Image description

জ্বালানি খাতে ফ্যাসিবাদী আমলের দুর্নীতি-অনিয়মের খেসারত গুনছে দেশ। সরকার জ্বালানি আমদানিতে আগের অর্থবছরের চেয়ে দ্বিগুণ ব্যয়ের পরও তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ পাচ্ছে না মানুষ। বাসাবাড়িতে চুলা জ্বলছে না। ফ্যান ঘুরছে না। গাড়ির চাকা ঘুরছে না। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শিল্পের চাকা। ইতোমধ্যেই কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বেকারের তালিকা বড় হচ্ছে। গ্যাসনির্ভর ছোট-বড় প্রায় সব কারখানাতেই উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে; ব্যবসায়ী শিল্পপতি এবং শ্রমিকদের মধ্যে হাহাকার চলছে। যার ফলে রফতানিমুখী তৈরী পোশাক শিল্প, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ওষুধ, সিরামিক ও ইস্পাত শিল্পের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে, উৎপাদনের গতি কমে গেছে। গত এক সপ্তাহে উৎপাদন বন্ধ হয়েছে শতাধিক কারাখানার। দেড় শতাধিক কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতার এক-তৃতীয়াংশে নেমেছে।

জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বর্তমানে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট থাকলেও অর্থনীতি পুরোপুরি স্তব্ধ হওয়ার কারণ নেই। যতটুকু জ্বালানি মজুদ আছে, তা দিয়ে রেশনিংভিত্তিক ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখতে হবে। স্বাভাবিক চাহিদার অনুপাতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ বা গ্যাস সরবরাহ করা সরকারের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। কারণ আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের ঘাটতি। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত পরিসরে পরিচালনা করতে হচ্ছে।উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জটিলতায় পড়েছে বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খলে। পাশাপাশি কমেছে আমদানি। ঝুঁকি তৈরি হয়েছে রফতানি বাজারে।

উৎপাদনের চাকা না ঘুরলেও ব্যবসায়ীকে দিতে হচ্ছে ব্যাংক ঋণের সুদ ও শ্রমিকের মজুরি। এতে ব্যবসার খরচও বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। এমন পরিস্থিতিতে বিপুল কর্মসংস্থানও রয়েছে হুমকিতে। এর প্রভাব পড়ছে দেশের রাজস্ব আয়ে। সামগ্রিকভাবে জ্বালানি সংকট ক্ষতবিক্ষত অর্থনীতিকে আরো বেহাল দশার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অর্থনীতি চাঙা করতে প্রয়োজনে রেশনিংয়ের মাধ্যমে সংকট কাটানোর আহ্বান জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই সংকট চলমান থাকলে রফতানি বাণিজ্য ও জাতীয় অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়বে। অন্যদিকে শ্রমিক নেতারা বলছে, দীর্ঘদিন এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে শ্রমিক অসন্তোষ, কাজ বন্ধ রাখা বা বিক্ষোভের ঝুঁকি রয়েছে।

জানা গেছে, জ্বালানি সংকটের উৎপাদন সেক্টরে সবচেয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও চট্টগ্রাম এলাকার শিল্পাঞ্চলগুলোতে। প্রয়োজনীয় জ্বালানি না থাকায় দেশের রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারাখানাগুলোর অধিকাংশ ইউনিটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উৎপাদন স্থগিত রাখতে হচ্ছে। এতে করে সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের টান পড়েছে। কিছুু প্রতিষ্ঠান বাজারের চাহিদা মেটাতে গুদামে থাকা মজুদ পণ্য অত্যন্ত সীমিত আকারে বা রেশনিং পদ্ধতিতে সরবরাহ অব্যহত রেখেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বাজারে চিনি, আটা, ডাল ও ভোজ্যতেলের মতো পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে।
পোশাক, ইস্পাত ও ওষুধ শিল্পের মতো সংবেদনশীল খাতগুলোতে উৎপাদন সচল রাখতে মালিকরা বিকল্প হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করছেন। এতে কারখানার পরিচালনা এবং উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। ওষুধের কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ না থাকায় জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। তবে দীর্ঘ সময় এমনটি চালানো অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নরসিংদী জেলার প্রায় তিন হাজার টেক্সটাইল মিলের মধ্যে ৯০ শতাংশই বর্তমানে গ্যাসের অভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। কারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ায় শ্রমিকরাও বেকায়দায় পড়ে গেছেন। 

