জনবলসংকটে খুঁড়িয়ে চলছে সিলেটের তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা। মঞ্জুরীকৃত পদের প্রায় অর্ধেকই শূন্য। জনবলসংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি বিঘ্নিত হচ্ছে কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সেবাকার্যক্রম। বিভাগের ৫৪ কমিউনিটি ক্লিনিকে শূন্য রয়েছে ‘কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি)’ পদ। ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার ‘প্রথম সিঁড়ি’ই সবচেয়ে বড় হুমকিতে রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রধান ব্যক্তি সিএইচসিপির পদ শূন্য থাকায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম সংশ্লিষ্ট কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় অফিস সূত্র জানান, তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসাস্থল কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোয় প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতির স্বাস্থ্যসেবা, শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা, টিকা দানসহ মা ও শিশুদের বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়া হয়ে থাকে। এ কেন্দ্রগুলোয় সপ্তাহে পাঁচ দিন একজন সিএইচসিপি চিকিৎসাসেবা প্রদান করে থাকেন। এ ছাড়া সপ্তাহে দুই-তিন দিন স্বাস্থ্যসহকারী ও পরিবার পরিকল্পনা সহকারীও বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে থাকেন। সিলেট বিভাগে ৯৫৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪টিতে সিএইচসিপি নেই। দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রের প্রধান পদটি শূন্য থাকায় স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। সিএইচসিপির অভাবে অনেক কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবাকার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পথে।
সূত্র আরও জানান, বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সিএইচসিপির পদ শূন্য রয়েছে সুনামগঞ্জে। এ জেলার ২২টি কমিউনিটি ক্লিনিকে পদটি শূন্য। এ ছাড়া সিলেটে ১৮, হবিগঞ্জে ১১ ও মৌলভীবাজারে ৩টি পদ শূন্য রয়েছে। এসব ক্লিনিকে রোগীদের সরকারিভাবে ২৮ রকম ওষুধ ফ্রিতে দেওয়া হতো। অনেক ক্লিনিকে পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহও নেই বলে জানা গেছে।
কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর মতো অবস্থা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রগুলোর। একসময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোয় একজন করে এমবিবিএস ডাক্তার থাকলেও এখন চলছে স্বাস্থ্যসহকারী ও ফার্মাসিস্ট দিয়ে। অনেক কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসহকারী ও ফার্মাসিস্টের পদও শূন্য।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস সূত্র আরও জানান, সিলেট বিভাগের সব হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্যা ৮ হাজার ৪১১। এর মধ্যে শূন্য ৩ হাজার ৫৫৬টি। বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনবলসংকট রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলায়। মঞ্জুরীকৃত ২ হাজার ৩৭৩ পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১ হাজার ২২৯ জন। জেলাটিতে শূন্যপদের সংখ্যা ১ হাজার ১৪৪। এর পরই রয়েছে সিলেট জেলায়। সিলেটে ২ হাজার ৫৫১ পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ১ হাজার ৪৬০ জন। ১ হাজার ৯১ পদ শূন্য রয়েছে জেলাটিতে। এ ছাড়া হবিগঞ্জে ১ হাজার ৭০৮ পদের মধ্যে ৭৬১ এবং মৌলভীবাজারে ১ হাজার ৭৭৯ পদের মধ্যে ৫৬০টি শূন্য।
এ প্রসঙ্গে সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. মো. নূরে আলম শামীম জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের সব জায়গায়ই জনবলসংকট রয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সরকারের ‘কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট’-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। চাকরি ও প্রকল্পের স্থায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তায় থেকে অনেক সিএইচসিপি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তাই কিছু সিএইচসিপির কিছু পদ শূন্য হয়ে গেছে। শিগগির পদগুলো পূরণের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবল নিয়োগ দিয়ে সরকার স্বাস্থ্যসেবার মান আরও বৃদ্ধির চেষ্টা করছে।