পারিবারিক বিরোধ ও ব্যবসায়িক সাফল্যকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিত অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন ধর্মীয় বক্তা এবং ৩১৩ প্রপার্টিজ লিমিটেড ও গোল্ডেন রিসোর্ট অ্যান্ড পার্ক-এর চেয়ারম্যান মুফতি হাবিবুর রহমান মিসবাহ্। একই সঙ্গে তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ দিতে পারলে ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে এক ওপেন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি স্ত্রীর বিরুদ্ধে তার নিজের হোয়াটসঅ্যাপের এক্সেস নেওয়ার অভিযোগ এনেছেন তিনি।
সম্প্রতি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা নানা অভিযোগ, দ্বিতীয় স্ত্রীর একতরফা বক্তব্য ও দায়েরকৃত যৌতুক মামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে হাবিবুর রহমান মিসবাহ্ বলেন, ২০ বছর আগে ছাত্রজীবনের স্বল্পমেয়াদী বৈবাহিক সম্পর্ক ও পারিবারিক বিচ্ছেদকে টেনে এনে সামাজিক ও মানসিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই একটি চক্র সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা যৌতুক মামলাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে যৌতুক দাবি করার মতো কোনো যৌক্তিকতা আছে কি না—সেটা দেশবাসী জানেন। তবে যেহেতু মামলা হয়েছে, আমি আইনিভাবেই তা মোকাবেলা করব।’
মামলায় তার বিরুদ্ধে নয়টি বিয়ে ও পরকীয়ার মতো মিথ্যাচার করার অভিযোগ এনে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রীর আইনজীবীর বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।
ঘটনার নেপথ্যে বড় ধরণের ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘প্রায় এক বছর আগে তার অজান্তে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাইমা জান্নাত তার হোয়াটসঅ্যাপ ডিভাইস নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন এবং বেডরুমে গোপন সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেন। উক্ত ভিডিও ফুটেজ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে পরবর্তীতে তার কাছে ১০ লক্ষ টাকা দাবি করে ব্ল্যাকমেইল করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। ৫ আগস্টের পর থেকে দেড় বছরের সন্তানকে নিয়ে তার স্ত্রী আত্মগোপনে রয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি শঙ্কিত এবং এ বিষয়ে ইতোমধ্যে থানায় দুটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।’
ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, কুয়াকাটা ও ঢাকায় ‘৩১৩ এগ্রো ফার্ম’ ও ‘গোল্ডেন রিসোর্ট’-এর ব্যবসায়িক সুনাম ধ্বংস করাই এই চক্রটির মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত বিতর্ককে রাজনৈতিক দল, কওমি অঙ্গন কিংবা কোনো ইসলামি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে না জড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের কোম্পানিতে প্রতি বছর সরকারি অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে অডিট হয় এবং ভ্যাট-ট্যাক্স রিটার্ন আপডেট থাকে। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারেন যে কোনো বিনিয়োগকারীর টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বা হিসাব দিতে পারিনি, তবে তাকে ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার দেব।’
সংবাদ সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তার দ্বিতীয় বিয়েটি আদালতের মাধ্যমে পূর্বে একটি মিথ্যা অভিযোগ থেকে খালাস পাওয়ার পর পারিবারিকভাবে এবং কওমি অভিভাবক ও স্বজনদের উপস্থিতিতেই সম্পন্ন হয়েছিল। এছাড়া সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনকে তিনি ভিত্তিহীন ও একপেশে আখ্যা দিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করার আহ্বান জানান।
সর্বশেষে, কওমি পরিচয়, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং ব্যবসায়িক সফলতা—এই তিন ক্ষেত্রকে একসাথে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই আইনি ও পারিবারিক জটিলতার নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করে পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় লড়াই করার দৃঢ় ব্যক্ত করেন তিনি।