নরসিংদী সদরের আবেদ টেক্সটাইল মিলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, জ্বালানির অভাবে তার কারখানায় গত ২০ দিন ধরেই উৎপাদন বন্ধ রাখতে হয়েছে। একইভাবে খুলনা অঞ্চলের মৎস্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলোতে লোডশেডিংয়ের কারণে হিমাগারে পণ্য সংরক্ষণ করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।নরসিংদী টেক্সটাইল, ডাইং অ্যান্ড প্রিন্টিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিজাম উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, সারাদেশের পোশাক চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই নরসিংদী থেকে সরবরাহ করা হয়। এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে কারখানা মালিকদের পক্ষে শ্রমিকদের বেতন বা গ্যাসের বিল পরিশোধ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। উৎপাদন কমে গেলে পোশাকের চাহিদার সরবরাহ কমে গেলে দাম বেড়ে যাবে।

গ্যাস সংকটের এই প্রভাব গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের পোশাক কারখানাগুলোতেও তীব্রভাবে পড়ছে বলে জানিয়েছেন শিল্প মালিকরা। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ও আয়ের ওপর। অনেক কারখানা উৎপাদন কমার কারণ দেখিয়ে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে। যা শিল্পাঞ্চলগুলোতে অসন্তোষের জন্ম দিচ্ছে। অন্যদিকে জেনারেটর চালানোর মতো পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদনমুখী কারখানাগুলোকে চড়া আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) দুই-তৃতীয়াংশের বেশি কারখানায় উৎপাদন বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মেঘনা গ্রুপের মালিকানাধীন ৫৭টি কারখানার মধ্যে ৪০টির উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ। এর একটি বড় অংশ নিত্যপণ্যের। বাকি যে কারখানাগুলো চালু আছে, সেগুলোতে ছোটখাটো পণ্য বা স্বল্প পরিমাণে উৎপাদন হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের বিসিক এলাকার সাফিয়া অ্যাপারেলসে মাত্র দুই মাস আগেও দৈনিক ২৫ হাজার পিস পোশাক উৎপাদন হতো, যা এখন কমে মাত্র আট হাজারে নেমে এসেছে। ৬০০ শ্রমিকের এই কারখানার পরিচালক রোকন উদ্দিন জানান, উৎপাদন কমে যাওয়ায় নগদ অর্থের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। গত মাসে শ্রমিকদের বেতন দিতে ব্যাংকঋণ নিতে হয়েছে।

নিট পোশাক মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সহ-সভাপতি মোর্শেদ সারোয়ার সোহেল বলেন, শুধু পোশাক কারখানার মালিকরাই ভুগছেন না। এই সংকট শ্রমিকদের ও আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, কিছু কারখানায় উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে ও কিছু কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে দেশের রফতানি, পণ্যের সরবরাহ ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর নগদ অর্থের প্রবাহ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

কেএসআরএম গ্রুপের পরিচালক জসিম উদ্দিন জানান, গত আট দিন ধরে তাদের দুটি কারখানায় উৎপাদন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। আমরা দিনে এক থেকে দেড় ঘণ্টার জন্যও গ্যাস পাচ্ছি না। পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে লে-অফ ঘোষণা করা ছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় থাকবে না।

এসিআই লিমিটেডের বিভিন্ন কারখানায় সামগ্রিক উৎপাদন কমেছে। ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় তাদের বেশ কয়েকটি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে লবণ কারখানা, বন্দর এলাকায় আটা-ময়দা ও ওষুধ তৈরির কারখানা এবং গাজীপুরের কোনাবাড়ী ও টঙ্গীতে ন্যাপকিন, ডায়াপার, বিভিন্ন কৃষি উপকরণ, মোটরসাইকেল সংযোজন ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরি করে কোম্পানিটি। সব কারখানাতেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক নিচে নেমে গেছে।

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, তাদের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোথাও ৩০ শতাংশ, কোথাও ৫০ শতাংশ, কোথাও এর চেয়েও বেশি হারে উৎপাদন কমে গেছে। বিশেষ করে লবণ উৎপাদন বেশি ব্যাহত হচ্ছে। এসিআই লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান বলেন, একদিকে বিদ্যুতের সমস্যা ভোগাচ্ছে। আবার যেসব কারখানায় জেনারেটর দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হতো, গ্যাস না থাকায় এখন সেই জেনারেটরও চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আবার গ্যাস না থাকায় বয়লারনির্ভর কারখানায় উৎপাদন একেবারেই কমে গেছে। সব মিলিয়ে আমাদের বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি মুখে পড়তে হচ্ছে।

তথ্য বলছে, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে রফতানি আয় এসেছিল ৪৮ বিলিয়ন ডলার। সে হিসাবে বছরে দুই ঈদের ছুটি বাদ দিয়ে ৩৫০ দিন কারখানায় উৎপাদন হলে দৈনিক রফতানি আয়ে ক্ষতির পরিমাণ ১৩ দশমিক ৭১ কোটি ডলার। যা দেশীয় মুদ্রায় প্রায় এক হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা। এই ক্ষতির পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহ না থাকলেও কোটি কোটি টাকা গ্যাসবিল গুনছেন ব্যবসায়ীরা। দিতে হচ্ছে শ্রমিকের মজুরি ও ব্যাংক ঋণের টাকা। এতে খরচ বাড়ছে। ফলে কারখানায় উৎপাদন সীমিত করে বা বন্ধ করে বিপুল কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা আছে। এই জনশক্তি আয়ের তাগিদে জড়িয়ে পড়তে পারেন নানা অপকর্মে।

