ্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ । ’ এই কর্মকর্তা আরও বলেন , “ এখন পর্যন্ত কোন পদ্ধতি ব্যবহার করে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বা করে আসামিদের রিমান্ডে আনা হবে ,ভাষা জটিলতায় ৬৩ বিদেশিকে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না । ' তবে শিগগির আসামিদের রিমান্ডে আনা হবে বলে জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ( ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স ) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ । তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন , ‘ আসামিদের ভাষাগত সমস্যার জন্য দোভাষী নিয়োগ বা অন্য কোনো পদ্ধতি ব্যবহারের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত হয়নি । তবে আশা করছি , শিগগির এটা চূড়ান্ত হবে । ” 

তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন , পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বসবাস রয়েছে চীনা , পাকিস্তানি ও নেপালিদের । সামান্য বসবাস রয়েছে ভিয়েতনামিদের । তবে দক্ষিণ - পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওসের জন্য দোভাষী খুঁজে বের করা কঠিন হতে পারে । আর গ্রেপ্তার বিদেশি নাগরিকদের অর্ধেকের বেশি লাওসের বাসিন্দা । এতে প্রাথমিকভাবে ডিভাইসের পদ্ধতি ব্যবহার করে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করার সম্ভাবনা বেশি । গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে এবং পরদিন শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর রোডের একটি ভবনের ১৪ টি ফ্ল্যাট থেকে ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে আটক করে সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও খুলশী থানা - পুলিশ । তাঁদের মধ্যে

লাওসের ৩৫ জন , পাকিস্তানের ২১ জন ও চীনের ৫ জন এবং ভিয়েতনাম ও নেপালের ১ জন করে নাগরিক রয়েছেন । এ সময় অভিযানে ওই ফ্ল্যাট বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৩৪ টি মোবাইল ফোন , ৫৭ টি ল্যাপটপ , ৪ টি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ আরও বেশ কিছু ইলেকট্রনিক ডিভাইস । এ ঘটনায় খুলশী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে করা মামলায় পরে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে চট্টগ্রাম কারাগারে পাঠানো হয় । একই ঘটনায় বিদেশি নাগরিকদের দেশে আনা মো . মহসীন নামে বাংলাদেশি এক সহযোগীকে গত শনিবার চট্টগ্রাম নগরের খুলশী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ।

ওই দিন রাতেই তাঁকে একটি মাদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় । খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিম জানান , ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে মহসীনের সম্পর্ক রয়েছে । মহসীনের পাঠানো ১১৮ গ্রাম কোকেনের সূত্র ধরেই মূলত খুলশীতে অবস্থান করা ওই ৬৩ বিদেশি নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যায় । তিনি বিদেশিদের জন্য আটতলা ভবনটি ভাড়া করে দেন । বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টও তাঁর কাছে জমা ছিল । মহসীনের পেছনে থাকা অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে ।