Image description

সিলেটের জৈন্তাপুরে যেখানে শেষ হয় বাংলাদেশের পথ, সেখানেই প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে ‘বাংলাদেশ লাস্ট হাউজ’। সিলেট মানেই পাহাড়, ঝরনা, স্বচ্ছ পানির নদী আর সবুজের অপরূপ সমারোহ। আর সেই সৌন্দর্যের ভাণ্ডারে সীমান্তঘেঁষা জৈন্তাপুর যেন এক আলাদা অধ্যায়। সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক ধরে এগোতে এগোতে পাহাড়ি প্রকৃতির হাতছানি পেরিয়ে পৌঁছানো যায় তামাবিল সীমান্ত এলাকায়। এখানেই প্রকৃতি ও সীমান্তের মেলবন্ধনে পর্যটকদের নজর কাড়ে বাংলাদেশ লাস্ট হাউজ।

নামটিই যেন জায়গাটির পরিচয় বহন করে, বাংলাদেশের শেষ বাড়ি। সীমান্তের একেবারে কাছাকাছি অবস্থানের কারণে জায়গাটি পর্যটকদের কাছে বেশ আকর্ষণীয়। ছোট্ট এই ঘরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক বিশেষ পর্যটন অনুভূতি। একদিকে বাংলাদেশের সবুজ ভূখণ্ড, অন্যদিকে সীমান্তের ওপারে ভারতের পাহাড়ি প্রাকৃতিক দৃশ্য। চোখ জুড়ানো পাহাড় আর ঝরনার দৃশ্য লাস্ট হাউজের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর চারপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য। দূরে দেখা যায় পাহাড়ের সারি, আর পাহাড়ের বুক থেকে নেমে আসা ঝরনার দৃশ্য মুগ্ধ করে ভ্রমণপিপাসুদের।

বিভিন্ন ভ্রমণতথ্যসূত্রেও এখান থেকে পাহাড় ও দুটি ঝরনার দৃশ্য দেখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সকালের নরম আলো কিংবা বিকেলের শেষ রোদে জায়গাটির সৌন্দর্য যেন আরও বেড়ে যায়। মেঘলা দিনে পাহাড়ের গায়ে মেঘের ছায়া আর সবুজের বিস্তৃতি তৈরি করে এক অন্যরকম আবহ।

সিলেট শহর থেকে জৈন্তাপুরের দূরত্ব প্রায় ৪১ কিলোমিটার। সিলেট-তামাবিল সড়ক ধরে যাওয়ার পথটিও কম আকর্ষণীয় নয়। রাস্তার দুই পাশে সবুজ প্রকৃতি আর পাহাড়ি পরিবেশ ভ্রমণের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। একদিনের ছোট্ট ভ্রমণে জৈন্তাপুরের লাস্ট হাউজ হতে পারে দারুণ একটি স্থান। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে প্রকৃতির কাছে কিছুটা সময় কাটাতে চাইলে জায়গাটি মনে রাখার মতো।

লাস্ট হাউজ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত। তাই ভ্রমণের সময় সীমান্তের নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। নির্ধারিত এলাকার বাইরে যাওয়া, সীমান্তরেখা অতিক্রমের চেষ্টা কিংবা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর নির্দেশ অমান্য করা উচিত নয়। সীমান্তের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হবে দূরত্ব ও নিয়ম মেনেই। তবেই ভ্রমণ হবে নিরাপদ এবং আনন্দময়।

 

সিলেট শহর থেকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক ধরে জৈন্তাপুর ও তামাবিলের দিকে যেতে হবে। জৈন্তাপুর উপজেলা সিলেট শহরের উত্তর দিকে অবস্থিত এবং তামাবিলমুখী সড়কপথে সহজেই যাওয়া যায়। জৈন্তাপুরে গেলে শুধু লাস্ট হাউজ নয়, আশপাশের পাহাড়ি প্রকৃতি ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থানও ভ্রমণসূচিতে রাখা যেতে পারে। সরকারি পর্যটন তথ্যেও জৈন্তাপুরের লালাখালকে উল্লেখযোগ্য পর্যটন গন্তব্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।

বাংলাদেশের মানচিত্রের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে যখন দূরের পাহাড়ের দিকে তাকাবেন, তখন হয়তো মনে হবে, দেশের শেষ সীমানাতেও প্রকৃতি কতটা উদার! জৈন্তাপুরের বাংলাদেশ লাস্ট হাউজ তাই শুধু একটি ছোট্ট ঘর নয়, এটি সীমান্ত, পাহাড় আর প্রকৃতির এক অনন্য মিলনস্থল। সিলেট ভ্রমণের তালিকায় নতুন কোনও জায়গা যোগ করতে চাইলে, এই ‘শেষ বাড়ি’ হতে পারে আপনার পরবর্তী ভ্রমণের গল্পের সবচেয়ে সুন্দর অধ্যায়।