Image description

সিলেট নগরীর রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ট্রিপল মার্ডার মামলার রহস্য কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

 

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে রায়নগরের আফতাব মিয়ার কলোনি থেকে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার সরোয়ার মুর্শেদ শামীম।

 

গ্রেপ্তারকৃত বাবুল মিয়ার মূল বাড়ি কুমিল্লার চাঁদপুরে হলেও সে ছোটবেলা থেকেই সিলেট নগরে বসবাস করে আসছে। পেশায় সে কসাই, পাশাপাশি কখনো কখনো রংমিস্ত্রির কাজও করত।

 

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, নিহত গৃহকর্মী তাহমিনার (১৬) সঙ্গে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি তাদের সম্পর্কে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে বুধবার সকালে পরিকল্পিতভাবে বাসাটিতে ঢোকে বাবুল। একপর্যায়ে তাহমিনার সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হলে সে ধারালো ছুরি দিয়ে তাকে আঘাত করে। তাহমিনার চিৎকার শুনে গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে বাবুল। পরে বাসার অন্য কক্ষ থেকে গৃহকর্তা এম আব্দুস সাত্তার (৮২) এগিয়ে এলে তাকেও একইভাবে আঘাত করে পালিয়ে যায় ঘাতক।

 

বুধবার সকালে রায়নগরের ‘মিতালী ১১১’ নম্বর বাসার (নিকুঞ্জ ভিলা) দোতলা থেকে তিনজনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তিনজনেরই গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল।

 

হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিরা হলেন—সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য এম আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) এবং গৃহকর্মী তাহমিনা (১৬)। আব্দুস সাত্তারের মূল বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজারে এবং গৃহকর্মী তাহমিনার বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বরইকান্দি গ্রামে।

 

পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসার নিজস্ব ও এলাকার সিসি ক্যামেরাগুলোতে কোনো ফুটেজ ধারণ হতে পারেনি। তবে পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে দ্রুত ঘাতককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

 

এসএমপি কমিশনার সরোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, গ্রেপ্তারকৃত বাবুল মিয়াকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো মোটিভ বা আর কেউ জড়িত ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।