Image description

বন্দরের পরিচালকসহ প্রায় শতাধিক পদে জনবল না থাকায় বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অনিয়মের সুযোগ পাচ্ছে অসাধুচক্র। বর্তমানে বড় ধরনের জনবলসংকটে ভুগছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্দরটির বিভিন্ন শূন্যপদ পড়ে থাকলেও সেসব পদে জনবল নিয়োগের কার্যকর উদ্যোগই নেয়নি বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোল স্থলবন্দরে ৭৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদে পর্যাপ্ত কর্মকর্তা না থাকায় দায়িত্ব পালনরত কর্মীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।

খালি থাকা পদগুলোর মধ্যে বন্দরের পরিচালকের পদটিও রয়েছে। এর ফলে বন্দরের প্রশাসনিক কার্যক্রমেও এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দরের শীর্ষ পদে দ্রুত নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ না হলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বেনাপোল বন্দরে উপপরিচালকের (ডিডি) মোট চারটি পদ রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এসব পদের বিপরীতে মাত্র একজন উপপরিচালক দায়িত্ব পালন করছেন।

এ কারণে একজন কর্মকর্তাকে দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজের চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে বন্দরের বিভিন্ন বিভাগ ও স্থানে সমন্বয় করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। দেশের সবচেয়ে বড় বন্দরের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় যেখানে একাধিক কর্মকর্তার প্রয়োজন, সেখানে মাত্র একজন উপপরিচালক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। এদিকে বেনাপোল স্থলবন্দরের বিভিন্ন পদে জনবল ঘাটতির আরেকটি চিত্র পাওয়া যায় কর্মচারীদের হিসাবে। বন্দরের তথ্যানুযায়ী, গুদাম বা ইয়ার্ড পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন কর্মচারীর জন্য মোট ২১৬টি পদ রয়েছে। 

কিন্তু এসব পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৪১ জন। অনুমোদিত পদের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদে লোকবল নেই। বেনাপোল আমদানিকারক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, বন্দরে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় আমদানি করা পণ্য সময়মতো লোড ও আনলোড করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এক দিনের কাজ কখনো দুই দিন পর শেষ করতে হচ্ছে। বেনাপোল বন্দরের সঙ্গে দেশের ব্যবসাবাণিজ্যের বড় একটি অংশ সরাসরি যুক্ত। 

তাই এই বন্দরের কার্যক্রমে দীর্ঘস্থায়ী ধীরগতি তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু বন্দর এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং দেশের বিভিন্ন শিল্প ও বাজারে প্রভাব পড়তে পারে। জনবলসংকটের কথা স্বীকার করে বাংলাদেশ স্থলবন্দরের (বিএলপিএ) চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান (অতিরিক্ত সচিব) মুঠোফোনে জানান, দ্রুত এ সংকট নিরসনের চেষ্টা অব্যাহত আছে।