Image description

দেশে সার বিতরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় গলদ রয়েছে মন্তব্য করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মীর্জা হাসানুজ্জামান বলেছেন, এ গলদগুলো দূর করে ব্যবস্থাটিকে সরাসরি ও সহজ-সরল না করলে সাধারণ কৃষকরাও সব সময় এক ধরনের দৌড়ের মধ্যে থাকবে। কাজেই প্রথমত আমাদের বিতরণ ব্যবস্থাটাই ঠিক করতে হবে। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যমান সার সংকটের সম্ভাব্য সমাধান কী হতে পারে জানতে চাইলে অধ্যাপক হাসানুজ্জামান জাপানের কৃষিব্যবস্থার উদাহরণ টেনে বলেন, আমরা জাপানের কৃষিব্যবস্থায় দেখেছি, সেখানে একজন কৃষক যেখানে যেমন সবজি বিক্রি করতে নিয়ে যায়, একই জায়গা থেকে আবার সারও কিনে নিয়ে আসতে পারেন তারা। অর্থাৎ সেখানে এক জায়গায় সব ধরনের সেবা পাওয়া যায়। আর আমাদের সার কিনতে যেতে হয় এক জায়গায়, আবার সবজি বিক্রি করতে যেতে হয় অন্য বাজারে। ফলে আমাদের বিতরণব্যবস্থা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় গলদ রয়েছে। সে যেখান থেকে সার কেনে, সেখানে সার না পেলে মনে করবে সম্ভবত সার নেই, সারের সংকট চলছে। কিন্তু এ ধরনের কোনো কেন্দ্র বা সমন্বিত ব্যবস্থা আমাদের নেই।

আরেকটি বিষয় হলো, কৃষকের কাছে বা সংশ্লিষ্ট কারও কাছে কি বাস্তবসম্মত, তাৎক্ষণিক হিসাব আছে যে আজকে আমাদের উপজেলায় কতটুকু সার মজুত আছে? আমি বাস্তব সময়ের হিসাবের কথা বলছি। হয়তো কাগজে-কলমে হিসাব আছে, কিন্তু এমন একটি ব্যবস্থা দরকার, যেখানে তাৎক্ষণিক ক্লিক করলেই জানা যাবে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কতটুকু সার মজুত আছে। একইভাবে তাৎক্ষণিক ক্লিক করলেই জানা যাবে সেপ্টেম্বর মাসে নির্দিষ্ট এলাকায় কতটুকু সার প্রয়োজন, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 

ধরুন, নেত্রকোনায় এখন সারের কোনো অভাব নেই, কিন্তু আমি বরিশালে গিয়ে দেখলাম সেখানে সারের সংকট রয়েছে। এটাও তো এক ধরনের সংকট। সুতরাং সারের সুষম বিতরণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সার সংকটের কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, সারের চাহিদা প্রতি বছর বাড়ছে, কিন্তু সরকারিভাবে সরবরাহ সেভাবে নেই। দেশের সার বেশির ভাগই আমদানির মাধ্যমে আসে। 

তাই হুট করে চাহিদা বেড়ে গেলে অভ্যন্তরীণভাবে তাৎক্ষণিক উৎপাদন করে সরবরাহ করার সক্ষমতা আমাদের নেই। পাশাপাশি দেশের কারখানাগুলো বেশ পুরোনো হওয়ায় এগুলো পুরোদমে উৎপাদন করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক বাজারের যুদ্ধবিগ্রহ ও পরিবহন সংকটের কারণেও পরোক্ষভাবে সারের জোগানে প্রভাব পড়ে। সার সিন্ডিকেটের কাছে সরকার জিম্মি কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, আমি তা মনে করি না। সরকার কখনোই জিম্মি নয়। 

সরকার হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যারা বিষয়গুলো নিশ্চিত করার দায়িত্বে থাকে। এখন আমরা যদি সৎ না হই, আমরা যদি বিষয়টিকে অনুভব না করি তাহলে হবে না। আমরা কি সরকারের অংশ নই? আমরা সবাই তো অন্তত ভোক্তা। সুতরাং এখন যদি আমি সার সংকট তৈরি করি, আমিও তো একসময় খাদ্যসংকটে পড়তে পারি, যা ভাবছি না। উন্নত দেশগুলোর মানুষজন কিন্তু এভাবেই চিন্তা করে, আমি যে সংকট সৃষ্টি করছি, এর কারণে একসময় আমার পরিবারও তো ভুক্তভোগী হতে পারে।’