ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদরাসাছাত্রদের ওপর পুলিশি হামলা, লাঠিচার্জ ও গুলি নিক্ষেপের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইযহার। তিনি বলেন, উচ্চশব্দে গানবাজনার প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে মাদরাসাছাত্রদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ এবং পরে শিক্ষার্থীদের আহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের সমাধান সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে না করে রাষ্ট্রীয় শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব জনগণের জানমাল ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কোনো পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠলে তারও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগকারী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আইনের ঊর্ধ্বে হতে পারে না।
নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব বলেন, এ ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায় নির্ধারণে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান জরুরি। সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ওপর কী ধরনের বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পদক্ষেপ কতটা আইনসঙ্গত ছিল—এসব বিষয় দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জাতির সামনে স্পষ্ট করতে হবে।
তিনি বলেন, মাদরাসাছাত্ররাও এ দেশের নাগরিক; তাদের জীবন, নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের অধিকার অন্য সব শিক্ষার্থীর মতোই সমান। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের প্রতি কোনো ধরনের অবজ্ঞা, বৈষম্য বা পূর্বধারণা রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ও সামাজিক সম্প্রীতির জন্য ক্ষতিকর। তিনি আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মাওলানা মূসা বিন ইযহার বলেন, জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক শক্তি প্রয়োগের নয়, আস্থা ও ন্যায়বিচারের। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অভিযোগের জবাব যদি লাঠি ও গুলিতে দেওয়া হয়, তাহলে তা রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তিনি ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনকে আরো সংযত, দায়িত্বশীল ও মানবিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব।