উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ২০২০ সালে দেশ ছেড়েছিলেন ঢাকার নবাবগঞ্জের সুজন। লক্ষ্য ছিল ভারতের একটি নামি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফেরা, তারপর সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়া।
সুজনের মতো এমন ১২৫ জন শিক্ষার্থীকে এভাবে জিম্মি করে রেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাঁদের অভিযোগ, শতভাগ স্কলারশিপ, বিনা খরচে আবাসনসহ নানা সুযোগ-সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রথমে নেওয়া হয়েছে মোটা অঙ্কের টাকা। বিদেশে যাওয়ার পর জানা গেছে, প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। পড়াশোনার শেষ পর্যায়ে এসে কারো ফল আটকে গেছে, কারো সনদ।
উচ্চশিক্ষার স্বপ্নে বিভোর শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে বিস্তৃত হচ্ছে প্রতারণার জাল। কনসালটেন্সি ফার্মগুলোর চটকদার বিজ্ঞাপন ও ভুয়া প্রতিশ্রুতির আড়ালে গত দুই দশকে প্রতারিত হয়েছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী। বর্তমানে রাজধানীর ফার্মগেট, মতিঝিল, উত্তরা ও গুলশানের মতো এলাকায় ৩৫০টির বেশি এমন প্রতিষ্ঠান সক্রিয় রয়েছে, সারা দেশে যার সংখ্যা দুই সহগ্রাধিক। সম্প্রতি ‘ভিসা গাইড’ নামের একটি কথিত এজেন্সির ভয়ংকর জালিয়াতি সামনে এসেছে।
এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগে গত বছর বিএসবি গ্লোবাল নেটওয়ার্ক নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এম কে খায়রুল বাশারকে গ্রেপ্তার করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বাশারের বিরুদ্ধে ১৪১ জন শিক্ষার্থীর ১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এই চক্রটির ফাঁদে কিভাবে পড়ছেন, তা উঠে আসে কালের কণ্ঠের অনুসন্ধানে। চক্রগুলো সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘আইইএলটিএস ছাড়া ভর্তি’, ‘শতভাগ ভিসা গ্যারান্টি’ কিংবা ‘কোনো ডকুমেন্ট ছাড়াই এক সপ্তাহে ভিসা’—এমন সব আকর্ষণীয় প্রলোভন দিয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বীকৃত পার্টনার না হয়েও মিথ্যা তথ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করে। পরে টিউশন ফির নামে মোটা অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করে। এ ছাড়া ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা কুরিয়ারের দোহাই দিয়ে নানা চার্জও চাপিয়ে দেয়।
এসব জালিয়াতির কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পোর্টল্যান্ড স্টেট ইউনিভার্সিটির ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশ ও ভারত থেকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য পাঠানো প্রায় ৬৫ শতাংশ আবেদনই জালিয়াতিপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই ব্যাপক অনিয়মের কারণে ২০২৪ সালেই ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো প্রায় ৩০ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলো ভিসা ফি প্রায় দ্বিগুণ করে দিয়েছে। কড়াকড়িও বাড়িয়েছে।
দেশের বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর দেওয়া তথ্য মতে, ২০১০ থেকে ১০ বছরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী ভিসা কনসালটেন্সি ফার্মগুলোর মাধ্যমে প্রতারিত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে এ ধরনের প্রতারণায় গ্রাহকদের ক্ষতি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১২ বিলিয়ন ডলার।
চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে অনেকে : অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২০ সালে ১২৫ জন শিক্ষার্থীকে ভারতে পাঠায় ফেইথ ওভারসিজ। জনপ্রতি এক লাখ ৭০ হাজার থেকে আট লাখ ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এখন সনদ দেওয়ার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করে তাঁদের শিক্ষাজীবনকে জিম্মি করে ফেলেছে প্রতিষ্ঠানটি।
তাঁদেরই একজন নবাবগঞ্জের সুজন। তাঁর গল্পটা শুরু হয়েছিল ২০২০ সালে। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান সুজন উচ্চশিক্ষার জন্য যোগাযোগ করেন উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত ফেইথ ওভারসিজ অফিসে। প্রতিষ্ঠানটি তাঁকে স্বপ্ন দেখায় ভারতের বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত ‘জেইন (ডিমড-টু-বি ইউনিভার্সিটি)’-তে পড়াশোনার। আশ্বস্ত করা হয়, ‘স্টাডি ইন ইন্ডিয়া’ স্কলারশিপের আওতায় তাঁর টিউশন ফি, আবাসন ও অন্যান্য খরচ বিশ্ববিদ্যালয় বহন করবে। কথামতো সুজন প্রতিষ্ঠানটিকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা প্রদান করেন।
ভারতে পৌঁছার পর সুজনের চোখের সামনে থেকে রঙিন পর্দা সরতে শুরু করে। তিনি দেখতে পান, ফেইথ ওভারসিজ তাঁকে যে স্কলারশিপ ও সুযোগ-সুবিধার কথা দিয়েছিল, বাস্তবে তার কোনো অস্তিত্ব নেই। চুক্তির কোনো শর্তই পূরণ করা হয়নি সেখানে। বিপত্তি আরো বাড়ে শিক্ষাজীবনের শেষ পর্যায়ে এসে। ফাইনাল পরীক্ষার ঠিক আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁর কাছে তিন লাখ ভারতীয় রুপি দাবি করে বসে।
অসহায় সুজন বিষয়টি ফেইথ ওভারসিজকে জানালে তারা সহযোগিতার পরিবর্তে সাফ জানিয়ে দেয়, এই টাকা না দিলে তিনি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন না। এমনকি তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হোস্টেল থেকেও বের করে দেওয়া হয়। অনেক অনুনয়-বিনয় করে কোনোমতে পরীক্ষায় বসার সুযোগ পেলেও তার ফলাফল এখন ‘উইথহেল্ড’ বা স্থগিত করে রাখা হয়েছে।
সুজনের অভিযোগ, তিনি যখন ডিগ্রি ও শিক্ষা সনদ সংগ্রহ করতে চাইছেন, তখন ফেইথ ওভারসিজ তাঁর কাছে অতিরিক্ত দেড় লাখ টাকা দাবি করছে। প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, এই টাকা না দিলে তাঁকে কোনো সনদ বা ফলাফল দেওয়া হবে না। শুধু তা-ই নয়, ২০২১ সালে স্বাস্থ্য বীমার নামেও তাঁর কাছ থেকে কোনো স্বচ্ছ ব্যাখ্যা ছাড়াই আরো ৬৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গত ২৫ জুলাই সুজন তাঁর অভিভাবকদের নিয়ে উত্তরার ফেইথ ওভারসিজ অফিসে যান একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের আশায়। কিন্তু সমাধানের বদলে সেখানে জোটে অপমান ও হুমকি। প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা তাঁদের সঙ্গে চরম অশোভন আচরণ করেন এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে অফিস ত্যাগে বাধ্য করেন।
এই ভয়াবহ জালিয়াতি ও প্রতারণার প্রতিকার চেয়ে সুজন গত ২৫ জুলাই উত্তরা পূর্ব থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এতে তিনি ফেইথ ওভারসিজের মালিক, পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রুজু এবং তাঁদের আর্থিক লেনদেন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সুজনের মতো একই প্রতারণার সাক্ষী হয়েছেন আরেক শিক্ষার্থী (সংগত কারণে নাম প্রকাশ করা হলো না)। তিনিও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে ফেইথ ওভারসিজের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
ভুক্তভোগী এই শিক্ষার্থীর অভিযোগ, শতভাগ স্কলারশিপের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার পর তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বরং সুজনের মতো তাঁকেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যে নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
উত্তরা পূর্ব থানায় দায়ের করা অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ২০২০ সালে ভারতের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং শতভাগ স্কলারশিপের আশ্বাস দিয়ে তাঁর কাছ থেকে ধাপে ধাপে প্রায় ছয় লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু পড়াশোনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, তাঁর স্কলারশিপ কার্যকর হয়নি। ফলে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ না করা পর্যন্ত তাঁর সার্টিফিকেট দেওয়া হবে না।
নামে ফেইথ, কাজে... : গত ২৫ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় ফেইথ ওভারসিজের কার্যালয়ে যায় কালের কণ্ঠ অনুসন্ধানী দল। উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরের তিনতলা একটি ভবনের দোতলায় তাদের কার্যালয়। ফটকের সামনে যেতেই নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ নেওয়ার আগ্রহ দেখালে মেলে দোতলায় যাওয়ার অনুমতি।
দোতলায় পৌঁছতেই অভ্যর্থনা ডেস্কে আবারও বাধা। তাদের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিজ্ঞাপন দেখিয়ে আগ্রহের কথা জানালে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মেলে।
অফিসের আরেক কর্মকর্তা ফাতিমার কাছে গিয়ে ছদ্মবেশে জানাই, ‘আমরা টুকটাক দালালি করি। কিছু ছাত্র-ছাত্রী আমাদের কাছে আছে। ওই স্টুডেন্টগুলো আপনাদের দেব।’
আমরা জানতে চাই, দালালির জন্য আমাদের কত টাকা কমিশন দেওয়া হবে। আর এই কথা শুনেই গলে যায় ফাতিমার মন। এরপর ফাতিমা নিজেই আমাদের নিয়ে যান প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক নুসরাত সুলতানার কাছে।
নুসরাতের কাছে প্রতারিত ১২৫ শিক্ষার্থীর বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টো ধমকের সুরে বলেন, ‘এ রকম দলবল নিয়ে থ্রেট দিতে আসছেন? যদি ভুলভাল নিউজ করেন, তাহলে আপনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।’
