কখনো ফলের বাক্স। কখনো বিমানের টয়লেট। কখনো আবার যাত্রীর অন্তর্বাস, ফ্লাইটের কার্গো হোল বা সিটের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে আনা হচ্ছে অবৈধ স্বর্ণ। ঢাকার হযরত শাহ্জালাল, চট্টগ্রামের শাহ্ আমানত আন্তর্জাতিকসহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দর দিয়ে এভাবেই প্রতিনিয়ত দেশে ঢুকছে একাধিক অবৈধ স্বর্ণের চালান। বেনাপোল, দর্শনা, সাতক্ষীরা, সিলেটসহ বিভিন্ন সীমান্ত অতিক্রম করে এগুলো আবার চলে যাচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রচেষ্টায় পাচারকারীসহ আটকও হচ্ছে অবৈধ স্বর্ণের বড় বড় চালান। তবুও যেন থেমে নেই এই অবৈধ ব্যবসা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত বাংলাদেশ হচ্ছে আন্তর্জাতিক অবৈধ স্বর্ণ চোরাচালানের একটি অন্যতম রুট। বড় স্ক্যানার না থাকার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ও বিমানবন্দরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশেই চলছে এই পুরো কার্যক্রম। আর পেছন থেকে এর নিয়ন্ত্রণ করছে দেশি-বিদেশি একাধিক সিন্ডিকেট।
গত সোমবার (১০ই আগস্ট) হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের গোলচত্বর এলাকা থেকে একটি গাড়ির মধ্য থেকে ১৪টি স্বর্ণের বার ও ১২টি স্বর্ণের পাত উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। উদ্ধার করা স্বর্ণের ওজন ১ হাজার ৮১২ গ্রাম বা ১৫৫ দশমিক ৩৫ ভরি। যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭২ লাখ ৭২ হাজার ৮৯২ টাকা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বাইরের গোলচত্বর এলাকায় একটি গাড়ি তল্লাশির জন্য থামানো হয়। এ সময় গাড়ির চালক মো. শামীম মিয়া গাড়িটি ফেলে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সহযোগিতায় সিআইআইডি’র এয়ারফ্রেইট সার্কেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণগুলো উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও তিনটি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকের ৮টি ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, দু’টি ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং একটি জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত ৫ই আগস্ট রাত আড়াইটার দিকে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণের বারসহ মো. ফারুক নামে এক পাচারকারীকে আটক করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি’র যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯- বিজিবি) একটি আভিযানিক দল। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের ওই বাসিন্দা তার নিজের শরীরেই বিশেষভাবে লুকিয়ে রেখেছিল ৫২৯ দশমিক ৬৪ গ্রাম ওজনের ৫টি স্বর্ণের বার। বিজিবি’র কাছে সে স্বীকার করেন, ঢাকা স্বর্ণের বারগুলো নিয়ে যশোর হয়ে বেনাপোল সীমান্ত পার হয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। ওই একই দিন বেনাপোল ইমিগ্রেশন কাস্টমস থেকে দু’টি স্বর্ণেরবারসহ মোবারক হোসেন নামে এক বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীকে আটক করে কাস্টমস গোয়েন্দা সদস্যরা।
আটক ওই ব্যক্তি মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার তাজউদ্দীনের ছেলে। বেনাপোল কাস্টমস গোয়েন্দা শাখার সহকারী কমিশনার সাজিদ মাহমুদ কৌশিক বলেন, ৫ই আগস্ট বিকালে ভারতে যাওয়ার সময় ওই যাত্রীর চলাফেরা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তল্লাশি করে তার কাছ থেকে ১০০ গ্রাম ওজনের দু’টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। যার বাজারমূল্য আনুমানিক ২২ লাখ টাকা। ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যেই সে স্বর্ণ নিয়ে যাচ্ছিল। গত ১লা আগস্টও চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত দিয়ে পাচারের সময়ে ৬ কেজি ৯৬৮ গ্রাম ওজনের ৩৯ পিস স্বর্ণের বার জব্দ করে বিজিবি। যার আনুমানিক ১৩ কোটি ৩২ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। বিজিবি’র চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬- বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান বলেন, স্বর্ণের একটি বড় চালান ভারতে পাচার হতে পারে এমন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা অভিযান চালায়। সীমান্ত পিলার-৭৮ এর দিকে মোটরসাইকেলযোগে সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আমাদের বিজিবি সদস্যরা চ্যালেঞ্জ করে তাকে আটক করে। পরে তার দেহ তল্লাশি করে বিভিন্ন আকারের ৩৯ পিস স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়।
