রাজধানীর ভাটারা থানার একটি মাদক মামলার আসামি রবিউল হক মিয়া। ঢাকার ৮ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এহসানুল ইসলামের আদালতে রবিউলের মামলা বিচারাধীন। আদালতপাড়ার একটি চক্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে মামলাটির নথি গায়েবের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ৩ আগস্ট চক্রটির সদস্য আনোয়ারুল হক ওরফে রাসেল ওরফে ‘মুরগি’ রাসেল মাস্ক পরে ওই আদালতে যান এবং ঢাকার ৮ নম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নিয়োজিত উমেদার (বকশিশ বা ঘুষের টাকায় জীবিকা নির্বাহকারী) হিমেল ওরফে সাদ্দামকে এক হাজার টাকা ঘুষ দেন। বিনিময়ে রবিউলের মাদক মামলার নথি দেখতে চান রাসেল। উমেদার সাদ্দাম তার হাতে নথি তুলে অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সেই সুযোগে নথি নিয়ে পালিয়ে যান রাসেল। এ ঘটনায় আদালতের অফিস সহায়ক সুমন তালুকদার বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। কিন্তু ঘুষের বিনিময়ে চক্রের হাতে নথি তুলে দিলেও মামলার আসামি করা হয়নি উমেদার সাদ্দামকে।
উমেদারের সহযোগিতায় আরেকটি মামলার নথি চুরি হয় ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে। তথ্য অনুযায়ী, তানভীর আহমেদ তনয় ওরফে রাব্বী নামে একজনের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় করা অস্ত্র মামলার নথি ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে গত ২ জুলাই দুপুরে এই আদালত থেকে চুরি করে একই চক্রের সদস্য ‘মুরগি’ রাসেল। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই আদালতের উমেদার নাজমুল হাসান ওরফে রনির হাতে প্রথমে এক হাজার টাকা ঘুষ ধরিয়ে দেন রাসেল। এরপর রাব্বীর অস্ত্র মামলার নথি চেয়ে নেন। এই উমেদারও অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ায় মামলার নথি নিয়ে চম্পট দেন রাসেল। এই ঘটনায় ওই দিনই আদালতের বেঞ্চ সহকারী খায়রুল আলম কোতোয়ালি থানায় নথি চুরির মামলা করলেও উমেদার রনিকে আসামি করা হয়নি।
শুধু নথি চুরিই নয়, উমেদাররা অতি উৎসাহী হয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটাচ্ছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-১০-এর বিচারক শাহিদুল ইসলামের খাস কামরায় মোহাম্মদ আলী নামে ঢাকা রেলওয়ে থানার এক উপপরিদর্শককে (এসআই) ডেকে নিয়ে মারধরের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ওই কোর্টের উমেদার শাহিন অতি উৎসাহী হয়ে মারধর করেন বলে জানান ভুক্তভোগী পুলিশ কর্মকর্তা। রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দায়িত্ব পালনের সময় ওই আদালতের অফিস সহায়ক সাকিব আল হাসানের ব্যাগ তল্লাশি করতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিচারককে আইন মন্ত্রণালয় থেকে শোকজ করা হলেও উমেদার সরকারি চাকরিজীবী নন বলে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উমেদার শাহিনের মতো বিভিন্ন কোর্টের উমেদাররা বিচারপ্রার্থী বা আইনজীবীদের প্রতি মারমুখী আচরণ করছেন। কোনো কোনো উমেদার জমিদারের মতো আচরণ করেন। এ ছাড়া ঘষামাজা করে মামলার আদেশ পরিবর্তন, বিচারকের ভুয়া সিল বানাতে অপরাধী চক্রকে সহযোগিতা করা, ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও জামিননামা তৈরি করে বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করার মতো ঘটনাও অহরহ দেখা যাচ্ছে। আদালত থেকে যে কোনো নথি দেখতে চাইলে বা মামলার প্রক্রিয়া সামনের দিকে এগোতে হলে উমেদারদের ঘুষ দেওয়া যেন অঘোষিত রীতিতে পরিণত হয়েছে। আদালতের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী না হওয়ায় তাদের নেই কোনো দায়বদ্ধতাও।
