রাজধানীর সবুজবাগের মাদারটেক এলাকায় কাতার প্রবাসী সিফাত উল্লাহকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে খুনের মামলায় তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সাজিদুল ইসলাম সাজিদকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই গোলাপ উদ্দিন মাহমুদ আসামি সাজিদসহ চার জনকে আদালতে হাজির করেন। এদের মধ্যে আল আমিন হোসেন জয়, তুহিন ও ইয়াসিন হোসেন সিফাত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড এবং সাজিদকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ছিদ্দিক আজাদ তিন আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর ওই তিন আসামিসহ সাজিদকে কারাগারে পাঠানোর তথ্য দেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মমিনুল ইসলাম।
সোমবার শাহজাহানপুরের ঝিলপাড়া এলাকা থেকে জয়কে ও কায়েতপাড়া বালুর মাঠ এলাকা থেকে সাজিদকে গ্রেফতার করে র্যাব। মঙ্গলবার সাজিদ ও জয়ের তিন দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। ওইদিন নাফিজা শেখ নেহা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আর তুহিন ও সিফাতকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়।
গত ৬ সেপ্টেম্বর বিকালে সবুজবাগ থানার মাদারটেক আদর্শপাড়া বরইতলা কালভার্ট এলাকার রাস্তায় প্রবাসী সিফাতকে বাসা থেকে ডেকে এনে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।
সিফাতকে খুনের ঘটনায় তার বাবা জয়নাল আবেদীন সাত জনকে আসামি করে গত সোমবার সবুজবাগ থানায় মামলা করেন। নেহা, সাজিদ, জয় বাদে মামলার অন্য আসামিরা হলেন আরাফাত, তুহিন, অনিক ও রাব্বী।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, প্রবাসী সিফাতের সঙ্গে নেহার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দেড় মাস আগে সিফাত কাতার থেকে দেশে আসেন। পরবর্তীকালে সিফাত জানতে পারেন, সাজিদের সঙ্গেও নেহার প্রেমের সম্পর্ক আছে। বিষয়টি নিয়ে সিফাত ও নেহার মধ্যে মনোমালিন্য হয়। এ নিয়ে গত ৬ সেপ্টেম্বর নেহা ডেকে পাঠায় সাজিদকে। ওইদিন বিকাল সোয়া ৩টার দিকে সিফাত মোটরসাইকেলে মাদারটেক আদর্শপাড়া বরইতলা কালভার্ট এলাকায় গেলে আসামিরা তার উপর হামলা চালায়। এলোপাথাড়ি কুপিয়ে তাকে আহত করে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক সিফাতকে মৃত ঘোষণা করেন।
সিফাতের বাড়ি যাত্রাবাড়ীর ধোলাইপাড় এলাকায়। তার বাবার নাম জয়নাল আবেদীন।