এর কিছুদিন আগেই গত ১৯শে জুলাই ঢাকার হযরত শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গোভিলেজ থেকে আমদানি করা ফলের বাক্স থেকে ১৬ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। মূলত ফুড লিংক নামে একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে ফলের চালানের বৈধ ঘোষণার আড়ালে হংকং থেকে ঢাকায় আনা হয় স্বর্ণগুলো। তদন্তকারী সংস্থাগুলো বলছে, কার্গোভিলেজে বড় আকারের স্ক্যানার না থাকার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ফলের চালানের ভেতরে বিশেষভাবে তৈরি গোপন চেম্বারে স্বর্ণবার লুকিয়ে দেশে আনছিল। কাগজপত্রে তাজা ফলের ঘোষণা থাকায় চালানগুলো সহজেই বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে খালাস হয়ে যেত। গত এক বছরে শুধু এই একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নামেই হংকং থেকে অন্তত ১০টি ফলের চালান বাংলাদেশে এসেছে। আমাদের ধারণা, এসব ফলের চালানের নামে অন্তত ২৫০ কেজি স্বর্ণ দেশে আনা হয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। গত ২রা জুলাইও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি ফ্লাইটের কার্গো হল থেকে ১৮ কেজি ৭২০ গ্রাম অবৈধ স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। যার বাজারমূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা।
ঠিক একই ভাবে গত ২৮ মার্চ দিবাগত রাতে দুবাই থেকে শাহ্জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট বিজি-৩৪৮ এর কার্গো কম্পার্টমেন্টের টয়লেটের প্যানেলের ভেতর থেকেও সাদা কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম ওজনের ১৫৩টি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়। ২৪ ক্যারেটের ওই স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৪৬ কোটি টাকা। ওই ঘটনায় সংস্থাটির সাত কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। তাদের কয়েকজনের মোবাইল ফোনে স্বর্ণ চোরাকারবারিদের ব্যবহৃত সাংকেতিক চিহ্ন বা কোডও পাওয়া গেছে।
এদিকে, গত ১৩ই জুলাই দুবাই থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা আরেকটি ফ্লাইটের এক যাত্রীর কাছ থেকে ২ কেজি ১৬০ গ্রাম স্বর্ণ জব্দ করেন চট্টগ্রাম কাস্টমস ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল বলেন, ওই দিন সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছান মীরসরাই উপজেলার বাসিন্দা মোহাম্মদ শহিদুল আলম চৌধুরী। কাস্টমস হলের গ্রিন চ্যানেল দিয়ে লাগেজসহ বের হওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও গলানো স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
গত ৪ঠা আগস্টও দুবাই থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৮-এ ফ্লাইটে আসা মোহাম্মদ তুসার নামে এক যাত্রীর কাছ থেকে একই কায়দায় ১ হাজার ৫০০ গ্রাম বা দেড় কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা।
নিজেদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে শাহজালাল বিমানবন্দরে জব্দ হওয়া অবৈধ স্বর্ণের ঘটনায় তদন্ত করা বেশ কয়েকজন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেন, প্রথম দু’টি ঘটনার মধ্যে অনেকটা মিল রয়েছে। স্বর্ণের পরিমাণ প্রায় একই। ব্যবহারও করা হয়েছে একই এয়ারলাইন্স। স্বর্ণ পাচারের জন্য বিমানের যে স্থানগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, তাতে এয়ারলাইন্সের লোকজনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি স্পষ্ট। তারা বলেন, কার্গো ভিলেজের ফলের বাক্স থেকে স্বর্ণ উদ্ধার হওয়া ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে আমরা বড় চোরাচালানের নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছি। আমাদের ধারণা, এই ঘটনাতেও বিমানবন্দরে কর্মরত বেশ কিছু কর্মকর্তা এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে। কারণ তাদের কাগজপত্রে কোনো ঝামেলা ছিল না। প্রত্যেকটা চালান বৈধ ফল আনার ঘোষণা দিয়ে হংকং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ক্যাথে প্যাসিফিক এয়ারওয়েজসহ বিভিন্ন কার্গো ফ্লাইটে করে ঢাকায় স্বর্ণ নিয়ে এসেছে।
চালানের নথি অনুযায়ী, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ছিল ফুড লিংক। এয়ারওয়ে বিল নম্বর ১৬০-১২৭৪০০৯২। চালান খালাসের জন্য অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে ট্যাগ করা ছিল এ. রাজ্জাক ট্রেডিং নামে একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান। মাস্টার কার্গো এজেন্ট ছিল ফাস্টট্র্যাক কার্গো সলিউশনস লিমিটেড। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্বে ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড। নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে একই প্রতিষ্ঠানের নামে ৭৭৫ কেজি ও ৭৪২ কেজি ওজনের দু’টি ফলের চালান দেশে আসে। ফেব্রুয়ারিতে আসে ৬৯৬ কেজির আরেকটি চালান।
মার্চে ৬৮৩ ও ৬৮৮ কেজি ওজনের আরও দু’টি চালান আসে। এরপর ২০২৬ সালের জুলাই মাসে আসে ৫৫৮ ও ৬৩৬ কেজি ওজনের দু’টি পৃথক চালান। এ ছাড়া, বছরের বিভিন্ন সময়ে এই একই প্রতিষ্ঠানের নামে আরও কয়েকটি ফলের চালান দেশে এসেছে। আর এসব আনা হয়েছে- ফুড লিংক, প্লট-৫৬০, মণ্ডা, উত্তরখান, ঢাকা-১২৩০ নামের এই ঠিকানায়। স্বত্বাধিকারী মো. গোলাম মোস্তফা। তবে ওই ঠিকানায় গিয়ে এর কোনো অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমনকি সেখানে প্রতিষ্ঠানটির কোনো অফিস, গুদাম কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সন্ধান মেলেনি।
ভুয়া ঠিকানার একটি প্রতিষ্ঠানের নামে দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক চালান দেশে এসেছে এবং সেগুলো নিয়মিত খালাসও হয়েছে। আর এসবই হয়েছে এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা প্রতিনিধির উপস্থিতিতে। কারণ খাতা-কলমে তিনিই চালানটির প্রাথমিক কায়িক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। আমরা সব বিষয়েই সংশ্লিষ্ট থানাকে জানিয়েছি। তারা খতিয়ে দেখছে।
এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, আমদানিকারী ওই প্রতিষ্ঠানের নামে হংকং থেকে যত চালান ঢাকায় এসেছে, তার সব কাগজ আমরা জব্দ করেছি। তাদের অফিসের কোনো অস্তিত্বই নেই। তদন্ত চলছে। আশা করি, দ্রুতই একটি ফল পাওয়া যাবে।
এসব স্বর্ণ চোরাচালানের বিষয়ে যশোর বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি)’র যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা বেড়েছে। এসব পাচার রোধে বিজিবি’র গোয়েন্দা ও অভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সম্প্রতি চোরাচালান রোধে ‘স্বর্ণ নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত)-২০২৬’র খসড়া চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, সরকার এখন স্বর্ণ ব্যবসাকে অন্যান্য শিল্পের মতো একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় এনে স্বীকৃত শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে চায়। স্বর্ণের আমদানি, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বিক্রির প্রতিটি ধাপ একটি সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো সহজেই স্বর্ণের উৎস, মজুত ও লেনদেনের তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারবে। সরকারের আশা, এর মাধ্যমে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং অবৈধ বাণিজ্য ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।