অথচ বিচারালয়ে উমেদারদের কার্যক্রম একেবারেই নিষিদ্ধ। ২০১৫ সালের ২৩ জুলাই আদালতে উমেদার নিষিদ্ধের বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া বহিরাগত ব্যক্তির (উমেদার) মাধ্যমে আদেশ বা মামলাসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি লিপিবদ্ধ করা আইনবহির্ভূত ও উদ্বেগজনক। এতে স্পর্শকাতর ও জনগুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি হারিয়ে যাওয়া বা ঘষামাজা এবং গোপনীয়তাও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ অবস্থায় উমেদারের মাধ্যমে আদালতের আদেশ বা অন্য বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ না করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো। এই আদেশ অমান্য করা হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ কিন্তু প্রায় এক যুগ পার হতে চললেও হাইকোর্টের সেই নির্দেশনা কার্যকর হয়নি। দেশের প্রত্যেক আদালতে এখনো উমেদার দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। ঢাকার অধস্তন আদালতেই পাঁচ শতাধিক উমেদার নিয়োজিত রয়েছেন। ফলে যে বিচারালয়ে আইনের শাসন হয়, সেখানেই রয়ে গেছে ঘুষের কারবার। উমেদারদের কেউ কেউ এ কাজ করছেন ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে। এতে ‘বহিরাগতদের’ হাতে যাচ্ছে আদালতের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর মামলার নথি। তাদের বকশিশের নামে ঘুষের টাকা দিতে গিয়ে হয়রানি শিকার হতে হচ্ছে বিচারপ্রার্থী-আইনজীবীদেরও। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি কর্মচারী নিয়োগ বাড়িয়ে উমেদার তুলে দিলে আদালতে ঘুষের কারবার অনেকটাই উঠে যাবে।
ঢাকার আদালতে পাঁচ শতাধিক উমেদার: ঢাকার অধস্তন আদালতে অন্তত পাঁচ শতাধিকের বেশি উমেদার কাজ করছেন বলে কালবেলার কাছে তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের (সিএমএম) অধীন ৩৭টি আদালতের উমেদার রয়েছেন ৭২ জন। সরেজমিন সবগুলো আদালত ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সিজেএম) আদালতে কোনো উমেদার না থাকলেও এর অধীন বাকি ৯টি আদালতে ১৮-২০ জনের মতো উমেদার রয়েছেন। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের অধীন আদালতগুলোতে ৬৫-৭০ জন উমেদার কাজ করছেন। এর মধ্যে শুধু ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের সেরেস্তায় ৮-১০ জন উমেদার ঘুষের মাধ্যমে উমেদারির কাজ করছেন বলে এই কোর্টের কর্মচারীরা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অধীন আদালতগুলো মিলে মোট ১১২ জন উমেদার রয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা জেলা জজ আদালতের এজলাসে কোনো উমেদার না থাকলেও সেরেস্তায় ৩ জন উমেদার নিয়োজিত রয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট আদালতের সেরেস্তাদার মো. শরিফ। জেলা জজ আদালতের অনুলিপি বিভাগেও বেশ কয়েকজন উমেদার রয়েছেন।
