Image description
 
আমি গুলশানে এক জায়গায় ওয়ার্ক আউট করতে যেতাম। বাংলাদেশের একমাত্র ক্রসফিট Gym। মিরপুর থেকে গুলশানের দূরত্ব কম না। এরপরও নিয়মিতই যেতাম। কারণ, বডি বিল্ডিং কোনোকালেই ভালো লাগত না। দরকার তো আসলে কন্ডিশনিং। দৈনন্দিন জীবনে কতটা সুস্থ ও সমর্থ, সেটাই তো মুখ্য। ইয়া বড় বড় মাসল, দেখতেও বা কেমন। তাছাড়া সেখানে ছিল না গানবাজনা, গ্রুপ ক্লাসও করতাম না এবং এমন সময় যেতাম যখন সাধারণত কেউই থাকত না বিধায় পর্দারও সমস্যা ছিল না। এমনিও সেখানে খরচ ছিল এত বেশি, বিদেশিরা ছাড়া বাঙালিরা খুব বেশি যেত না। আর বাঙালি তো Gym মানেই বোঝে বডিবিল্ডিং ও মেশিন আর মেশিন, এছাড়া তাদের জানার পরিধিও খুব বেশি বিস্তৃত না।
হঠাৎ সেটা বন্ধ হয়ে গেল। অন্য কোনো Gym-এও আর ভর্তি হওয়ার আগ্রহ হলো না। প্রায় আড়াই লাখ টাকা খরচ করে বাসায়ই নিজের মতো করে সেটাপ করে নিলাম। সেই ছবিও ফেবুতে দিলাম। কোনো এক ভদ্রলোক, যাকে মোটেও চিনি না, অকস্মাৎ এসে কমেন্ট করল, হুজুররা যে আসলেই বোকা, ব্যবসা বোঝে না। না হলে খরচ যখন করেছেই, আরও কিছু খরচ করে একটা Gym খুললেই হয়। তাতে ব্যবসাও হবে, নিজেরও শরীরচর্চা হবে। সব ভালো মন্তব্যের ভিড়ে একটামাত্র মন্তব্যই ছিল এমন, তবুও তা দৃষ্টি আকর্ষণ করল। চিন্তা করলাম, আইডিয়াটা তো খারাপ না। যদিও হিসাবটা আসলে এত সরল না। একটা কোয়ালিটিসম্পন্ন Gym খুলতে যে কত বেশি খরচ, এটা আসলে সাধারণ কাউকে বোঝানোও সম্ভব না। তবুও ক্রসফিট ধারার একটা সেন্টার খোলা গেলে তো মন্দ না; উপরন্তু যেখানে থাকবে না গানবাজনা বা ফ্রি মিক্সিং।
 
অবশেষে হিম্মত করে শুরু করলাম। একসময় শেষও হয়ে গেল। যদিও আর্থিক টানাপোড়েনে পড়েছি। তবে আমি যেহেতু হাল না ছাড়ার বান্দা, তাই রবের সাহায্যে তরী ঠিকই তীরে ভিড়িয়েছি। হ্যাঁ, মাঝে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছি পাওনাদারদের হয়রানিতে। কওমি ধারার দুটো দলের দুই শীর্ষস্থানীয় নেতা এতটাই হয়রানি করেছে এবং বারবার ওয়াদা ভঙ্গ করেছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। একজনের কাছে অবশ্য পাওনাই ছিল ৩ লাখের কিছু বেশি, যার অর্ধেকটা অবশ্য দিয়েছে। আরেক দলের অন্য একজনের কাছে এখনো পাওনা ২৮ লক্ষ টাকা, স্ট্যাম্পে সাইন করেই এবং ব্ল্যাংক চেক দিয়েই এই মর্মে ওয়াদাবদ্ধ ছিল যে, দুই বছর টালমাটালের পরে জুনের মধ্যে পুরো পাওনা ক্লিয়ার করবে। কিন্তু মোট ৫৫ লক্ষ থেকে জুন পর্যন্ত উদ্ধার করতে পেরেছি মাত্র ২৭ লক্ষ; বাকিটার জন্য এখনো হয়রানি হয়েই চলছি। এটা সেই দলের বাকি সকল কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলও জানে; কিন্তু কী আর করা!
 
আল্লাহ এসব দলের হাতে কখনো দেশের ক্ষমতা ও জাতির আমানত না দিন। না হলে এই জাতির কপালে দুঃখ আছে। ব্যবসায় নামার সাহস করার পেছনে মূল ভরসা ছিল এই অর্থটা, যা মূলত ছিল জমি বিক্রি করে একটা ফ্ল্যাটের জন্য দেওয়া। কিন্তু সেই ফ্ল্যাট যেহেতু আর যথাসময়ে পাওয়া যায়নি, উল্টো সেটার ভরসায় আরও ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল এবং সংসারজীবনের সূচনার প্রায় সব মালপত্র চুরিও হয়ে গিয়েছিল (সে আবার বিরাট বিরাট কাহিনি), অবশেষে সেই দলের দায়িত্বশীলদের মধ্যস্থতায় লিখিত চুক্তি করল যে, ২০২৬ এর জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে সব টাকা ফিরিয়ে দেবে। কিন্তু...। এক্ষেত্রেও সবিশেষ কৃতজ্ঞতা ওই দলেরই সিলেটস্থ সেই দায়িত্বশীল ভাইদের, যাদের অবদানে তা উদ্ধারের স্বপ্ন অন্তত দেখতে পেরেছি এবং দু-বছর বিলম্বে হলেও খানিকটা অন্তত ফেরত পেয়েছি। না হলে বাস্তবতা হয়তো এমনই ঘটার আশঙ্কা ছিল যে, ৫৫ লক্ষ টাকার আট আনা পয়সাও ফিরিয়ে দিত না আর তাদের দ্বারা এটা হয়তো অসম্ভবও ছিল না।
 
যাহোক, আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ সেই সমস্ত সাধারণ ভাইয়ের নিকটে, যারা কোনো রাজনৈতিক বা অরাজনৈতিক দল করেন না, কিন্তু আকস্মিক এই সংকটে নিজেদের থেকে খোঁজ নিয়ে নিঃস্বার্থভাবে ঋণ (কারজে হাসানা) দিয়েছেন। সুদের দুনিয়ায় এমন নিঃস্বার্থভাবে যারা এগিয়ে আসেন, তারা আসলেই মহান। ব্যক্তিগতভাবে কাউকে জানাইনি এসব পরিস্থিতির কথা। যা বলার স্রেফ আল্লাহকেই বলেছি। বাকিটা তিনিই ব্যবস্থা করেছেন। সব বাধা পেরিয়ে অবশেষে স্বপ্ন যেহেতু বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে, তিনি বরকতও দেবেন ইনশাআল্লাহ। যদিও ঋণগুলো পরিশোধ করার জন্যও প্রয়োজন যেকোনোভাবে সেই পাওনাগুলো উশুল করা। আল্লাহ তাদের সুমতি জাগ্রত করুন এবং তারা যেভাবে হয়রানি করছে আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতের প্রতিটা পদে পদে তাদের সঙ্গেও এর অনুরূপ আচরণ করুন আর তাদের উপর্যুপরি মিথ্যার ওপর ভরসা করে যেভাবে সংসারজীবনের সূচনার সব মালপত্র চুরি হল এবং বিরহের অশ্রু সন্তানদের মায়ের চোখের নিয়মিত সঙ্গী হল, আল্লাহ তাদেরও উভয় জাহানে এহেন ব্যথার স্বাদ আস্বাদন করার তাওফিক দান করুন।