শহরজুড়ে প্রতারকচক্র : শুধু উত্তরা নয়, রাজধানীর মহাখালী, বনানী, গুলশান, গ্রিন রোড, পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেছে কালের কণ্ঠ। গ্রিন রোডে আর এইচ হোম সেন্টার ভবনের পুরোটাই যেন কনসালটেন্সি ফার্মের আখড়া। ১২ তলা ভবনের অষ্টম তলা পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের কার্যালয় ও প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বেশির ভাগই কনসালটেন্সি ফার্ম।
ভবনের চতুর্থ তলায় গিয়ে দেখা গেল, বেশ কয়েকটি কনসালটেন্সি ফার্মের অফিস তালাবদ্ধ। এর মধ্যে ৩২৮ ও ৩২৯ নম্বর অফিসটি হলো ভেন্টারাস প্রফেশনাল ইনস্টিটিউটের, যেটি বছরখানেক ধরে তালাবদ্ধ।
ওই ফার্মের পাশের ইংরেজি শিক্ষার একটি প্রতিষ্ঠানের জান্নাত আক্তার কালের কণ্ঠকে জানান, অনেক দিন ধরে এই ফার্মটি বন্ধ। মাঝে মাঝেই মানুষ এসে তাদের খোঁজ করে। অনেক স্টুডেন্ট এসে কান্নাকাটি করে। তাদের অভিভাবকরাও আসেন।
এদিকে টাচ ফ্লাই গ্লোবাল নামের আরেকটি কনসালটেন্সি ফার্মের সামনেই বসে ছিলেন ক্লিনার তানিয়াসহ বেশ কয়েকজন। তানিয়া জানান, টাচ ফ্লাই তাঁদের মালপত্র উঠিয়েছিল। এর পরই লাপাত্তা। অনেক মানুষ আসে তাদের খুঁজতে। তারা মানুষের টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছে বলেও জানান তানিয়া।
এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি কনসালটেন্সি ফার্মের মালিক বলেন, ‘যারা চটকদার বিজ্ঞাপন দেয়, তাদের মধ্যে ঝামেলা আছে। তারা টার্গেট করে স্বল্প জ্ঞানী শিক্ষার্থীদের। এরপর তাদের স্কলারশিপের প্রলোভন দেখিয়ে দেশের বাইরে পাঠায়। এই ছাত্ররা গিয়ে বুঝতে পারে যে তারা প্রতারিত হয়েছে।’
তিনি জানান, ফেইথের মতো এসব ফার্মের কাজই প্রতারণা করা। মাঝেমধ্যে এরা মানবপাচারও করে। এই ফার্মের মাধ্যমে স্টুডেন্ট ভিসায় পাঠিয়ে কাজ করায়। এসব ফার্ম এক জায়গায় বেশিদিন অফিস রাখে না। ফেইথের অফিস আগে মহাখালী ছিল, এখন উত্তরায়। তারপর আবার অন্য কোথাও নেওয়া হবে।
নীতিমালা নেই, যেমন খুশি তেমন অপরাধ : খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ধরনের কনসালটেন্সি ফার্ম নিয়ে কোনো নীতিমালা নেই। অপরাধের বিষয়ে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেই। ফলে যে কেউই চাইলে যত্রতত্র ফার্ম খুলে বসে। শুধু সিটি করপোরেশন থেকে একটি ট্রেড লাইসেন্স বা কম্পানি প্রতিষ্ঠা করেই প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে।
জানা গেছে, ২০১০ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের অধীনে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা সংক্রান্ত একটি বিধিমালায় কনসালটেন্সি ফার্মগুলো রাখার কথা ছিল।
২০১৪ সালে এসংক্রান্ত বিধিমালা করা হয়। কিন্তু তাতে ফার্মগুলোর ব্যাপারে কোনো বিধান রাখা হয়নি। নাম প্রকাশ না করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কনসালটেন্সি ফার্মগুলো মূলত ব্যবসা করছে; এগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়। তাই যারা লাইসেন্স দিয়েছে এটা তাদেরই দেখার কথা, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নয়।
এদিকে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা নামসর্বস্ব ও অনুমোদনহীন এডুকেশন কনসালটেন্সি ফার্মগুলোর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লাগাম টানতে সরকারের প্রতি জোরালো দাবি জানিয়েছেন উচ্চশিক্ষা খাত সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা। তাঁরা বলেন, কোনো কঠোর তদারকি বা নির্দিষ্ট নীতিমালা ছাড়াই শুধু সাধারণ একটি ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে এই ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠছে। এতে বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনে আগ্রহীদের সঙ্গে প্রতারণা ও হয়রানির ঘটনা ঘটছে।
‘ফরেন অ্যাডমিশন ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কনসালট্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ফ্যাকড-ক্যাব) প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলি জুয়েল সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, নামমাত্র কিছু টাকা খরচ করে একটি ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে প্রতিদিন নতুন নতুন কনসালটেন্সি সেন্টার গড়ে উঠছে, যা দেশের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা হাজারো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে, যার ফলে শিক্ষার্থীদের স্বপ্নভঙ্গ ও আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। এ ছাড়া যথাযথ কাউন্সিলিংয়ের অভাব এবং অবৈধ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থী পাঠানোর নামে বড় অঙ্কের টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। কনসালটেন্সি ফার্ম পরিচালনার জন্য সরকারিভাবে একটি সুনির্দিষ্ট ও কঠোর রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক বা নীতিমালা তৈরি করা জরুরি।