এদিকে ঢাকার ৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে উমেদার রয়েছেন ১৩ জন। তবে ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে উমেদার নেই বলে জানিয়েছেন ওই আদালতের কর্মচারীরা। সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে সরকারিভাবে দুজন কর্মচারীর পাশাপাশি উমেদার রয়েছেন ২ জন। তবে একজন ছুটিতে। আর ঢাকার মানবপাচার ট্রাইব্যুনালে উমেদার রয়েছেন ২ জন। এ ছাড়া অর্থঋণ আদালতের এজলাসের বাইরেও প্রত্যেক সেরেস্তোয় ৪-৫ জন করে উমেদার রয়েছেন।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম হিমেল বলেন, ‘উমেদাররা টাকা ছাড়া কোনো কাজ করতে চান না। সরকারি স্টাফের কাছে তথ্য জানতে চাইলে উমেদারদের দেখিয়ে দেওয়া হয়। তারাও ঘুষের টাকার ভাগ পান। সমস্যা হলো অনেক সময় বাইরের মানুষ উমেদারকে বকশিশ দিয়ে নথি চাইলে সহজেই গোপনীয় নথি পেয়ে যায়। এতে নথি চুরি বা আদেশ বিকৃত করার সুযোগ পায় অপরাধী চক্ররা। সম্প্রতি কয়েকটি কোর্টে উমেদারের সহায়তায় মামলার নথি চুরি বা গায়েব করার খবর আমরা দেখেছি। আদালত থেকে উমেদার তুলে সরকারি কর্মী নিয়োগ দিলে ঘুষের কারবার অনেকটা কমে যাবে। কমে যাবে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তিও।’
ঢাকার দুই নম্বর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উমেদার আছেন দুজন। এ বিষয়ে ওই আদালতের পেশকার মো. রাশেদ কালবেলাকে বলেন, ‘আমাদের কোর্টে সরকারিভাবে আমি পেশকার ও একজন মাত্র অফিস সহায়ক আছেন। আদালতে এত কাজ দুজনের করা কঠিন। এজন্য দুজন উমেদার রাখা হয়েছে।’
জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে মো. আনিস নামে একজন উমেদার রয়েছেন। তিনি জানান, ১২ বছর ধরে তিনি উমেদার হিসেবে কর্মরত আছেন; কিন্তু কোনো নিয়োগ না হওয়ায় বেসরকারিভাবে কাজ করছেন তিনি। বিচারপ্রার্থী বা আইনজীবীদের বকশিশের টাকায় তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন। মো. পায়েল নামে ঢাকা মহানগর আদালতের এক উমেদার বলেন, ‘অনেকদিন ধরে উমেদার হিসেবে কাজ করছি। কোর্টে পদ নেই, স্থায়ী হব কীভাবে। সরকারি বেতন পেলে আর বকশিশ নেওয়া লাগবে না।’
ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির আরিফুর রহমান বিচারালয়ে উমেদার থাকার তথ্য নিশ্চিত করলে তাদের ঘুষ নেওয়া বা মামলার নথি নাড়াচাড়া করার বিষয়গুলো অস্বীকার করেন। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘উমেদার আছেন সত্য। পেশকাররা তাদের আত্মীয়স্বজন রাখেন। টুকটাক চা আনান। কাজে সহযোগিতা করে দেন। বিনিময়ে প্রতিদিন ১০০-১৫০ টাকা পান। পেশকাররাই এসব বকশিশ দেন। তবে তারা মামলার নথিতে হাত দেন না। যদি হাত দেন পেশকারকে বা আমাকে জানাবেন।’
বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশনের সদ্য সাবেক সভাপতি ও শরীয়তপুর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির মো. রেজোয়ান খন্দকারও উমেদার দিয়ে আদালতে কাজ করানোর বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা কর্মচারীদের জন্য নতুন পদ সৃষ্টি ও পদোন্নতির কথা বলে আসছি। একই পদে ৩৮-৪০ বছর চাকরি করেও পদোন্নতিবঞ্চিত থেকে অবসরে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ হয় না। এজন্য উমেদার দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে।’
