সব মামলার রায় ও আদেশ উন্মুক্ত আদালতে দেওয়ার রীতি প্রচলিত। সুপ্রিম কোর্টেরও নির্দেশনা রয়েছে রায় বা আদেশ উন্মুক্ত আদালতে ঘোষণা করতে হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষেত্রে আইন যেন ভিন্ন। তার চারটি মামলায় আদেশ দেওয়া হয়েছে বিচারকের খাসকামরা থেকে। সম্প্রতি ঢাকার পৃথক আদালত থেকে এসব আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, খাসকামরায় বসে আদেশ লেখা সংবিধান ও আইন পরিপন্থি। সিদ্ধান্ত নিতে বিচারকের সময় লাগলেও উন্মুক্ত আদালতে এসে সবার সামনে আদেশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে করা এসব মামলার আবেদনের আদেশে আইনের স্পষ্ট ব্যতয় ঘটেছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ধারা ৩৬৬ এবং ক্রিমিনাল রুলস অ্যান্ড অর্ডারস (প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রসিকিউটর অব সাব-অর্ডিনেট কোর্টস) ২০০৯-এর ১৭৯(২) এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নিম্ন আদালতের সব আদেশ ও রায় উন্মুক্ত আদালতে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের উপস্থিতিতে ঘোষণা করতে হবে। বিচারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার লক্ষ্যে ২০২১ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার শাখা থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতেও এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে আইনের এ বিধান মানা হয়নি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষেত্রে। বিএনপি সরকার গঠনের পর তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত চারটি মামলার আবেদন করা হয়। সবকটি মামলায় বিচারকরা শুনানি শেষে ‘ওপেন এজলাসে’ বসে আদেশ দেননি।
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আবেদন করা চারটি মামলার নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জুলাই-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বে বসে টিকা না কেনায় হামের প্রাদুর্ভাবে শত শত শিশুর মৃত্যুতে দুটি মামলা, রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনায় ৩৬ জনের মৃত্যুতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একটি ও ধানমন্ডি-৩২-এ ভাঙচুরের অভিযোগে একটি মামলার আবেদন করা হয়। প্রত্যেক মামলায় বিচারকরা বাদীর শুনানি শেষে নথি বিশ্লেষণ ও যাচাই-বাছাই করে পরে আদেশ দেবেন মর্মে জানান। এরপর খাসকামরায় গিয়ে মামলাগুলো খারিজ করে আদেশ দিয়েছেন। খারিজের আদেশে বিচারকরা উল্লেখ করেন, ‘মামলা গ্রহণের বিষয়ে পর্যাপ্ত উপাদান নেই।’
তবে এসব মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবীদের অভিযোগ, শুনানি শেষে উন্মুক্ত এজলাসে বসে আদেশ হলে সঠিক সিদ্ধান্ত আসে। ন্যায়বিচারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। কিন্তু বিচারক খাসকামরায় গেলে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মামলা গ্রহণের বিষয়ে ‘উপর মহল থেকে’ সিদ্ধান্ত আসা এদেশের বিচার ব্যবস্থায় নতুন কিছু নয়। অভিযোগ রয়েছে, অফিস ছুটির সময়েও খাসকামরায় বসে বিচারকরা ড. ইউনূসের মামলার নথিতে আদেশ লিখেছেন। এ ছাড়া ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলা খারিজের আদেশের নথি দেখানো হয় না বলেও অভিযোগ বাদীপক্ষের আইনজীবীদের।
হামে শিশুমৃত্যু হামের প্রাদুর্ভাব এবং শিশুমৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে চলতি বছরের ৫ জুলাই আদালতে একটি মামলার আবেদন করা হয়। হামে ৯ মাসের শিশুকন্যা সাউদা মুসকানের মৃত্যুর ঘটনায় তার বাবা সিরাজুল ইসলাম এ মামলার আবেদন করেন। মামলায় সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুর জাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহলোর অভিযোগ আনা হয়। ওইদিন সকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন। এরপর অন্য মামলার শুনানি শেষে তিনি খাসকামরায় যান। পরে সেদিন বিকেলে মামলার নথিতে তিনি লেখেন, মামলার আবেদনের বিষয়ে আগামী ১২ জুলাই আদেশ দেবেন।
এরপর ১২ জুলাই বিকেলে ‘মামলাটি গ্রহণের উপাদান না থাকায়’ ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় খারিজ করা হয়েছে মর্মে জানানো হয়। তবে খারিজের সেই আদেশও খাসকামরা থেকে নথিতে লিখে দেওয়া হয়। আইনজীবীদের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত আদালতে দেওয়া হয়নি বলে জানান এ মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি।
