Image description

সংসদের অন্দরমহলের উত্তাপ এবার রাজপথ পেরিয়ে পৌঁছতে চলেছে দেশের শহর, গ্রাম ও পঞ্চায়েতের আঙিনায়। প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম, অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুদান চুরি (চাঁদা চুরি) নিয়ে কংগ্রেসের অভিযোগ এবং অরুণাচল প্রদেশে চিনের কথিত অনুপ্রবেশ - একাধিক ইস্যুকে সামনে রেখে দেশজুড়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিল কংগ্রেস।

বুধবার নয়াদিল্লির ইন্দিরা ভবনে বসেছিল কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক। দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বঢরা, কে সি বেণুগোপাল, জয়রাম রমেশ-সহ দলের শীর্ষ নেতারা। বৈঠকে মোট ৮৮ জন নেতা উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে ৩৩ জন বক্তব্য রাখেন।

বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে বেণুগোপাল জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর ‘ছাত্রদের গুঞ্জন’ কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হবে। প্রায় ৮০০টি শহরে এই ধরনের সভা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর কয়েকটিতে রাহুল গান্ধী নিজেও নেতৃত্ব দেবেন। কংগ্রেসের বক্তব্য, ছাত্রদের ক্ষোভ এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো বিষয়কে আর শুধু সংসদের আলোচনায় আটকে রাখতে চায় না দল।

শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়টিও বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। এর পাশাপাশি অযোধ্যার রামমন্দিরের অনুদান চুরি নিয়ে ওঠা অভিযোগকেও গ্রামস্তরে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বেণুগোপালের দাবি, বিষয়টি মানুষের আবেগের সঙ্গে যুক্ত। প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিগুলিকে গ্রাম ও পঞ্চায়েত স্তরে এই ইস্যু তুলে ধরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দলটি এই অভিযোগের সুপ্রিমকোর্টের নজরদারিতে তদন্ত এবং রামমন্দির ট্রাস্টের হিসাব ও সম্পদের পূর্ণাঙ্গ অডিটের দাবিও জানিয়েছে।

বৈঠকে অরুণাচল প্রদেশে চিনের কথিত অনুপ্রবেশ নিয়েও আলোচনা হয়। কংগ্রেস কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘সমর্পণের নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ তোলে। কৃষি ও জ্বালানি নিরাপত্তা, ই-২০ জ্বালানি এবং মহিলা সংরক্ষণ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। মহিলা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের দাবি, লোকসভার বর্তমান ৫৪৩টি আসন আগামী ২৫ বছর অপরিবর্তিত রাখা হোক এবং এক-তৃতীয়াংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ করে তা অবিলম্বে কার্যকর করা হোক।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে উত্তরাখণ্ডে একটি কর্মসূচিতে যাওয়ার পর সেখানে ‘শুদ্ধিকরণ’ অনুষ্ঠান করা হয়েছিল বলে কংগ্রেস অভিযোগ করেছে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে দেশের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অর্থাৎ, সংসদের অধিবেশন শেষ হলেও রাজনৈতিক লড়াই থামছে না - বরং কংগ্রেস এবার সেই লড়াইকে আরও গভীরে, মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চাইছে।