Image description

টাঙ্গাইলে তীব্র গ্যাস সংকটে বিপাকে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার চালকেরা। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশেকপুর বাইপাস এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের আশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত গ্যাস পাচ্ছেন না চালকেরা। এতে যান চলাচল ও তাদের দৈনিক আয়ে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিনের একটি বড় অংশ ফিলিং স্টেশনে পার হয়ে যাওয়ায় তাদের গাড়ি চালানোর সময় কমে আসছে, যার ফলে আয়ও কমে যাচ্ছে। সাধারণ সময়ে ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ ২২০ পিএসআই থাকার কথা থাকলেও তা নেমে এসেছে ১০০-তে।

সোলাইমান নামের এক চালক জানান, স্বাভাবিক সময়ে যেখানে গ্যাসের চাপ ২২০-এর কাছাকাছি থাকে, সেখানে এখন মিলছে মাত্র ১০০। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় গ্যাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

একই আক্ষেপ প্রকাশ করে সিএনজি চালক রাব্বি হোসেন বলেন, চার ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও গ্যাস নিতে পারিনি। দিন পার হয়ে যাচ্ছে। পুরো দিন যদি লাইনেই পার হয়ে যায়, তবে গাড়ি চালাব কখন? আর এই সামান্য গ্যাস দিয়ে গাড়ি চালিয়ে মালিকের দৈনিক জমার টাকাই তোলা কঠিন হয়ে পড়ছে। সরকার দ্রুত এই সংকট নিরসনে পদক্ষেপ নিলে আমাদের উপকার হতো।

এদিকে রহিজা খানম ফিলিং স্টেশনের প্রতিনিধি তোফায়েল আহমেদ জানান, চাহিদা অনুযায়ী তারা গ্যাস সরবরাহ পাচ্ছেন না। যেখানে লাইনের চাপ ১ পয়েন্ট বা ০.৯৮ থাকার কথা, সেখানে বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ০.৬২-এর মতো। এছাড়া আশপাশের কয়েকটি জেলায় গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় টাঙ্গাইলের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ মেশিন চালু থাকবে, আমরা গ্যাস সরবরাহ করে যাব। কিন্তু চাপ একেবারে কমে গেলে বাধ্য হয়ে মেশিন বন্ধ রাখতে হতে পারে। তখন সরবরাহও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যেই কয়েকটি পাম্পে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।

এদিকে গ্যাস সংকটের প্রভাব কেবল যানবাহনেই সীমাবদ্ধ নেই, ছড়িয়ে পড়েছে শহরের বাসাবাড়িতেও। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অনেক পরিবার সময়মতো রান্নাবান্না করতে পারছে না। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন গৃহিণীরা।