Image description
অপরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার ফল

খুলনায় ফুটপাত থেকে শুরু করে নামিদামি হোটেলের খাবারেও পাওয়া গেছে মানুষের মলের জীবাণু সালমোনেলা ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ই-কোলাই। নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক পরীক্ষায় হোটেলের সালাদ, মাছ-মাংসের তরকারি, মিষ্টি, ভর্তা ও পাস্তার ২০টি নমুনার সবকটিতেই মানবদেহের জন্য চরম ক্ষতিকর এসব ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব মিলেছে। শুধু হোটেলের খাবারই নয়, খুলনার বাজারে বিক্রি হওয়া গুড়, ডালডা, রাস্তার পাশের শরবত, ঘি ও দুধেও মিলেছে ভয়াবহ মাত্রার ভেজাল ও নিষিদ্ধ রাসায়নিক।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিচ্ছন্নতা ও যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণেই খাবারে এসব জীবাণু ছড়াচ্ছে, যা শিশু ও বয়স্কদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ খুলনা জেলা অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, কয়েকটি খাদ্যপণ্যের ওপর কয়েক মাস ধরে পরীক্ষা চালায় সংস্থাটি। এতে দেখা যায়, গুড়ে উচ্চমাত্রার হাইড্রোজ সালফাইট ব্যবহার করা হয়। শুধু কালো গুড়কে লাল রং দেওয়ার জন্যই এই ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করেন ব্যবসায়ীরা। মুড়ি ও জিলাপিতেও এটি ব্যবহার করা হয়। ঘিতে পাওয়া গেছে ট্রান্সফ্যাটি এসিড। যদিও এর মাত্রা খুব কম। রাস্তার পাশের শরবতে দেওয়া হচ্ছে সোডিয়াম সাইক্লোজেট নামক ঘন চিনি। স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে বিশ্বের অনেক দেশেই এটি নিষিদ্ধ। ডালডায় রয়েছে ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাটি এসিড।

নমুনা পরীক্ষায় আরও দেখা গেছে, বাজারে যেসব ডালডা পাওয়া যায়, সেখানে মানুষের গ্রহণের স্বাভাবিক মাত্রা ২ শতাংশ। তবে খুলনার বাজারে পাওয়া ডালডায় এর মাত্রা ২৪.৩৮ শতাংশ। যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। দুধে মেশানো হয় ভেজিটেবল প্রোটিন। দুধ বাজারে আনার আগে মধ্যস্বত্বভোগীরা এর সঙ্গে পানি ও সয়াবিন বিজ পাওডার মেশায়। যদিও এই প্রোটিন ক্ষতিকর নয়। এতে মানুষ দুধ খাওয়ার নামে প্রতারণার শিকার হচ্ছে। এর পাশাপাশি চিনি, ফিটকিরি, রং, সিরাপ, গ্লুকোজ দিয়ে তৈরি হচ্ছে নকল মধু। খুলনার কয়রা, দাকোপ উপজেলাসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় এসব মধু।

খাদ্য নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাবার তৈরির কাজে জড়িতরা টয়লেট ব্যবহারের পর ভালোভাবে পরিষ্কার না হয়ে ফের রান্নায় কাজ করা, অপরিষ্কার পানি ব্যবহার, কাঁচা ও রান্না করা খাবার একসঙ্গে রাখা, অপরিষ্কার বাসনপত্র ব্যবহার, খাবার পরিবেশনের সময় স্বাস্থ্যবিধি না মানা এবং খাবার দীর্ঘ সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ না করলে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সুমন রায় বলেন, সালমোনেলা ও ই-কোলাইয়ের কিছু ক্ষতিকর ধরন খাবার ও পানির মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করলে ডায়রিয়া, বমি, পেটব্যথাসহ বিভিন্ন ধরনের অসুস্থতা সৃষ্টি করতে পারে। জ্বর ও পানিশূন্যতার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। শিশু, বয়স্ক ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি হতে পারে।

খুলনা জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, আমরা বিভিন্ন হোটেল থেকে খাবার এনে ল্যাবে পরীক্ষা করেছি। ২০টি নমুনার সবগুলোতেই সালমোনেলা ও ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া পেয়েছি। খাবার দুই ঘণ্টা পরপর গরম করতে হয়। না হলে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্ম নেয়। তিনি খাবার কেনার আগে ভোক্তাদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।