প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সরকারের সংশ্লিষ্টদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য ও গালিগালাজের অভিযোগে সিফাত আব্দুল্লাহ নামের সেই যুবককে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা সিফাতের মুক্তির দাবিতে সক্রিয় অবস্থান নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান করেন তারা।
এর আগে রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের বাসা থেকে গাছা থানা পুলিশ তাকে আটক করে। আটক সিফাত আব্দুল্লাহ রাজধানী ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্র এবং গাজীপুর মহানগরীর ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের টিনের মসজিদ এলাকার সিকান্দরের ছেলে। তিনি এনসিপি ও ইনকিলাব মঞ্চের সমর্থক বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট আলী নাসের খান।
আলী নাসের খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সিফাত এনসিপির সমর্থক এবং ইনকিলাব মঞ্চের ভক্ত। সে আমাদের কর্মকাণ্ডেরও সমালোচনা করে, বিএনপিরও সমালোচনা করে। অহেতুক তাকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, তাকে আটকের পর থেকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে ওসি এবং পুলিশ কর্মকর্তারা চেষ্টা করতেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে নিয়ে কটূক্তিকারী হিসেবে মামলা দিয়ে জেলে পাঠাইতে। আওয়ামী বা অন্য কোনও ট্যাগ দিয়ে মামলা দেওয়ার পাঁয়তারা করতেছে পুলিশ। আমরা সিফাতকে শুরু থেকে চিনি। জুলাই আন্দোলনেও ছিল। সবসময় সরকারের বিভিন্ন অসংগতি, অন্যায় সিদ্ধান্ত, তেল গ্যাস, বিদ্যুৎ ইত্যাদিসহ এমনকি সে বিভিন্ন সময় এনসিপির এবং অন্যান্য দলেরও সমালোচনা করছে। ন্যায় সঙ্গত সমালোচনা করে। অথচ পুলিশ রাতে তাকে বাসা থেকে লুঙ্গি পরা অবস্থায় তুলে নিয়ে এসে এখন বলছে, প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তি ও সরকার সংশ্লিষ্টদের গালিগালাজ করেছে। এটা মানবাধিকার লঙ্ঘন, বাক স্বাধীনতার লঙ্ঘন, সংবিধানের মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন এবং পুলিশের বাড়াবাড়ি। এটা দলীয় পেটুয়া পুলিশের কাজ।
আলী নাসের খান বলেন, আটকের পর আমাদের নেতাকর্মীরা গাছা থানায় গিয়েছিল। মহানগর যুব শক্তির সিনিয়র মুখ্য সংগঠনক শাকিল সরদারের নেতৃত্বে প্রথমে নেতাকর্মীরা থানায় যায়। পরে মহানগর যুবশক্তির আহবায়ক তরিকুল ইসলাম এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাজীপুর মহানগর সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল মনিরসহ নেতাকর্মীরা গাছা থানায় যায়। গিয়ে দেখি থানা থেকে ওসি উধাও হয়ে গেছেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের গোপন ইশারায় ওসি উধাও। পদোন্নতির পর আরও পদোন্নতি পাইতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন জিএমপি কমিশনার ও ওসি। থানা প্রাঙ্গণে স্থানীয় লোকজন, সুশীল সমাজের লোকজন এবং এনসিপির নেতৃবৃন্দ যাওয়ার পরই পুলিশ সিসিটিভি বন্ধ করে দিয়েছে। পরে বিএনপির লোকজন আমাদের নেতাকর্মী ও সুশীল সমাজের লোকজনের ওপর চড়াও হন। এরপর পুলিশ এসে জানায় সকালে সিফাতের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন ওসি। আমরা বলেছি, সিফাতকে ছাড়া আমরা থানা থেকে যাবো না। আমাদের নেতাকর্মীরা রাত ২টা পর্যন্ত থানায় অবস্থান করছেন। আমরা ন্যায়বিচার চাই।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিফাত তার ফেসবুক আইডিতে ১ মিনিট ২৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও আপলোড করেন। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, তার বাসায় চলতি মাসে ৪ হাজার এবং তার আগের মাসে ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল এসেছে। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও সরকার সংশ্লিষ্টদের গালিগালাজ করেন। ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা গাছা থানা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে রাত ৯টার দিকে তাকে থানায় নিয়ে আসে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির দায়ে তাকে আটক করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, সিফাতের আটকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।