পপি কালবেলাকে বলেন, “টিকা না কেনায় শিশুমৃত্যুর দায় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগ এড়াতে পারে না। মামলা গ্রহণের মতো উপাদান ছিল। মামলায় বাদীর জবানবন্দির পর খারিজের আদেশ হলে আইনজীবীদের প্রশ্নের মুখে পড়বেন বলে খাসকামরা গিয়ে নথিতে লিখে আদেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া খাসকামরায় গেলে ‘উপর মহল’-এর সঙ্গে আলাপের সুযোগ থাকে।”
এ আইনজীবী আরও বলেন, ‘শুনানি শেষে বিচারক পরে আদেশ দেবেন বলে জানান। কিন্তু খাসকামরায় গিয়ে বিচারক নথিতে লিখে দেন ১২ জুলাই আদেশ দেবেন। ১২ তারিখ বিকেলে নথিতে লিখে দেন মামলা খারিজ। একবারও ‘ওপেন এজলাসে’ বসে বিচারক আদেশ দেননি। এমনকি কী কারণে মামলা খারিজ হলো জানতে চাইলে আমাদের নথিও দেখানো হয়নি। পরে সার্টিফাইড কপি তুলে আদেশের নথি দেখতে হয়েছে।’
হামের আরেক মামলা হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুদের ‘অবহেলাজনিত মৃত্যুর’ অভিযোগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে আরও একটি মামলার আবেদন করেন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য (স্বতন্ত্র) মজিবুর রহমান ইকবাল। গত ৮ জুন সকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে ওই মামলার আবেদন করেছিলেন তিনি। বিচারক বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশ পরে দেবেন মর্মে অপেক্ষমাণ রাখেন। পরবর্তী সময়ে বিচারক ‘মামলা গ্রহণ করার উপাদান না থাকার’ কারণ দেখিয়ে আবেদনটি খারিজ করে দেন। তবে সে আদেশও প্রকাশ্য আদালতে দেওয়া হয়নি।
খাসকামরা থেকে নথিতে আবেদন খারিজের আদেশ লেখা হয়। এ মামলার আবেদনে অন্য আসামিরা ছিলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগম, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. সাইদুর রহমান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সায়েদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর।
মামলার আবেদনে বলা হয়, ‘মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার হাম-রুবেলার টিকা আমদানি বন্ধ করে দেয়। ওপেন টেন্ডার বা উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ায় টিকা আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দীর্ঘ দেড় বছর সময়ক্ষেপণ করা হয়। যার ফলে দেশে টিকার তীব্র সংকট দেখা দেয়।’ এমপি আরও অভিযোগ করেন, ‘ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স (যিনি মামলার ২ নম্বর সাক্ষী) গত ২০ মে গণমাধ্যমে জানান, হাম-রুবেলা টিকার সম্ভাব্য সংকটের বিষয়ে আসামিদের দপ্তরে পাঁচ-ছয়টি চিঠির মাধ্যমে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে আমদানি প্রক্রিয়া বন্ধ না করার অনুরোধও জানানো হয়েছিল। কিন্তু আসামিরা ক্ষমতার অপব্যবহার ও চরম অবহেলা প্রদর্শন করে সেই সতর্কবার্তায় কর্ণপাত করেননি। টিকা না পাওয়ার কারণে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মহামারি আকার ধারণ করে ও ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আসামিরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দোষী।’ বাদী মজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, “তিনি রাজধানীর বনানী থানায় এ মামলা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আসামিরা ‘অত্যন্ত প্রভাবশালী ও ভিআইপি ব্যক্তি’ হওয়ায় থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নিয়ে আদালত আসার পরামর্শ দেয়।”
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি মামলা গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের একটি ভবনের মুখে বিধ্বস্ত হয়। দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এ বিমান দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পাইলট মিলে মোট ৩৬ জন মারা যান। রাজধানীর জনবহুল এলাকায় বিমান প্রশিক্ষণের অনুমতি দেওয়া, দুর্ঘটনার পর উদ্ধারের ক্ষেত্রে দায়িত্বের অবহেলা ও ক্ষতিপূরণের প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে নিহত স্কুলশিক্ষার্থী উক্য ছাইং মারমার বাবা উসাইমং মারমা গত ৭ মে আদালতে মামলার আবেদন করেন। মামলায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলসহ ১৬ জনকে এ মামলার আসামি করা হয়।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত সকালে বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং নথি পর্যালোচনা করে পরে আদেশ দেবেন বলে জানান। এরপর বিচারক অন্য মামলার শুনানি করে খাসকামরায় যান। পরবর্তী সময়ে বিকেলে বিচারক খাসকামরায় বসে নথিতে লেখা আদেশে জানান, মামলা গ্রহণের জন্য তেমন কোনো উপাদান না থাকায় আবেদনটি খারিজ করা হলো। খারিজের বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী এ কে এম শারিফ উদ্দিন তখন জানান, ‘এত বড় দুর্ঘটনায় দায় কার, জনবহুল এলাকায় বিমান প্রশিক্ষণের অনুমতি কে দিল, উদ্ধারের ক্ষেত্রে বিলম্ব হয়েছে কি না, কেন ক্ষতিগ্রস্তরা সঠিক ক্ষতিপূরণ পেল না—এগুলোর তদন্ত হওয়ার দরকার ছিল। এতে জাতি জানতে পারত এত বড় ট্র্যাজেডির নেপথ্যে কারা জড়িত। অন্তর্বর্তী সরকার এ দায় এড়াতে পারে না।’
মামলাটির আবেদনে বলা হয়, আসামিরা রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে নিরাপত্তা বিবেচনা ছাড়াই যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত এফ-৭ যুদ্ধবিমানকে জনবহুল ঢাকা শহরের ওপর প্রশিক্ষণ উড্ডয়নের অনুমতি দেন। এর ফলে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিপুল প্রাণহানি ঘটে। এ ছাড়া দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কার্যক্রমে দায়িত্বে অবহেলা, আহতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনায় অবহেলার কারণে অনেক শিশু স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেছে। এ মামলার দুজন সাক্ষী মো. রেজাউল করিম এবং মুহাম্মদ আব্দুল সামাদের একটি করে সন্তানের মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিবারকে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা এবং আহতদের নির্ধারিত হারে ক্ষতিপূরণের প্রকাশ্য ঘোষণা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি।
ধানমন্ডি ৩২ ভাঙচুর ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট ধানমন্ডি-৩২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিজড়িত বাসভবন ভাঙচুর ও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়। গত ২০ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে বাদী হয়ে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা (৪৪) নামে এক নারী মামলাটির আবেদন করেন। বিচারক বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে নথি পর্যালোচনা করে পরে আদেশ দেবেন বলে জানান। এরপর বিচারক অন্য মামলার শুনানি শেষে খাসকামরায় যান। পরে দুপুরে খাসকামরা থেকেই মামলাটির খারিজের আদেশ আসে। ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় মামলাটি বিচারক খারিজ করেছেন মর্মে জানান সিএমএম কোর্টের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।
আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ‘খাসকামরা থেকে আদেশ’-এর বিষয়ে কালবেলাকে বলেন, ‘আমাদের বিচার ব্যবস্থা হলো উন্মুক্ত বা ‘ওপেন ট্রায়াল’। উন্মুক্ত মানে বিচার কক্ষে বসে আদেশ দেওয়া। সে আদেশ এক লাইনে হোক, দুই লাইনে হোক বা তিন পৃষ্ঠার হোক—সেটা উন্মুক্ত বিচার কক্ষে বসে আদেশ দিতে হবে। খাসকামরায় বসে আদেশ লেখাটা আমাদের সংবিধান পরিপন্থি। খাসকামরায় গিয়ে আদেশের গ্রামার, বানান বা দাঁড়ি-কমার ভুল হলে সেটা ঠিক করা যেতে পারে। কিন্তু মূল আদেশটা উন্মুক্ত আদালতে বলতে হবে।’
ড. মালিক আরও বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় বিচারক দুপক্ষের কথা শুনলেন। তবে সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগতে পারে। তখন তার বলা উচিত, এটার আদেশ আমি এখন দেব না। দুই-তিন ঘণ্টা পর দেব বা কাল দেব। কিন্তু মূল আদেশটা উন্মুক্ত আদালতে এসে সবার সামনেই ঘোষণা করতে হবে।’
ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আবেদন করা চারটি মামলা ‘খাসকামরা থেকে আদেশ’ হয়েছে জানালে জ্যেষ্ঠ এ আইনজীবী বলেন, ‘খাসকামরায় বসে আদেশ, এটা কাম্য নয়। এতে বিচার ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা কমে যায়। শাহদীন মালিক আরও বলেন, ‘তবে কেউ যদি হয়রানিমূলক মামলা করতে চান, তখন বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও বিধান রয়েছে। সবকিছুই উন্মুক্ত আদালতে বসে আদেশ দিতে হবে।’
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব ও সাবেক জেলা জজ মো. শাহজাহান সাজু কালবেলাকে বলেন, ‘সাধারণত সকল মামলার আদেশ প্রকাশ্য আদালতে দেওয়ার নিয়ম। কিন্তু অনেক সময় আদালতে অন্য মামলার শুনানির তাড়া থাকে। তাই নথি পর্যালোচনা করতে সময় নেন বিচারক। তবে পরবর্তী সময়ে সব মামলার আদেশ অবশ্যই প্রকাশ্য এজলাসে দিতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নথি পর্যালোচনার করতে সময় নিলে অর্থাৎ চেম্বার বা খাসকামরায় নিলে ভালো ও খারাপ উভয় দিকই রয়েছে। এতে আদালতের এজলাস সময়ে অনেক মামলার শুনানি করা যায়। অন্যদিকে, আদেশ অপেক্ষমাণ থাকলে আইনজীবীরা তাদের মক্কেলদের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বাড়তি টাকা হাতিয়ে নেন। আইনজীবীরা বলে, আদেশ আপনাদের পক্ষে আসবে। এটা বলে বাড়তি টাকা নেয়। এভাবে আদালতকে বিক্রি করে একশ্রেণির আইনজীবী।’