ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম রুহানীকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার। তিনি নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর ছোট ভাই।
বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গোলাম রুহানী ডিএমপিতে সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০২৪ সালের ৭ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আদেশ অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব পদে প্রেষণে যোগ দেওয়ার জন্য ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট ডিএমপি থেকে দায়িত্বভার অর্পণ করেন। এরপর ওই বছরের ১৫ আগস্ট পুলিশ সদর দপ্তরের এক আদেশে তাকে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে খাগড়াছড়িতে এপিবিএনে বদলি করা হয়। তবে ডিএমপি থেকে দায়িত্বভার অর্পণের পর তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা খাগড়াছড়ির ওই কর্মস্থলে যোগ দেননি।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তাকে অনলাইনে আহ্বান এবং লিখিত নোটিশ দেওয়া হলেও গোলাম রুহানী সাড়া দেননি। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার অননুমোদিত অনুপস্থিতির সময় ৬০ দিনের বেশি হওয়ায় ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর পুলিশ সদর দপ্তরে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩ জুলাই সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘পলায়ন’-এর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তবে তিনি নোটিশের জবাব দেননি। পরে অভিযোগ তদন্তের জন্য ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৮ এপ্রিল দেওয়া প্রতিবেদনে গোলাম রুহানীর বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’-এর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনার পর গোলাম রুহানীকে চাকরি থেকে বরখাস্তের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা মোতাবেক পলায়নের দায়ে রুজুকৃত বিভাগীয় মামলা প্রমাণিত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় একই বিধিমালা মোতাবেক গুরুদণ্ড হিসেবে তাকে পলায়নের তারিখ ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট থেকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো।