কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশ্বাসে দীর্ঘ অপেক্ষার পর এস আলমের লুটপাটের শিকার ব্যাংকগুলো থেকে টাকা তোলার হিড়িক পড়েছে, আবেদন জমা পড়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি। আগামী ৭ তারিখ থেকে গ্রাহকদের টাকা দেয়ার কথা বলা হলেও, এই বড় অংকের অর্থের উৎস কী, তা খোলাসা করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, চাপ সামলাতে টাকা ছাপানো হলে তা হবে আত্মঘাতী।
এস আলমের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটের খেসারত দিতে গিয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে এখন গ্রাহকদের দীর্ঘ লাইন। আগামী ৭ তারিখ থেকে অর্থ পাওয়ার খবরে ব্যাংকগুলোতে টাকা তোলার আবেদনের হিড়িক পড়েছে।
তথ্য বলছে, প্রথম তিন দিনে ব্যাংকটি থেকে ২ হাজার ৩১৬ কোটি টাকার আমানত উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছেন ৩৭ হাজার ৬১৩ জন। এর মধ্যে এককালীন পুরো অর্থ উত্তোলনের জন্য আবেদন করেছেন ৭ হাজার ৬০৯ জন, অর্থের পরিমাণ ৬০৪ কোটি টাকা।
গ্রাহকরা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক যেহেতু বলেছে এবং সরকার যেহেতু এর দায়িত্ব নিয়েছে, তাই তারা আবেদন ফরম জমা দিচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, তীব্র তারল্য সংকটে ভোগা এই ব্যাংকগুলোতে এত টাকার যোগান আসবে কোথা থেকে? বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, অর্থের উৎস নির্ধারিত আছে এবং তারা টাকা সরবরাহ করবে। তবে অর্থের উৎস প্রকাশ করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘আমরা ডিসক্লোজ করতে চাচ্ছি না। আমরা চাচ্ছি যে, সোসাইটির একটি বড় অংশ ব্যাংকে আমানত রেখেছিলো, তারা তাদের প্রয়োজনের সময় টাকা পায়নি। তাদের আর্তনাদ বাংলাদেশ ব্যাংক এবং সরকারকে পীড়িত করেছে এবং সরকার চায় তাদের এ আর্তনাদকে যেভাবেই হোক প্রশমিত করতে।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচিত অর্থের উৎস পরিষ্কার করা। তবে তাদের শঙ্কা এই টাকা বাজার থেকে সংগ্রহ না করে, যদি কেবল টাকা ছাপিয়ে দেয়া হয়, তবে তা অর্থনীতির জন্য হবে আত্মঘাতী।
ড. শাহাদাৎ হোসাইন সিদ্দিকী বলেন, ‘যে ব্যাংক কোনো টাকা দিতে পারে না, সেই ব্যাংক যখন পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে ঘোষণা দেয় যে, সবাইকে টাকা দিয়ে দেবে, নিশ্চয়ই টাকার কোনো একটা উৎস আছে। কিন্তু সেই উৎসটা যদি পরিষ্কার না করে, তাহলে অর্থনীতিতে এর প্রভাবটা কী পড়বে, সেটা কিন্তু আমাদের পক্ষে বলাও কঠিন। কারণ, তারা যদি টাকা ছাপিয়ে দিয়ে দেয়, তাহলে মূল্যস্ফীতিকে কিন্তু উসকে দেবে। তবে এর বিকল্প অর্থায়ন করাটাও কঠিন।’
একদিকে গ্রাহকের আমানত ফেরত দেয়ার চাপ, অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি ঠেকানোর চ্যালেঞ্জ—এই দুইয়ের মাঝে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন কোন পথে হাঁটবে, তাই এখন দেখার অপেক্ষা।