এছাড়া রফতানি পণ্যের উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। উৎপাদন ব্যাহত হলে কাঁচামাল আমদানিও কমবে। এই আমদানি থেকে সরকার শুল্ক, ভ্যাট ও কর আদায় করে। এ থেকে বঞ্চিত হবে সরকার। গত অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছিল ৯২ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতির পরিমাণ আরো বাড়লে সরকারকে ব্যাংকঋণ নিতে হবে ও বিভিন্ন দাতা সংস্থার দারস্থ হতে হবে। শর্তের মারপ্যাঁচে ঋণ নিলেও সরকারকে পড়তে হবে নতুন ঋণচক্রে। আর্থিক অবস্থান দুর্বল হলে নতুন কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে গেলেও বিপাকে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ পরিস্থিতিতে শিল্প খাত, পরিবহন খাত ও বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহে অগ্রাধিকার দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। দীর্ঘমেয়াদি করণীয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভর করে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বৈদেশিক জ্বালানি-নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনতে হবে। বয়লার, কৃষি উৎপাদন ও পরিবহন খাতে গ্যাস ও ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে ইলেকট্রিক বা বিদ্যুৎভিত্তিক প্রযুক্তিতে স্থানান্তর করতে হবে। ভবিষ্যতে গ্যাস ও ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে নির্ভরতা কমিয়ে স্থায়ী ও বিকল্প অর্থনৈতিক কাঠামোতে জোর দিতে হবে।

পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রতিদিনের চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ অনেক কম। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটি পুরোপুরি ও অন্যটি আংশিক সচল হওয়ায় গ্যাস সরবরাহ সামান্য বাড়তে শুরু করেছে। তবে জাতীয় গ্রিডে এখনো বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। সংকট মোকাবিলায় ভোলা থেকে বিশেষ বাহনে করে গ্যাস পরিবহনের মতো বিকল্প ব্যবস্থার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরো কিছু দিন সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে শ্রমিক নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা কারখানার আয় কমিয়ে দিতে পারে ও শ্রমিকদের মধ্যে হতাশা তৈরি করতে পারে। পরিস্থিতি যদি দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকে, তবে শ্রমিক অসন্তোষ, কাজ বন্ধ রাখা বা বিক্ষোভের ঝুঁকি রয়েছে।

তবে সরকারের দায়িত্ব হাতে নেয়ার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হয়েছে যুদ্ধ। ফলে হুহু করে বাড়তে থাকে জ্বালানি তেলের দাম। জ্বালানি পাওয়া নিয়েও তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। এর মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে বাড়তি দামে জ্বালানি আমদানি করেছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের তথ্য বলছে, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছর সরকার ডিজেল আমদানি করেছে ৩৮ লাখ ৮১ হাজার মেট্রিক টন। এই আমদানির বিপরীতে সরকারের ব্যয় হয়েছে ৪১ হাজার ৯৮১ কোটি টাকা। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকার ২৯ লাখ ১৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানিতে খরচ করেছিল ২১ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে সরকারের ব্যয় দ্বিগুণে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি পেট্রোলিয়াম তেল, বিটুমিন মিনারেল ও ক্রুড তেল আমদানিও উল্লেখযোগ্যহারে বাড়িয়েছিল সরকার।

প্রসঙ্গত, গত ২১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া গ্যাস সংকটের প্রভাব এখন দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছে। কারখানাগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে, কোনো কোনো ইউনিট বন্ধ রাখা হচ্ছে ও শ্রমিকদের ছুটিতে পাঠানো হচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এই সমস্যার দ্রুত সমাধানেরও ইঙ্গিত মেলেনি। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সম্প্রতি অ্যামচেম আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেন, দেশের চলমান জ্বালানি সমস্যা সমাধানে ন্যূনতম দুই বছর লাগবে। কারণ ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণে দেড়-দুই বছর সময় লাগে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ ছাড়া অর্থনীতি এগোবে না। তাই আগামী দুই বছর সাবধান থাকতে হবে। সরকার দ্রুত গ্যাস অনুসন্ধান, সৌরবিদ্যুৎ ও কয়লা নিয়ে কাজ করছে। নতুন জ্বালানি নীতিও আসছে।

