গাড়ির সেলসম্যান হিসেবে কাজ করা ২৬ বছর বয়সী ক্লেমেন্ট ভান্ডেনকার্কহোভকে নিজের জৈবিক ছেলে হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বেলজিয়ামের প্রিন্স লরেন্ট। এর মধ্য দিয়ে সাবেক এই গাড়ি বিক্রেতা রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে ‘প্রিন্স’ উপাধি পেয়েছেন।
তবে রাজকীয় উপাধি পেলেও ক্লেমেন্ট কোনো রাজকীয় ভাতা পাবেন না। এমনকি বেলজিয়ামের সিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকাতেও তার নাম থাকবে না।
সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়, ক্লেমেন্ট ভান্ডেনকার্কহোভের জন্ম ২০০০ সালে। তার মা আশির দশকের পপতারকা ও বেলজিয়ান গায়িকা ওয়েন্ডি ভ্যান ওয়ান্টেন। নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে প্রিন্স লরেন্টের সঙ্গে ওয়েন্ডির সম্পর্কের গুঞ্জন থাকলেও তা কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাদের একসঙ্গে দেখা গেছে।
রাজপরিবারের সূত্রের বরাতে ডেইলি মেইল জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ক্লেমেন্টের পিতৃত্ব স্বীকার করেন প্রিন্স লরেন্ট। পরে টাউন হলে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্লেমেন্টকে নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। বিষয়টি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসে।
প্রিন্স লরেন্ট এক বিবৃতিতে ক্লেমেন্টকে নিজের জৈবিক সন্তান হিসেবে স্বীকার করার কথা জানান। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি সম্মান দেখিয়ে ব্যক্তিগত এই বিষয়টি নিয়ে আর কোনো মন্তব্য বা ব্যাখ্যা দেবেন না বলেও জানান তিনি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ফ্লেমিশ গণমাধ্যম ভিটিএমের একটি তথ্যচিত্রে প্রথমবার নিজের পরিচয় প্রকাশ্যে আনেন ক্লেমেন্ট। সেখানে বাবার সঙ্গে কীভাবে তার পরিচয় হয়েছিল, সে বিষয়ে কথা বলেন তিনি।
ক্লেমেন্ট জানান, তার মা একসময় তাকে বলেছিলেন, ‘তোমার বাবা একজন রাজপুত্র।’ ভিটিএমের ওই তথ্যচিত্রে ক্লেমেন্ট বলেন, ২০১৩ সালে একটি শপিং সেন্টারে অপ্রত্যাশিতভাবে সেই রাজপুত্র বাবার সঙ্গে তার দেখা হয়। তখন তিনি জানতেন না ওই ব্যক্তি কে। ১৬ বছর বয়স হওয়ার পরই তার মা তাকে বাবার পরিচয় জানান।
এরপর আরও কয়েকবার ফোনে কথা বলার পর তারা সরাসরি দেখা করেন। একপর্যায়ে লরেন্ট ডিএনএ পরীক্ষা করার প্রস্তাব দেন। ক্লেমেন্ট জানান, তারা একসঙ্গে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। পরীক্ষার সময় লরেন্ট তাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘তুমি যাতে স্বস্তি বোধ করো, তাই আমি আগে যাব।’
পরীক্ষায় ৯৯ দশমিক ৫ শতাংশ মিল পাওয়ার পর প্রিন্স লরেন্টই যে তার জৈবিক বাবা, তা নিশ্চিত হয়।
ক্লেমেন্ট জানিয়েছেন, অতীতের এই ঘটনা নিয়ে তিনি তার বাবা-মাকে দায়ী করেন না। স্বাভাবিক জীবনযাপন করাই তার লক্ষ্য। চলতি বছরের ফাদার্স ডেতেও তিনি প্রিন্স লরেন্ট এবং তার মা ওয়েন্ডির স্বামী ফ্রান্স ভানকোপেনোলের সঙ্গে ছবি প্রকাশ করেন। দুজনকেই নিজের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বাবা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সম্প্রতি ক্লেমেন্ট জানিয়েছেন, বাবার পারিবারিক নাম ‘স্যাক্স-কোবুর্গ’ ব্যবহার শুরু করবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন। বেলজিয়ামের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম হেট নিউজব্লাডকে নতুন এই রাজপুত্র বলেন, ‘আমি হয়তো সেটা করতে চাইব, কিন্তু আমি ভান্ডেনকার্কহোভ নামটি নিয়ে গর্বিত।’
তিনি বলেন, ‘আমি যদি এই পারিবারিক নামটি ত্যাগ করি, তাহলে আমার মা আমার জন্য যা কিছু করেছেন, তার সবকিছুর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।’
হেট নিউজব্লাডকে ক্লেমেন্ট জানান, একসময় তিনি ডাইঞ্জের একটি ওপেল গাড়ির গ্যারেজেও কাজ করেছেন। তার লিংকডইন প্রোফাইলেও উল্লেখ রয়েছে, তিনি বেলজিয়ামের একটি পরিচিত পারিবারিক গাড়ি বিক্রি ও মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান ‘গ্যারেজ ধোন্ট’-এ জুনিয়র সেলস পদে চাকরি করেছেন। এর আগে তিনি রেনল্ট গাড়ির ডিলারশিপে শোরুম অ্যাডভাইজার হিসেবে ইন্টার্নশিপও করেছেন।
উল্লেখ্য, প্রিন্স লরেন্ট ২০০৩ সালে প্রিন্সেস ক্লেয়ারকে বিয়ে করেন। তাদের তিন সন্তান প্রিন্সেস লুইস এবং যমজ প্রিন্স নিকোলাস ও প্রিন্স অ্যাইমেরিক।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপুত্রের মর্যাদা পেলেও ক্লেমেন্ট কোনো রাজকীয় ভাতা পাবেন না। বেলজিয়ামের রাজসিংহাসনের উত্তরাধিকার তালিকাতেও তিনি থাকবেন না। তার সৎবোন প্রিন্সেস লুইস এবং সৎভাই প্রিন্স নিকোলাস ও প্রিন্স অ্যাইমেরিকের মতো তিনি সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হবেন না। পাশাপাশি রাজপরিবারের কোনো জনসাধারণের কার্যক্রমেও তিনি অংশ নেবেন না।
রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে নতুন পরিচয়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য ক্লেমেন্ট কয়েক বছর সময় পেয়েছেন বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি ও ডেইলি মেইল