Image description

সারা দেশে যখন তীব্র লোডশেডিং চলছে, তখন তুলনামূলক ভালো আছেন। এলাকাগুলো হলো–বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নিজ নিজ নির্বাচনী আসন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিজের জেলা বগুড়া।

তবে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর আসনের বাইরে ওই জেলাগুলোর অন্য এলাকাগুলোতে অবস্থা বেশ খারাপ। সিরাজগঞ্জের একটি উপজেলায় বিদ্যুৎ না পেয়ে স্থানীয় মানুষ প্রতিবাদ মিছিলও করেছেন।

অন্যদিকে বগুড়ায় হালকা লোডশেডিং হলেও সেখানকার পরিস্থিতি মানুষের সহ্যের মধ্যেই আছে।

সিরাজগঞ্জ শহরে বিদ্যুৎ দেয় নর্দার্ন ইলেকট্রিক কোম্পানি (নেসকো)। সংস্থাটির ১ ও ২ নম্বর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের দুই প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক এবং অশীথ পোদ্দার জানান, তাদের এলাকায় কোনো লোডশেডিং নেই। বিদ্যুৎ গেলে তা কেবল লাইনের সমস্যার কারণেই যায়।

স্থানীয় সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা রুবেল টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, শহরে লোডশেডিং নেই বললেই চলে। উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ উপজেলা নিয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী টুকুর আসন।

রুবেল জানান, এই দুটি উপজেলায় বিদ্যুৎ খুব কম যায়। অন্যান্য জায়গায় দিনে পাঁচ-ছয়বার বিদ্যুৎ গেলেও এখানে হয়তো একবার বা দুবার যায়। কারণ হিসেবে তিনি কিছুটা হেসে বলেন, মন্ত্রীর এলাকার লোক বলেই এই বাড়তি সুযোগ মিলছে। এর আগে মে ও জুন মাসেও সারা দেশে বিদ্যুৎসংকট থাকলেও মন্ত্রীর এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন আলো ফুটেছে।

মন্ত্রীর এলাকার বাইরেই সিরাজগঞ্জে ক্ষোভ

তবে মন্ত্রীর এলাকার বাইরে সিরাজগঞ্জের অন্য এলাকাগুলোতে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গত শনিবার দুপুরে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া এলাকায় বিদ্যুৎ সমিতির অফিসের সামনে এলাকার মানুষ বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভে অংশ নেন স্থানীয় তাঁতকলের মালিক ও শ্রমিকসহ নানা পেশার মানুষ। পরে বিদ্যুৎ কর্মকর্তারা গিয়ে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলে মানুষজন শান্ত হন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, মূল বাজারে বিদ্যুৎ থাকলেও আশপাশের গ্রামগুলোতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। এতে বিশেষ করে লক্ষ্মীকোলা গ্রামের তাঁতশিল্প বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর কর্মকর্তা মো. নুরুল হুদা জানান, তাদের এলাকায় দৈনিক চাহিদা ১২০ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ৯০ মেগাওয়াট।

অন্যদিকে, সমিতি-২-এর কর্মকর্তা মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ জানান, ১০৩ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে তারা পাচ্ছেন ৯৮ মেগাওয়াট।

যশোরেও একই পরিস্থিতি

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা যশোরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর আসন সদর এলাকায় বিদ্যুৎ দিচ্ছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)। সংস্থাটির ১ নম্বর বিভাগের প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন জানান, তাদের দৈনিক ৬০ মেগাওয়াট চাহিদার পুরোটাই পাওয়া যাচ্ছে। কোনো ঘাটতি না থাকায় সেখানে লোডশেডিং করার প্রয়োজন হচ্ছে না।

একই সংস্থার ২ নম্বর বিভাগের প্রকৌশলী জি এম মাহমুদ প্রধান জানান, সেনানিবাাস, বিমানঘাঁটি, বিজিবি অফিস ও সফটওয়্যার পার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সব জায়গা তাদের অধীনে। এখানে ৩৫ মেগাওয়াটের জায়গায় গড়ে ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলছে। ঘাটতি কম থাকায় কোনো নির্ধারিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে না। জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কমলে তা সাথে সাথে সামাল দেওয়া হয়।

যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর প্রধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান খানও জানান, অন্যান্য জেলার চেয়ে তাদের আবাসিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বেশ ভালো।

তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে শহরের বাইরের শিল্প এলাকায়। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কর্মকর্তা মো. হাদিউজ্জামান জানান, নওয়াপাড়ার মতো শিল্প এলাকায় চাহিদার প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

বগুড়ায় লোডশেডিং কম

বগুড়া শহরের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম ‘টাইমস’কে জানান, কিছুদিন বিদ্যুৎ সমস্যা না থাকলেও এখন আবার বিদ্যুৎ যাওয়া-আসা শুরু করেছে।

বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর প্রধান কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তাদের ৮০ মেগাওয়াট চাহিদার জায়গায় সম্প্রতি প্রায় ১৫ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। এটি স্থায়ী সমস্যা নয়, মাঝে মাঝে এমন ঘাটতি তৈরি হয়।

অন্যদিতে সমিতি-২-এর কর্মকর্তা মো. ফখরুল আলম জানান, ৯৩ মেগাওয়াটের জায়গায় তারা পাচ্ছেন ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। যতটুকু বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সব এলাকায় কিছুটা লোডশেডিং চালিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে।