Image description
রয়েছে ১০ সহযোগী ও ভাড়াটে শুটার

রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকার তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি ইসমাইল হোসেন সজল ওরফে অটো সজল আড়াই মাস ধরে কারাগারে। তবে বন্দি অবস্থায় থাকলেও বাইরের মাদক সাম্রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ তার হাতেই। অটো সজলের ‘মাদক বিক্রির’ হাটে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালেই গুলি ছুড়ে আতঙ্ক ছড়ায় তার লোকজন। গত রোববার গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ এলাকায় এলোপাতাড়ি গুলিতে তিনজন আহত হওয়ার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে এসব তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ সূত্র বলেছে, রাজধানীর স্বামীবাগ-সায়েদাবাদ থেকে শুরু করে পুরো গেন্ডারিয়া এলাকার দুই পাশে অটো সজলের ‘মাদকের হাট’। এ হাট রক্ষায় নিজস্ব বিক্রেতার পাশাপাশি রয়েছে অন্তত ১০ জন সহযোগী ও ভাড়াটে শুটার। সম্প্রতি স্থানীয় লোকজন তার তিন সহযোগীকে ধরে পুলিশে দেয়। ওই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত রোববার সন্ধ্যায় সজলের লোকজন ভয় ছড়াতে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে পথচারী ও দোকানিসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে গুলির ঘটনায় গত ১৯ জুন অটো সজল গ্রেপ্তার হন। ওই সময়ে তার কাছে থানা থেকে লুট হওয়া দুটি পিস্তল জব্দ করা হয়। সজলকে গ্রেপ্তারের পর তার মাদকের পুরো কারবার নিয়ন্ত্রণ করতেন তার ছোট ভাই সজিব। এরপর সজিবকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকেও থানা থেকে লুট হওয়া পিস্তলসহ চারটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, সজলের অন্তত ১০ বিশ্বস্ত সহযোগীর মাধ্যমে পুরো মাদকের কারবার নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে। যারা সকালে নিজস্ব খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে মাদক সরবরাহ করে আবার রাতে বিক্রির টাকা বুঝে নেন।

পুলিশের একজন কর্মকর্তা কালবেলাকে বলেন, সজলের অন্তত ১০ জন সহযোগীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। যারা যাত্রাবাড়ি ও সায়েদাবাদ এলাকায় বিভিন্ন পরিবহনের টিকিট বিক্রির কাজ করেন। টিকিট বিক্রির এই কাউন্টারগুলোকে বলা হয় ‘হট লাইন’। সজলের সহযোগীরা এই ‘হট লাইনে’ টিকিট বিক্রির ছদ্মবেশে তার হয়ে কাজ করছেন। ১০ সহযোগীর প্রত্যেকের হাতে আবার রয়েছে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন কিশোর বা উঠতি বয়সী সহযোগী। যাদের অধিকাংশই মাদকের সঙ্গে জড়িত। সজলের হয়ে কাজ করায় সেবনের জন্য বিনামূল্যে মেলে মাদক।

ওই কর্মকর্তা বলেন, পুরো মাদকের কারবার নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য রয়েছে অস্ত্রধারী আরও একটি দল। যারা গুলি করতে দক্ষ। ভাড়ায় সজলের হয়ে তারা কাজ করছেন।

গত রোববারের ওই গুলির ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) ওয়ারি বিভাগ। গ্রেপ্তাররা হলেন—ফরিদ বেপারী, মো. সবুজ, শাহাদাত হোসেন আলিফ ও রিফাত হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে গ্রেপ্তার চারজনের বিষয়ে তথ্য দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ডিবির কর্মকর্তারা।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ অবৈধ অস্ত্রধারী, সন্ত্রাসী ও মাদক ক্রয়-বিক্রয় চক্রের সক্রিয় সদস্য। স্বামীবাগ এলাকায় গোলাগুলি ও দেশীয় অস্ত্রের মহড়ার ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে তাদের ছবি দেখা গেছে। ঘটনার পর থেকেই তারা বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন। ডিবির ওয়ারি বিভাগের একটি দল অভিযান চালিয়ে ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি সূত্র জানায়, গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ফরিদ সজলের অন্যতম সহযোগী। ১০ বছর ধরে তিনি সজলের মাদকের কারবারে জড়িত। একসময় মাদকের খুচরা বিক্রেতা ছিলেন, পরে হয়ে ওঠেন সজলের বিশ্বস্ত সহযোগী। গত রোববার হামলার সময় ফরিদ সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

কারাবন্দি থাকলেও বাইরের মাদকের কারবার সজলের নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা পরিদর্শক (মিডিয়া) জান্নাতুল ফরহাদ কালবেলাকে বলেন, ‘কারাগারে বসে বাইরের কোনো কিছু নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। এটা শুধু কাল্পনিক গল্পেই সম্ভব। কারাগারে থাকা বন্দির জন্য শুধু পরিবার ও তার আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। এর বাইরে কারও সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নেই।’