৭০ বছরের সুভাষিণী। পারে অসহায়ের মতো বসে থেকে মধুমতী নদীর দিকে তাকিয়ে আছেন। ‘রাক্ষুসে’ মধুমতী সুভাষিণীর ভিটেমাটি গিলে খেয়েছে। সুভাষিণীর একার নয়, বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ সবকিছু কেড়ে নিয়ে বহু মানুষকে ঠেলে দিয়েছে অনিশ্চিত জীবনে। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় মধুমতী নদীর অবস্থান। উপজেলা সদর থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে শত বছরের পুরোনো সাচিয়া বাজার। এ বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে মধুমতী। গত কয়েক বছরে বাজারের অর্ধশতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মধুমতীর গর্ভে হারিয়ে গেছে।
এসবের মধ্যে রয়েছে মুদি-মনিহারি, মিষ্টির দোকান, মাছের বাজার, খাবার হোটেলসহ ছোটবড় নানান ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। এতে অনেকটাই কমে গেছে বাজারের আয়তন। ব্যবসা হারিয়ে ব্যবসায়ীরা পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিশাহারা তাঁরা। এ বছরও বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকে ভাঙন চলছে। প্রবল বর্ষণ ও জোয়ারের তোড়ে সাচিয়া বাজারসংলগ্ন এলাকা ভেঙে যাচ্ছে। প্রতিদিন নদীতে বিলীন হচ্ছে নতুন নতুন অংশ। বর্তমানে বাজারে যে কটি দোকান আছে, সেগুলো নিয়েও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। স্থানীয়দের দাবি নদীতীরে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের। জরুরি ভিত্তিতে এ ভাঙন বন্ধ করা না গেলে সাচিয়া বাজারটি অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে।
পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডেও (পাউবো) উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আবু জাফর মো. রাশেদ খান বলেন, ‘ভাঙন রোধে পাউবো সব সময় কাজ করে আসছে। প্রকল্প অনুমোদন হলেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’