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগে ৫৭ উমেদার: আদালতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগে ৫০টি থানা ২২টি শাখায় ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেক শাখায় ২-৫ জন করে উমেদার রয়েছেন, যারা ঘুষের টাকায় বছরের পর বছর জীবিকা নির্বাহ করছেন। সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পল্টন, মতিঝিল ও শাহজাহানপুর থানার জিআর শাখায় ৩ জন, মিরপুর ও শেরেবাংলা থানায় ২, শাহআলী ও দারুসসালাম থানায় ২, রমনা ও শাহবাগ থানায় ২, পল্লবী ও রূপনগর থানায় ৩, কাফরুল ও ভাসানটেক থানায় ২, রামপুরা ও সবুজবাগে ২, তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও হাতিরঝিল থানায় ৪, মোহাম্মদপুর ও আদাবর থানায় ৫, খিলক্ষেত ও ক্যান্টনমেন্ট থানায় ১, ওয়ারী, সূত্রাপুর ও গেন্ডারিয়া থানায় ২, নিউমার্কেট ও কলাবাগান থানায় ১, বাড্ডা ও ভাটারা থানায় ৪, লালবাগ, চকবাজার ও কামরাঙ্গীরচর থানায় ২, কোতোয়ালি ও বংশাল থানায় ২, গুলশান ও বনানী থানায় ৪, কদমতলী ও শ্যামপুর থানায় ২, উত্তরা পূর্ব ও পশ্চিম থানা ২, বিমানবন্দর, উত্তরখান ও দক্ষিণখান থানায় ২, ধানমন্ডি ও হাজারীবাগ থানায় ২, যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা থানায় ৪ এবং খিলগাঁও ও মুগদা থানায় ৪ জন উমেদার নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়া প্রসিকিউশন বিভাগে চারটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন জিআর ও চারটি নন জিআর শাখায়ও উমেদার রয়েছেন। এসব জিআর মিলে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ঘুষ বা বকশিশ ওঠে। মামলার নথি দেখা, নকল তোলা, ওকালতনামা জমা, জামিননামা জমা, দ্রুত সমন বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাঠানোসহ নানা কাজে ‘বকশিশ’ ছাড়া হয় না কোনো কাজ। উমেদারদের কেউ কেউ ২৮-৩০ বছর ধরে এই ‘বকশিসের’ বিনিমিয়ে জিআর শাখায় কাজ করছেন। জিআর শাখায় ‘উপরি আয়’-এর কারণে পুলিশ সদস্যরাও এ শাখা থেকে বদলি হতে চান না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জিআর শাখায় উমেদার থাকার বিষয়ে কথা বলতে আদালতে ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেলের অফিসে গিয়ে ও মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব, সাবেক জেলা ও দায়রা জজ মো. শাহজাহান সাজু কালবেলাকে বলেন, ১৮৮৭ সালে সিভিল কোর্ট সৃষ্টির সময়ই থেকেই উমেদার রয়েছেন। কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় পেশকার, সেরেস্তাদার, নাজির আত্মীয়স্বজন থেকে উমেদার নিয়োগ করা হয়। উমেদার ফাইল খুঁজে দেওয়া, এগিয়ে দেওয়া ও অনেক সময় প্রসিডিউরাল অর্ডার লিখে থাকেন; কিন্তু জুডিসিয়াল অর্ডার লেখেন না। এটা সত্য, উমেদাররা আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে বকশিশ নিয়ে চলেন। একটি আদালতে যে পরিমাণে কাজ, সে পরিমাণে লোকবল নিয়োগ থাকে না। উমেদারি প্রথা বাতিল করতে হলে সরকারি নিয়োগ বাড়াতে হবে। এতে আদালতে বকশিশ বা ঘুষের কারবার অনেক কমে যাবে।
তবে আদালতের কর্মী সংকট বিবেচনা করে অভিজ্ঞ উমেদারদের কাজের পক্ষে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) হারুনুর রশিদ। তিনি কালবেলা বলেন, প্রত্যেক আদালতে দুই থেকে তিনজন সরকারি কর্মচারী থাকেন। কিন্তু এর বিপরীতে প্রতিদিন দেড় থেকে দুই শতাধিক মামলার শুনানি থাকে। এসব মামলার শুনানি দুজন কর্মচারী দিয়ে করা সম্ভব নয়। এতে মামলার বিচার কাজ শেষ হতে অনেক বিলম্ব হয়। এজন্য উমেদার নিষিদ্ধ থাকলেও প্রত্যেক আদালতে দেওয়া থাকে। তবে সরকার চাইলে লোকবল নিয়োগ দিয়ে উমেদার প্রথা বাদ দিতে পারে। উমেদাররা দীর্ঘদিন ধরে যেহেতু কোর্টে কাজ করেন, তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া যেতে পারে। এতে আদালতের কর্মী সংকট দূর হবে, আবার এত সংখ্যক উমেদারও নাখোশ হবেন না।