Image description

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ভিতরে চলছে নীরব প্রতিযোগিতা। প্রকাশ্যে দলীয় কোন্দলের কথা কেউ না বললেও আড়ালে মেয়র প্রার্থিতা ঘিরে চলছে নানান হিসাবনিকাশ। গোপনে যোগাযোগ ও সম্ভাব্য প্রার্থিতা নিয়ে তৎপরতা চলছে। একদিকে সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল আবারও দলীয় প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে আছেন। অন্যদিকে মহানগরী বিএনপি সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন, সহসভাপতি ওয়ালিউল হক রানা ও আবুল কালাম আজাদ সুইটের নাম নিয়েও আলোচনা চলছে। এদিকে রাসিক নির্বাচনে জামায়াত দলের মহানগরী নায়েবে আমির ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে প্রার্থী করেছে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, বুলবুল ২০০৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রাসিক নির্বাচনে অংশ নেন। এরপর ২০১৩ ও ২০১৮ সালে দলের প্রার্থী হন। ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হন।

২০১৮ সালের নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তিনি। বুলবুলের সমর্থকরা বলছেন, রাসিকের ভোটের মাঠ, ওয়ার্ডভিত্তিক সংগঠন, নগর ভোটের চরিত্র-সবকিছুর সঙ্গে বুলবুলের সরাসরি অভিজ্ঞতা আছে। তাঁর আরেকটি শক্তি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে অবস্থান। বর্তমানে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক। রাজশাহী মহানগরী বিএনপির সাবেক সভাপতি তিনি। ২০২৫ সালের নভেম্বরে বিএনপি রাজশাহী মহানগরীর নতুন আংশিক কমিটিতে মামুনুর রশিদ মামুনকে সভাপতি এবং মাহফুজুর রহমান রিটনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়।

একদিকে বুলবুলের আছে সাবেক মেয়র ও কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে পরিচিতি; অন্যদিকে মামুনের আছে বর্তমান মহানগরী বিএনপির সভাপতি পদ। ফলে প্রশ্নটি দাঁড়াচ্ছে-দল অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেবে, নাকি বর্তমান সাংগঠনিক নেতৃত্বকে বেছে নেবে? মহানগরী বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটনের নামও রাসিকের নেতৃত্বের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জুলাইয়ে রাসিকের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বও নিয়েছেন রিটন। নগরীর প্রশাসনিক কার্যক্রম, করপোরেশনের বাস্তব সমস্যা এবং নগরবাসীর প্রত্যাশা সম্পর্কে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি। ফলে নির্বাচনের আগে প্রশাসক হিসেবে তাঁর কার্যক্রম ভবিষ্যৎ মেয়র প্রার্থিতার ক্ষেত্রে সুবিধা পেতে পারে।

ওয়ালিউল হক রানা নিজেই জানান, মেয়র পদে মনোনয়ন পেতে তাঁর আগ্রহ আছে। রানার আরও একটি রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে মিজানুর রহমান মিনুর প্রচারে তাঁকে সক্রিয়ভাবে দেখা গেছে। মিনুর প্রধান নির্বাচন এজেন্ট হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। মিজানুর রহমান মিনু বর্তমানে ভূমিমন্ত্রী।

আবুল কালাম আজাদ সুইটও আলোচনার বাইরে নন। তিনি রাজশাহী মহানগরী বিএনপির সহসভাপতি এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) চেয়ারম্যান। আরডিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ নগর উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব তাঁকে রাজশাহীর উন্নয়ন, নগর পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত বিষয় নিয়ে সরাসরি কাজ করার সুযোগ এনে দিয়েছে। ফলে ভবিষ্যৎ মেয়র পদে তাঁর নাম আলোচিত হচ্ছে।

রাজশাহী বিএনপির সাম্প্রতিক রাজনীতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর একটি হলো মিজানুর রহমান মিনুর অবস্থানের পুনরুত্থান। একসময় দলীয় রাজনীতিতে কোণঠাসা মিনু রাজশাহী বিএনপির রাজনীতিতে আবার গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ফিরে এসেছেন। অন্যদিকে মিনুর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতেও বুলবুল, মামুন, রিটন, রানা, সুইটসহ মহানগরীর একাধিক নেতাকে একই সঙ্গে দেখা গেছে। আগামীতে মেয়র পদে প্রার্থীর জয়পরাজয় অনেকটা নির্ভর করছে বিএনপির এই প্রবীণ নেতার ওপর-এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় নেতারা। এদিকে রাসিক নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। দলের রাজশাহী মহানগরী নায়েবে আমির ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর তাদের প্রার্থী। মঙ্গলবার বিকালে জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর রাজশাহী মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি পরিচিত মুখ। সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে জামায়াতের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে লক্ষাধিক ভোট পান। তবে পরাজিত হন বিএনপির মিজানুর রহমান মিনুর কাছে। এবার তাঁকেই মেয়র প্রার্থী করল দল।