ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) তাদের সংগ্রহশালা নতুন করে সাজিয়েছে। সেখানে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরাচার শেখ মুজিবের অধিকাংশ ছবি অপসারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে স্বাধীন পাকিস্তান তৈরির রূপকার মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর কয়েকটি ছবি যুক্ত করা হয়েছে। এই ছবি নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। যদিও জিন্নাহর ছবির নিচে ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়েছে তার বিতর্কিত ‘উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা’ উক্তিটি। এর মধ্যদিয়ে মূলত জিন্নাহকে প্রশংসার করার পরিবর্তে সমালোচনা করেছে ডাকসু।
তবে ছাত্রদল ও বামপন্থি ছাত্র সংগঠনের নেতারা জিন্নাহর ছবি টানানোরই বিরোধীতা করা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সোমবার বেলা আড়াইটার দিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় গিয়ে ছবি তিনটি ছিঁড়ে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক শিক্ষার্থী।
আবু তৈয়ব হাবিলদার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষে। তিনি উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে সবচেয়ে বয়স্ক ভিপি প্রার্থী ছিলেন। যদিও নির্বাচনে মাত্র ১০ ভোট পান তিনি।
এদিকে জিন্নাহর ছবি ভাংচুর করার পর বামপন্থী ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা গিয়ে সংগ্রহশালার সেই স্থানে গোলাম আজমের উপর জুতা হামলার একটি ছবি টানিয়ে দেয়। এদিন বেলা ৩টার দিকে ছাত্র ফেডারেশনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অর্ক বড়ুয়া ছবিটি সাঁটান। অনেকে গোলাম আজমের উপর জুতা হামলার এই ঘটনাটিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বললেও আসলে এটি সংগঠিত হয়েছিল বাইতুল মোকাররম মসজিদের সামনে।

১৯৮১ সালের ১ জানুয়ারি বাইতুল মোকাররমে গাজী আবদুল্লাহ হিল বাকি (বাবুল)-এর জানাজায় অংশ নেন গোলাম আযম। এ সময় জাসদসহ বামপন্থী দলের কয়েক ব্যক্তি তাকে জুতা দিয়ে আঘাত করতে যায়। জামায়াত কর্মীরা তাকে দ্রুত সেখান থেকে নিয়ে যায়। ১৯৭১ সালে ভারতের ইন্ধনে পূর্ব পাকিস্তানকে আলাদা করে স্বাধীন বাংলাদেশ তৈরির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় গোলাম আযমের প্রতি ক্ষোভ থেকে এ হামলা চালায় বামপন্থীরা।
এদিকে গোলাম আজমের উপর জুতা হামলার এই বিষয়টি সামনে আসলে নতুন করে আলোচনায় আসে আরেক জাতীয় নেতা জিয়াউর রহমানের উপর জুতা হামলার ঘটনা। যেই ঘটনা ঘটেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটিতেই। বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল সেদিন?

১৯৭৮ সালের ২৬ অক্টোবর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র-শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য যান। গণতন্ত্র হত্যা করে সামরিক শাসন জারি করার কারণে জিয়ার প্রতি শিক্ষার্থীরা ব্যাপক ক্ষুব্ধ ছিলেন। জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশকালে একদল শিক্ষার্থী তাকে জুতা মেরে, লাঠি এবং ঢিল মেরে প্রতিবাদ জানায়। প্রতিবাদের মুখে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। পরে তিনি ছাত্রদের সাথে কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন, ছাত্রীরা তাঁর সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানায়। কিছুক্ষণ পর তিনি ছাত্রদের মধ্য থেকে একাংশকে নিয়ে টিএসসির ভিতর প্রবেশ করতে সমর্থ হন।
জিয়াউর রহমানের উপর জুতা হামলার ঘটনাটি এই মুহুর্তে বেশি প্রাসঙ্গিকতা পাচ্ছে কারণ ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যেই। যেখানে গোলাম আজমের উপর হামলার বিষয়টি ঘটে বাইতুল মোকাররম মসজিদে।
আজাদির ডাক