Image description

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দেশের সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। আজ বুধবার রাতে বিদ্যুৎ বিভাগ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করেছে।

জ্বালানি সংকটের কারণে দেশজুড়ে ভয়াবহ লোডশেডিং বেড়েছে। ক্ষুব্দ হয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরনকারী সংস্থার কার্যালয় ও স্থাপনায় হামলা ও কর্মীদের মারধরের ঘটনাও ঘটছে।

এমন পরিস্থিতির জন্য বিগত সরকারের নীতির সমালোচনা করে আজ সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সাংবাদিকদের বলেছেন, আমাদের হাতে যতগুলো বিকল্প ছিল আমরা সব বিকল্প নিয়ে কাজ করছি। পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন একটি কৌশলে কাজ শুরু করার কথাও জানান। এরপরই সরকারের এমন সিদ্ধান্ত জানানো হলো।

নির্দেশনা অনুযায়ী সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান পাট খোলা থাকবে। তবে খাবারে দোকান, ওষুদের দোকান ইত্যাদি এর বাইরে থাকবে। একইসঙ্গে সব ধরনের আলোকসজ্জা বন্ধের পাশাপাশি বাণিজ্য মেলা ও সাস্কৃতিক অনুষ্টান রাত ৮ টার মধ্যে শেষ করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

লোডশেডিং সামাল দিতে এর আগের সরকারগুলোর আমলেও দোকানপাট বন্ধের সময় বেঁধে দিয়ে এমন একাধিক নির্দেশনা জারি করা হয়। গত পহেলা জুন সন্ধা ৭টার মধ্যে সব শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় সরকার। পরে ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১১ জুন আরেক নির্দেশনায় সময় বাড়িয়ে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দোকানপাট ও বিপণিবিতান খোলা রাখার কথা বলা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। পাল্টা হামলা করে ইরান। তারপর যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তখন জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। তার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২ এপ্রিল রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সীমা এক ঘণ্টা কমানো হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে একটি এলএনজি টার্মিনালে দূর্ঘটনা এবং সাগর উত্তাল থাকায় আরেকটি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি বৈরি আবহাওয়ার কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন কমেছে।