Image description

‘গোলাপি বাস! কিসের গোলাপি বাস? এটা কখন আসে, কোথা থেকে কোথায় যায়?’ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঘটা করে চালু হওয়া গোলাপি রঙের ‘মহিলা বাস’ সার্ভিস সম্পর্কে জানতে চাইলে এভাবে পাল্টা এমন প্রশ্ন করেন কর্মজীবী এক নারী।

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর নতুন বাজার যাত্রী ছাউনির সামনে তার সঙ্গে কথা হয় জাগো নিউজের। ওই নারীর নাম শারমিন আক্তার। তিনি কাকরাইলে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। থাকেন ভাটারা এলাকায়।

শারমিন আক্তার বলেন, ‘ফেসবুকে একবার দেখলাম যে, মহিলাদের জন্য আলাদা বাস চালু হয়েছে। রাস্তায় তো দেখছি না। এত জ্যাম...সেই গোলাপি বাস কীভাবে খুঁজে পাবো। ওই বাসটা ঠিক কখন আসবে, কোথায় থামবে এসব বিষয়ে জানা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘বাসার কাজ গুছিয়ে বের হয়েছি। অফিসে যেতে হবে সাড়ে ৯টার মধ্যে। রাস্তায় যে জ্যাম, গোলাপি বাসের আশায় বসে থাকলে দিন শেষ হয়ে যাবে। সামনে যেটা পাবো, সেটাতেই চড়তে হবে।’

 

jagonews24গোলাপি বাসের জন্য অপেক্ষা না করে অন্য বাসেই তড়িঘড়ি উঠে গন্তব্যে রওনা করছেন নারীরা/ছবি: জাগো নিউজ

শুধু শারমিন আক্তার নন, তার মতো অধিকাংশ নারী গোলাপি বাস সার্ভিস সম্পর্কে জানেন না। কেউ কেউ গণমাধ্যম ও ফেসবুকে পাওয়া তথ্যে একটু-আধটু জানলেও গোলাপি বাসের জন্য অপেক্ষায় থাকতে রাজি নয়। পাশাপাশি স্টপেজে কোনো কাউন্টার বা প্রচারণা না থাকায় বুঝে উঠতেও পারছেন না নারী যাত্রীরা।

জানা যায়, রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত নিশ্চিত করতে ‘মহিলা বাস’ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। এ বাসের চালক ও কন্ডাক্টর দুজনেই নারী।

 

প্রাথমিকভাবে ১০টি গোলাপি বাস রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচল করবে। তার মধ্যে একটি নতুন বাজার (কোকাকোলা মোড়) থেকে মতিঝিল। এ রুটে একটি বাস দেওয়া হয়েছে। বাসটি কোকাকোলা মোড়, নতুন বাজার, উত্তর বাড্ডা, মধ্যবাড্ডা, মেরুল বাড্ডা, রামপুরা, আবুল হোটেল, মালিবাগ, কাকরাইল, পল্টন ও গুলিস্তান হয়ে মতিঝিলে যাওয়ার কথা।

স্টপেজ ‘অজানা’, নেই প্রচারণাও

নতুন বাজার থেকে মতিঝিলে যাওয়া বাসটি ১০টি স্টপেজে থামার কথা। এসব স্টপেজের ছয়টিতে সরেজমিন দেখা যায়, সেখানে কোনো প্রচার-প্রচারণা নেই। ফলে বিভ্রান্ত হচ্ছেন নারী যাত্রীরা।

কোকাকোলা মোড়ে কোথাও স্টপেজ নেই। সেখানে নিয়মিত চলাচল করা বাসও থামতে দিচ্ছে না পুলিশ। ওই মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারী যাত্রী বলেন, ‘এখানে স্টপেজ কই? দাঁড়াতেই তো দিচ্ছে না।’

নতুন বাজার যাত্রী ছাউনির সামনে গোলাপি বাস থামার কথা। কিন্তু সেখানে নারীদের কোনো আগ্রহ দেখা যায়নি। বরং অন্য বাসে তড়িঘড়ি উঠে গন্তব্যে রওনা করছেন তারা।

jagonews24গোলাপি বাসের সংখ্যা কম হওয়ায় বাস পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে বলেও অভিযোগ অনেকের/ছবি: জাগো নিউজ

উত্তর বাড্ডা, মধ্য বাড্ডা, মেরুল বাড্ডা, রামপুরা এলাকায় স্টপেজ থাকবে বলে ঘোষণা দেওয়া হলেও ঠিক বাসটি কোথায় থামবে, তা কেউ বলতে পারছেন না। মধ্যবাড্ডা লিংক রোডে অন্যান্য বাসগুলো যেখানে স্টপেজ দেয়, সেখানে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে বাস দেখা যায়নি। সেখানে নারী যাত্রীদের কেউ গোলাপি বাসের জন্য অপেক্ষাও করছেন না। তাদের সঙ্গে গোলাপি বাসের বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করলেও আগ্রহ দেখাননি।

 

নতুন বাজার ‍পুলিশ বক্স ও যাত্রী ছাউনির সামনে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মৌমিতা রায় জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাস একটা সকালে দেখছি। কিন্তু যে জ্যাম, তাতে রুটের শেষ মাথায় গিয়ে ঘুরে আসতে তো কয়েক ঘণ্টা লেগে যাবে। এ রুটে তো বাসও একটা। বাস বাড়ানো হলে এবং ভালো করে প্রচার-প্রচারণা চালালে হয়তো আগ্রহ বাড়তে পারে।’