বৃহস্পতিবার (২০ আগট) দুপুরে গুলশানের আজাদ মসজিদে স্বামী তৌফীক নাওয়াজের জানাজার পর দীপু মনির প্রিজন ভ্যান নেওয়া হচ্ছিল বনানী কবরস্থানের দিকে। এ সময় প্রিজন ভ্যানের পেছনে ছুটছিলেন নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা আল রাফি প্রত্যয়।
ভ্যানের পেছন থেকে তাকে “জয় বাংলা, আপা আপনাকে আবার শিক্ষামন্ত্রী চাই, আপা ডিসেম্বরের আগে একটা ফয়সালা হবে”—এমন স্লোগান দিতে দেখা যায়। স্লোগান দেওয়ার মুহূর্তে নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে গুলশান থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ওই ছাত্রলীগ নেতার গ্রেপ্তার নিয়ে দুটি সংবাদ প্রকাশ করে বিডিনিউজ২৪। একটির শিরোনাম ছিলো, ‘দীপু মনির প্রিজন ভ্যানের পেছনে ছুটে চলা তরুণকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার’, অন্যটি ছিলো, ‘দীপু মনির প্রিজন ভ্যানের পেছনে ছোটা তরুণ কারাগারে’
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি মূলত একজন ছাত্রলীগ নেতা। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ না করে শিরোনামে তাকে ‘তরুণ’ হিসেবে উপস্থাপন করে বিডিনিউজ২৪। এছাড়া “দীপু মনির প্রিজন ভ্যানের পেছনে ছুটে চলা তরুণকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার” শিরোনামের প্রতিবেদনটির ভিতরেও কোথাও তাকে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তবে অন্য প্রতিবেদনটির ভিতরে পুলিশের বক্তব্যে তাকে ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাহিদ হাসান নামের এক সংবাদকর্মীর বরাত দিয়ে গ্রেপ্তারের মুহূর্তটিকে মানবিক ও দুঃসাহসী ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
নিউজে উল্লেখ করা হয়, “জাহিদ হাসান নামের এক সংবাদকর্মী প্রত্যয়ের গ্রেপ্তারের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ফেইসবুকে লিখেছেন, ‘কর্মীরা মনে হয় এমনই হয়। গন্তব্য অজানা তবুও তারা দুঃসাহসিক!
“গুলশান আজাদ মসজিদের কাছে দীপু মনির প্রিজনভ্যান ঘিরে মোজো সাংবাদিকেরা। মাঝখানে কিছু তরুণ ছুটছে প্রিজনভ্যানের পিছে। এ সময় দীপু মনির স্বামীর মরদেহবাহী গাড়ি বনানীর উদ্দেশে রওনা দিলে দীপু মনিকে বহন করা প্রিজনভ্যানও ছুটছে তখন। কয়েকজন তরুণ বলছে চিৎকার দিয়ে, আপা কোনো চিন্তা করবেন না। আমরা আছি, কোনো চিন্তা করবেন না। দীপু মনি ভেজা চোখে এই ছেলেটার দিকে কৌতূহলী চাহনি দেন। ছেলেটা তখন বলে উঠেছে, আপা, জয় বাংলা। দীপু মনির প্রিজনভ্যান ছুটছে। মুহূর্তে পুলিশ ছোঁ মেরে ছেলেটা ধরে ফেলছে। আমরা সাংবাদিকেরা দাঁড়ানো। ওরে টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিওটা করেছি। পুলিশ ওরে টানছে আর বলছে, তুই কী করিস, জয় বাংলা বললি কেন। বাড়ি কই?”
পাশাপাশি নিউজে ভিডিও রেফারেন্স হিসেবে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেত্রী রোকেয়া প্রাচীর নাম উল্লেখ করা হয়। তবে রোকেয়া প্রাচীর আওয়ামী লীগের পরিচয় আড়াল করে তাকে শুধু ‘অভিনেত্রী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
একই সংবাদ নিউএইজ পত্রিকায়ও প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটির শিরোনাম ছিল, ‘দীপু মনির প্রিজন ভ্যানের পেছনে ছোটা ছাত্রলীগ নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে’। নিউজে উল্লেখ করা হয়, “শুক্রবার ঢাকার একটি আদালত নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক কর্মীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। রাজধানীর গুলশান এলাকায় সাবেক আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য দীপু মনির স্বামীর জানাজার সময় তার প্রিজন ভ্যানের পেছনে ছোটা অবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে।”
একই বিষয়ে স্টার নিউজে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায়, “গ্রেপ্তার আল রাফি প্রত্যয় ভৈরব উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা। তার স্থায়ী ঠিকানা কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার ভৈরবপুর এলাকায় এবং বর্তমানে তিনি কাঠালবাগানের এবিসি হোস্টেলে বসবাস করছিলেন।”