সরকার ঘোষিত নবম পে-স্কেলের আওতায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছয় লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীকেও অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের মতো তারাও নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী বর্ধিত মূল বেতনের সুবিধা পাবেন বলে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলনও বলেছেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি সরকার বিবেচনায় নিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আগামীর সময়ের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বললেন, ‘শিক্ষকদের কাজ হচ্ছে ক্লাসরুমে পড়ানো। তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর দায়িত্ব সরকারের। সে কাজটি করা হচ্ছে। কেবিনেটে শিক্ষকদের বিষয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তা নিয়ে তাদের চিন্তার কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যে শিক্ষকদের বিষয়টি জানেন। আমরা এ নিয়ে কাজ করছি।’
এর আগে খুলনা ও চাঁদপুরে পৃথক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্ট করেন, শিক্ষকরা পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাবেন।
মঙ্গলবার সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, নতুন পে-স্কেলের সুবিধার আওতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদেরও আনা হচ্ছে। বর্তমানে তারা যে গ্রেডে আছেন, নতুন বেতন কাঠামোতেও সেই গ্রেড অনুযায়ী বর্ধিত মূল বেতন পাবেন। একই সঙ্গে মূল বেতনের সঙ্গে নির্ধারিত ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়াসহ সংশ্লিষ্ট কিছু ভাতাও বাড়বে।
এ খাতে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা।
ছয় লাখের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বাজেট শাখার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ছয় লাখের বেশি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। এর মধ্যে মাউশির অধীনে প্রায় চার লাখ, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় পৌনে দুই লাখ এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারী কাজ করছেন।
নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলোতে শিক্ষক-কর্মচারীদের সর্বশেষ তথ্যভাণ্ডার এবং বেতন-ভাতার হিসাব হালনাগাদের কাজ চলছে।
তবে সরকারি চাকরিজীবীদের মতো সব ভাতা একসঙ্গে বা একই হারে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কার্যকর হওয়ার নজির নেই। এবারও কোন ভাতা কী হারে দেওয়া হবে, তা পৃথক সরকারি আদেশের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বললেন, ‘এটি সরকারের সর্বোচ্চ মহলের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা হতাশ হবেন না, এতটুকু বলতে পারি। এটি নিয়ে কাজ চলছে।’
অষ্টম পে-স্কেলের অভিজ্ঞতা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার সময়ও শুরুতে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে স্পষ্টতা ছিল না। পরে বিশেষ পরিপত্রের মাধ্যমে তাদের নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এবারও গেজেট প্রকাশের পর অর্থ বিভাগ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করে পৃথক পরিপত্রের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-স্কেলের সুবিধা নির্ধারণ করতে পারে।
২০১৫ সালের পে-স্কেলের ক্ষেত্রে পৃথক পরিপত্রের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নতুন মূল বেতনের সুবিধা পান। পরে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে তারা ব্যাংকের মাধ্যমে বর্ধিত মূল বেতন পান। অন্যান্য ভাতা সমন্বয়ের কাজ সম্পন্ন হয় ২০১৭ সালে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নবম পে-স্কেলের ক্ষেত্রেও মোটামুটি একই প্রক্রিয়ায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সমন্বয়ের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।