আমাদের ভালুকা (ময়মনসিংহ) উপজেলা সংবাদদাতা জানান, ময়মনসিংহের ভালুকায় কারখানাগুলোতে তীব্র গ্যাসের সঙ্কট অব্যাহত রয়েছে। গত চার দিনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ভালুকা শিল্পাঞ্চলের প্রধান কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমেছে গড়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ। ফলে গ্যাসে চালিত ৭৬টি কারখানা প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্যাক্টরি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে ২৯৩টি শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৭৬টি গ্যাসচালিত। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি গ্যাসচালিত কারখানাই গ্যাস সঙ্কটে পড়েছে। বাকি ২১৭টি কারখানায় জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আংশিক উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

শিল্প পুলিশ-৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল জানান, গত বৃহস্পতিবার গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুপুরের খাবারের সময় মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, হ্যারি ফ্যাশন, এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল, এক্সপেরিয়েন্স উইভিং মুলতাজিম টেক্সটাইল, পূর্বাশা কম্পোজিট টেক্সটাইলস লি. ত্রিশাল টেক্সটাইল, বিএসপি স্পিনিং মিলসহ ২০টি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেয়।

এক্সপেরিয়েন্স গ্রুপের জিএম কর্নেল অব. জাহিদ জানান, গ্যাস সংকট এভাবে চলতে থাকলে আমাদের কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যাবে।ভালুকার হামিদ টেক্সটাইল মিলের এডমিন ম্যানেজার মো. নোমান ইনকিলাবকে জানান, কারখানায় একহাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। গত চার দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ একবারে কম। ডিজেলে বয়লার চালু আছে। এতে কারখানায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে, উৎপাদন কমেছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। ফলে যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে ফ্যাক্টরি।তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন জানান, ভালুকায় ১৪০ ও ৫০ পিএসআইয়ের দুটি পৃথক লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে তারা ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই গ্যাস পাচ্ছেন। সরবরাহ কম পাওয়ায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। তবে ভালুকায় আবাসিক গ্যাস সংকট নেই।

গ্যাস সঙ্কটে ধুকছে ভালুকার ৭৬টি ফ্যাক্টরীভালুকা (ময়মনসিংহ) উপজেলা সংবাদদাতা: ময়মনসিংহের ভালুকায় কারখানাগুলোতে তীব্র গ্যাসের সঙ্কট অব্যাহত রয়েছে। গত চার দিনে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় ভালুকা শিল্পাঞ্চলের প্রধান কারখানাগুলোতে উৎপাদন কমেছে গড়ে ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ। ফলে গ্যাসে চালিত ৭৬টি কারখানা প্রায় বন্ধের উপক্রম হয়েছে বলে জানিয়েছে ফ্যাক্টরী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলে ২৯৩টি শিল্পকারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ৭৬টি গ্যাসচালিত। বর্তমানে প্রায় প্রতিটি গ্যাসচালিত কারখানাই গ্যাস সঙ্কটে পড়েছে। বাকী ২১৭টি কারখানায় জেনারেটর ও বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আংশিক উৎপাদন সচল রাখার চেষ্টা করা হলেও যা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

শিল্প পুলিশ-৫ এর সহকারী পুলিশ সুপার গোপীনাথ কাঞ্জিলাল জানান, গত বৃহস্পতিবার গ্যাসের চাপ কম থাকায় দুপুরের খাবারের সময় মাহাদি সোয়েটার্স লিমিটেড, সুলতানা সোয়েটার্স, লিজ ফ্যাশন, টিএম টেক্সটাইল, হ্যারি ফ্যাশন, এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল, এক্সপেরিয়েন্স উইভিং মুলতাজিম টেক্সটাইল, পূর্বাশা কম্পোজিট টেক্সটাইলস লি. ত্রিশাল টেক্সটাইল, বিএসপি স্পিনিং মিলসহ ২০টি প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের ছুটি দিয়ে দেয়।

এক্সপেরিয়েন্স গ্রুপের জিএম কর্নেল অব. জাহিদ জানান, গ্যাস সঙ্কট এভাবে চলতে থাকলে আমাদের কারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যাবে।ভালুকার হামিদ টেক্সটাইল মিলের এডমিন ম্যানেজার মো. নোমান ইনকিলাবকে জানান, কারখানায় একহাজার শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। গত চার দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ একবারে কম। ডিজেলে বয়লার চালু আছে। এতে কারখানায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে, উৎপাদন কমেছে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ। ফলে যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে ফ্যাক্টরী।তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (সিস্টেম অপারেশন) শামীম হোসেন জানান, ভালুকায় ১৪০ ও ৫০ পিএসআইয়ের দুটি পৃথক লাইনে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে তারা ৩০ থেকে ৫০ পিএসআই গ্যাস পাচ্ছেন। সরবরাহ কম পাওয়ায় গ্যাসের চাপ কমে গেছে। তবে ভালুকায় আবাসিক গ্যাস সঙ্কট নেই।