ক্যামেরার আড়ালে থাকেন অনেক শোবিজ তারকার জীবনসঙ্গী। তাদের এমনই ভিন্ন পেশার জীবনসঙ্গীদের পরিচয় ও তাদের দাম্পত্যজীবনের গল্প নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান
রুপালি পর্দা কিংবা ক্যামেরার সামনে থাকা তারকাদের জীবন নিয়ে দর্শকের আগ্রহের শেষ নেই। কিন্তু আলোঝলমলে এই জগতের বাইরে তাদের ব্যক্তিজীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষটি অনেক সময়ই থাকেন প্রচারের আড়ালে। কেউ চিকিৎসক, কেউ ব্যাংকার, প্রকৌশলী কিংবা ব্যবসায়ী; আবার কেউ কর্মজীবন গড়েছেন দেশের সীমানার বাইরে।
চিকিৎসক জীবনসঙ্গী
অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরীর স্ত্রী শান্তা চৌধুরী পেশায় চিকিৎসক। তাদের পরিচয়ের গল্প অনেকটা সিনেমার মতো। ২০০৫ সালে চঞ্চলের বড় ভাইয়ের সঙ্গে শান্তার পরিচয় ছিল শিক্ষক-ছাত্রীর সম্পর্কের সূত্রে। চঞ্চলের বাবা হাসপাতালে ভর্তি থাকায় সেখানেই প্রথম শান্তাকে দেখেন তিনি। পরে শুরু হয় ফোনে যোগাযোগ। এক মাস ফোনে কথা চলল। চঞ্চল ফোনেই শান্তাকে জিজ্ঞেস করেন, ‘তুমি কি আমাকে বিয়ে করবে?’ উত্তর ছিল ইতিবাচক। পরে তাদের বিয়ে হয় দুই ধাপে— প্রথমে আইনি প্রক্রিয়ায়, পরে ধর্মীয় রীতিতে। এই আগস্টে তাদের দাম্পত্যজীবনের ২০ বছর পূর্ণ হয়েছে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে
চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিমের স্বামী সনি পোদ্দার পেশায় ব্যাংকার। দীর্ঘ প্রেমের পর ২০২২ সালের জানুয়ারিতে বিয়ে করেন তারা। এর আগে ২০২১ সালের নভেম্বরে দুই পরিবারের উপস্থিতিতে তাদের বাগদান হয়।
‘আয়নাবাজি’র অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলার স্বামী জোবাইদুল হক রিম পেশায় ব্যাংকার। ২০১৮ সালের এপ্রিলে তাদের বিয়ে হয়। নাবিলা বললেন, ‘বিয়ের আগে ১৮ বছর ধরে আমরা একে অপরকে চিনতাম। তাই আমাদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া ছিল। আমাদের ব্যক্তিত্বে অনেক মিল। এজন্যই তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছি।’
চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা ২০২২ সালে বহুজাতিক কোম্পানির উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা আশফাকুর রহমান রবিনকে বিয়ে করেন। ২০১৮ সালে একটি অনুষ্ঠানে তাদের প্রথম পরিচয়। পূর্ণিমা বলেন, ‘আমরা একসঙ্গে বেশ কয়েকটি প্রকল্পে কাজ করেছি। সেখান থেকেই আমাদের কথাবার্তা শুরু এবং ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয়। রবিনের সঙ্গে সবকিছু শেয়ার করা যায় এবং সব বিষয়ে তাকে বিশ্বাস করা যায়।’
বিভিন্ন পেশায়
অভিনেত্রী সাবিলা নূরের স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহের পেশায় ব্রডকাস্ট প্রকৌশলী। তিনি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এসএ টিভিতে ব্রডকাস্ট প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন। সাবিলা বলেন, ‘নেহালের সঙ্গে প্রেম করা এবং বিয়ের বিষয়টি খুব ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দেড় বছরের মতো শুধুই বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল দুজনের। বন্ধুত্ব থেকে ভালো লাগা, এরপর ভালোবাসা; অতঃপর বিয়ে।’
মডেল-অভিনেত্রী ইশানার স্বামী সারেফ চৌধুরী পেশায় নেটওয়ার্ক প্রকৌশলী। তিনি অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বসবাস করেন। অভিনেত্রী অপর্ণা ঘোষের স্বামী সত্রাজিৎ দত্ত পেশায় আইটি ইঞ্জিনিয়ার। জাপানের এয়ারবাসে কর্মরত রয়েছেন তিনি।
২০০৮ সালে আয়েশাকে বিয়ে করেন নায়ক ইমন। বিয়ের সেই খবর সাত বছর পর প্রকাশ পায়। আয়েশা একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার।
গায়িকা অবন্তী সিঁথির স্বামী অমিত দে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী। তিনি নিজেও গান করেন। পাশাপাশি লন্ডনের একটি ট্যাক্স কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠানে অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন।
অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর স্ত্রী শাম্মা দেওয়ান যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী। যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে তিনি একটি গাড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে ব্র্যান্ড ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন।
মডেল, অভিনেত্রী ও আইনজীবী পিয়া জান্নাতুলের স্বামী ফারুক হাসান সামীর বিদেশি দূতাবাসে কর্মরত।
বরেণ্য অভিনেত্রী চম্পার স্বামী শহিদুল ইসলাম খান ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। ১৯৮২ সালে তারা বিয়ের বন্ধনে জড়ান।
সংগীতশিল্পী সানিয়া সুলতানা লিজার স্বামী সবুজ খন্দকার যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী।