Image description

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গতকাল নবমবারের মতো রোহিঙ্গা গণহত্যা স্মরণ দিবস পালিত হয়। দিবসটি উপলক্ষে ক্যাম্পে সমাবেশ, র‌্যালি, আলোচনা ও স্মরণসভা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এসব কর্মসূচিতে মিয়ানমারের রাখাইনে ২০১৭ সালের সহিংসতায় নিহতদের স্মরণের পাশাপাশি মিয়ানমারে নিজ ভূমিতে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার দাবি তুলে ধরেন বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। দিবসটি পালনের অংশ হিসেবে রোহিঙ্গাদের সংগঠন ‘ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা’ (ইউসিআর) উখিয়া ক্যাম্পে গতকাল সমাবেশ আয়োজন করে। এ সময় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা নারী পুরুষরা নিরাপদ প্রত্যাবাসনসহ বিভিন্ন দাবিতে প্লে কার্ড, ফেস্টুন বহন করেন। ‘গণহত্যার বিচার চাই’, ‘নিরাপদ প্রত্যাবাসন চাই’, ‘নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই’সহ বিভিন্ন দাবি সংবলিত স্লোগান দেন তারা।

সমাবেশে বক্তারা ২০১৭ সালে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত গণহত্যা, নির্যাতন ও বাস্তুচ্যুতির বিচার এবং নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার দাবি জানান। সমাবেশে বক্তারা বলেন, মিয়ানমারে নিরাপত্তা, নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন টেকসই হবে না। এ জন্য তারা আন্তর্জাতিক মহলের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।

সংগঠনের প্রেসিডেন্সিয়াল প্যানেলের সদস্য ও রোহিঙ্গা অধিকারকর্মী সৈয়দ উল্লাহ বলেন, ‘২০১৭ সালের গণহত্যার ৯ বছর পেরিয়ে গেলেও আমরা এখনো ন্যায়বিচার পাইনি। আমরা আমাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরে যেতে চাই। নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না করে কোনো প্রত্যাবাসন আমরা চাই না। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আমাদের আহ্বান-রোহিঙ্গাদের ওপর সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিন এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করুন।’ এদিকে ক্যাম্পে সমাবেশ কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এপিবিএনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান ৮ এপিবিএনের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ।

ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়ে আছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত রাখাইনে চলমান সংঘাতের কারণে নতুন করে আরও প্রায় দুই লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ইউনাইটেড কাউন্সিল অব রোহিঙ্গা (টঈজ)-এর নেতারা বলছেন, রোহিঙ্গাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হলো নিজ দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে রোহিঙ্গা কমিউনিটির সদস্যরা মনে করছেন, শুধু সীমান্তের ওপারে মানুষ পাঠিয়ে দিলেই প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হবে না। প্রত্যাবাসনের আগে রাখাইনে চলমান সংঘাত বন্ধ, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিজ ভূমিতে ফেরার সুযোগ, জমি-বাড়ির অধিকার এবং নাগরিকত্বসহ মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন।